বিজ্ঞানী আর ডাক্তার

এক ডাক্তার ঠিক করলেন, তাঁর ছেলেকে বিজ্ঞানী বানাবেন। সেইভাবে ছেলেকে বড় করছেন। একদিন ছেলেকে বললেন:

—বাছা, বিজ্ঞানী তৈরি করা অনেক খরচের ব্যাপার। এই ডাক্তারি করেই সেটা করতে হচ্ছে। আমি একা আর পেরে উঠছি না।

—কী করতে বলো তাহলে? বিজ্ঞানী হব না?

—অবশ্যই হবে।

—তাহলে?

—আমার সঙ্গে থেকে থেকে ডাক্তারি তো কিছু শিখেছ?

—তা টুকটাক শিখেছি।

—আমাকে অল্পবিস্তর সাহায্য করলেই হবে।

—বেশ তো করব।

—আজ বিকেলে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস করিম আসছেন। ওনারা আমার অনেক পুরোনো রোগী। ওনাদের একটু ফলোআপ করো। আমার বাইরে একটু কাজ আছে। দুদিনের মধ্যে ফিরে আসব।

—বেশ।

ডাক্তার সাহেব চলে গেলেন।

দুদিন পর ফিরেও এলেন। ছেলে উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস করিম আমার চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। ওনাদের আর তোমার কাছে আসতে হবে না।’

‘হোয়াট?’ বাবা রেগে গেলেন, ‘এটা কী করলে! তোমার বিজ্ঞানী হওয়ার সব খরচা এত দিন তো ওনারাই জোগাচ্ছিলেন...!’

আরও পড়ুন
ডাক্তার সাহেব চলে গেলেন। দুদিন পর ফিরেও এলেন। ছেলে উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস করিম আমার চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। ওনাদের আর তোমার কাছে আসতে হবে না।’

আরেক লোক, না, তিনি বিজ্ঞানী নন, তবে মানসিক রোগী। কিন্তু তিনি নিজেকে সব সময় বিজ্ঞানী ভাবেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে নিয়ে গেলেন এক সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে। স্ত্রী ডাক্তারকে, থুড়ি সাইকিয়াট্রিস্টকে সমস্যাটা বললেন। সাইকিয়াট্রিস্ট বিজ্ঞানী ভাবা লোকটাকে ইজিচেয়ারে শুইয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন।

—আপনি তাহলে একজন বিজ্ঞানী?

—জি।

—কী আবিষ্কার করেছেন?

—অতিসম্প্রতি একটি নতুন বিষয় নিয়ে ভাবছি...একটি বহনযোগ্য...।

—বহনযোগ্য কী?

—জানি না কী, এখন পর্যন্ত শুধু হাতলটাই বানিয়েছি...।

—এটা কেমন কথা, আপনি একজন বিজ্ঞানী হয়ে...পরিষ্কার বলতে পারছেন না কী তৈরি করতে যাচ্ছেন, আই মিন আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন?

—সত্যি কথা বলতে কী ডাক্তার সাহেব, ইদানীং আমার গবেষণাগারের দরজায় একটা কালো বিড়াল দেখতে পাই...তাতেই আমি নার্ভাস হয়ে, মানে আমার চিন্তাভাবনা সব...

এই পর্যায়ে সাইকিয়াট্রিস্ট তাঁর স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, ‘আচ্ছা উনি নিজেকে বিজ্ঞানী ভাবছেন। আসলে ওনার পেশা কী?’

—আসলে উনি একজন ব্ল্যাক প্যান্থার ট্রেনার।

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন