ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এআই বিষয়ক বিশেষ আয়োজন
প্রযুক্তির এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ আয়োজন। গত ৫ ডিসেম্বর, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে ‘রেসপনসিবল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর বাংলাদেশ পলিসি অ্যান্ড ডিজাইন চ্যালেঞ্জেস’ শিরোনামে আয়োজিত এ সেমিনার।
এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অরবানা–শ্যাম্পেইনের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফা সুলতানা। এ ছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাহ মোস্তফা খালেদ, ইউএনডিপির মিনিমাইজিং ডিজিটাল এক্সক্লুশন বিশেষজ্ঞ জুলকারিন জাহাঙ্গীর এবং অগমেডিক্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান যুগে এআই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সবারই এ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত।’
এরপর আলোচনা করেন অধ্যাপক শরিফা সুলতানা। তিনি বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। তবে তিনি শুধু গুণগানই গাইলেন না, শোনালেন কিছু ভয়ের কথাও। তিনি জানান, ‘সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব। সামান্য একটি রচনা লিখতেও এখন শিক্ষার্থীরা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিচ্ছে। ফলে মানুষের সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, কমছে মস্তিষ্কের ক্রিয়েটিভ গ্রোথও। তবে ভয়ের পাশাপাশি এআই নিয়ে আছে অপার সম্ভাবনাও। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গবেষণা, শেয়ার মার্কেট, পলিসি মেকিং এবং সার্ভে রিপোর্টের ক্ষেত্রে কীভাবে এআইকে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
অন্যদিকে, এআই তৈরির পেছনের গল্প শোনালেন অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এআই এখন আর ব্যক্তিগত পর্যায়ে আটকে নেই, এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কিন্তু এই প্রযুক্তির পেছনে লুকিয়ে আছে বিশাল এক শক্তির অপচয়। তবে এতসব চ্যালেঞ্জের পরেও আমরা পিছিয়ে পড়ব না। টিকে থাকতে হলে আমাদের এআইয়ে দক্ষ হতে হবে এবং নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মেহজাবিন হক এবং রুপালি তাসনিম এআই নিয়ে তাঁদের গবেষণার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এরপর শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এই পর্ব পরিচালনা করেন অধ্যাপক শরিফা সুলতানা।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এবং দ্য ডেটা আইল্যান্ড।