হীরার গ্রহ, পৃথিবীর চেয়ে দ্বিগুণ বড়

৫৫ ক্যানক্রি ই গ্রহের কাল্পনিক ছবিছবি: নাসা/জেপিএল-ক্যালটেক

পৃথিবীতে কত আশ্চর্য বিষয়ই না ছড়িয়ে আছে! এসব তথ্য না জানলেও হয়তো আপনার বিশেষ ক্ষতি নেই। তবে আপনি যদি কিঞ্চিৎ বিজ্ঞানমনস্ক হন, তবে এসব তথ্য জেনে নিশ্চিতভাবেই পুলকিত হবেন। আর নতুন কোনো মজার তথ্য জানার নিখাদ আনন্দের সঙ্গে কি অন্য কিছুর তুলনা চলে? চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিজ্ঞানজগতের মজার ও আশ্চর্য ৯টি তথ্য।

১. মেরুভল্লুক আদতে সাদা নয়। তাদের সাদা লোমের নিচে থাকা ত্বক সম্পূর্ণ কালো!

২. কুইকস্যান্ড বা চোরাবালি থেকে বের হওয়া বেশ সহজ। চোরাবালির ঘনত্ব মানুষের শরীরের চেয়ে বেশি, তাই এতে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। মানুষ সাধারণত আতঙ্কে বেশি ও ভুলভাবে নড়াচড়া করার কারণেই চোরাবালিতে বেশি আটকে যায়। এখান থেকে বের হওয়ার জন্য বসে বা মুখ ওপরের দিকে দিয়ে শুয়ে হাত চোরাবালির বাইরে রেখে ধীরে ধীরে পা দোলাতে বা ঝাঁকাতে হবে।

৩. একঘেয়েমিতে থাকা মানে উচ্চ উত্তেজনাকর একটি অবস্থা! কেন? কারণ, একঘেয়েমি বা বোরিং অবস্থায় মানুষের হার্টরেট বা হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পায়!

৪. আপনি প্রতিদিন পৃথিবী নামে বিশাল যানে চড়ে সূর্যকে ঘিরে প্রায় ২৫ লাখ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করেন। যদিও তার বিন্দুবিসর্গও টের পান না!

৫. মাছ জরুরি অবস্থায় সুশৃঙ্খল লাইনে দাঁড়ায়! যখন কোনো সংকীর্ণ জায়গা দিয়ে বের হতে হয়, তখন মাছেরা এমনভাবে লাইনে দাঁড়ায়, যাতে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ বা জ্যাম না বাধে। বিজ্ঞানীদের মতে, মাছ জরুরি পরিস্থিতিতেও সামাজিক নিয়ম মেনে চলতে পারে; যা অনেক সময় মানুষেরাও পারে না!

আরও পড়ুন
চোরাবালির ঘনত্ব মানুষের শরীরের চেয়ে বেশি, তাই এতে সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। মানুষ সাধারণত আতঙ্কে বেশি ও ভুলভাবে নড়াচড়া করার কারণেই চোরাবালিতে বেশি আটকে যায়।

৬. গ্রীষ্মকালে নখ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আঙুলে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। এ ছাড়া ছুটির দিনে বা স্ট্রেস কম থাকলেও নখ তুলনামূলক দ্রুত বড় হতে পারে।

৭. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল অন্য যেকোনো সমুদ্রপথের তুলনায় বেশি বিপজ্জনক, এ কথা জোর দিয়ে বলার কোনো বৈজ্ঞানিক উপায় নেই। বিশ শতকে এর রহস্যজনক খ্যাতি তৈরি হলেও বাস্তবে এখানে দুর্ঘটনার সংখ্যা বিশ্বের অন্যান্য ব্যস্ত সমুদ্রপথের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নয়।

৮. মহাবিশ্বে এমন একটি গ্রহ আছে, যা প্রায় পুরোপুরি হীরা দিয়ে তৈরি! এর নাম ৫৫ ক্যানক্রি ই। এটি পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুণ বড় এবং আমাদের থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে ক্যানসার নক্ষত্রমণ্ডলীতে অবস্থিত।

৯. আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়াকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। এটি ক্ষতিকর জীবাণু শনাক্ত করে তাকে আক্রমণ করে। আবার ঠিক একই সময়ে উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বা সেগুলোকে ঠিকভাবে কাজ করতে সহযোগিতা করে।

লেখক: সাংবাদিক

সূত্র: সায়েন্স ফোকাস

আরও পড়ুন