বিশাল সূর্যকে কেন বামন নক্ষত্র বলা হয়
সূর্য আমাদের সৌরজগতের বস। পৃথিবী থেকে তাকালে মনে হয় বিশাল এক আগুনের গোলা। হবে না-ই বা কেন? আমাদের এই পৃথিবীর চেয়ে সূর্য প্রায় ১০০ গুণ বেশি চওড়া। অথচ বিজ্ঞানীরা এই বিশাল সূর্যটাকে বলেন বামন নক্ষত্র ।
কি অদ্ভুত না? এত বড় জিনিসকে কেন বামন বলা হবে? এর পেছনে একটা মজার ইতিহাস আছে, আছে সুনির্দিষ্ট কারণও। ঘটনার শুরু ডেনমার্কের এক জ্যোতির্বিদের হাত ধরে। তাঁর নাম আইনার হার্টজস্প্রুং। তিনি আকাশের নক্ষত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করার সময় দেখলেন, কিছু লাল রঙের নক্ষত্র খুব উজ্জ্বল, আবার কিছু কম। এখন আমরা জানি, উজ্জ্বল নক্ষত্র মানে এরা দৈত্যাকার নক্ষত্র। আর যেগুলো বামন নক্ষত্র, সেগুলো কম উজ্জ্বল।
আমাদের সূর্য যেহেতু ওই দৈত্যদের মতো বিশাল নয়, আবার একেবারে ছোটও নয়, তাই বিজ্ঞানীরা একে বলেন বামন নক্ষত্র। তবে সূর্যের আরও একটা নাম আছে। বিজ্ঞানের খটমটে ভাষায় সূর্য হলো ‘G2V’ নক্ষত্র। এই শেষের ‘V’ অক্ষরটাই বুঝিয়ে দেয়, সূর্য একটি বামন নক্ষত্র।
ছোটবেলায় আমরা যখন ছবি আঁকতাম, সূর্যকে সবসময় হলুদ রং করতাম। বিজ্ঞানীরাও ‘G’ টাইপের নক্ষত্র বলতে হলুদ নক্ষত্রকেই বোঝান। এসব নক্ষত্রের তাপমাত্রা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। কিন্তু আসাল কথাটা শুনলে অবাক হবেন।
সূর্যকে বিজ্ঞানীরা বলেন বামন নক্ষত্র। তবে সূর্যের আরও একটা নাম আছে। বিজ্ঞানের খটমটে ভাষায় সূর্য হলো ‘G2V’ নক্ষত্র। এই শেষের ‘V’ অক্ষরটাই বুঝিয়ে দেয়, সূর্য একটি বামন নক্ষত্র।
সূর্যের আসল রং কিন্তু হলুদ নয়, সাদা! মহাকাশ থেকে দেখলে একে ধবধবে সাদাই দেখায়। আসলে সূর্যের আলোতে সব রঙের মিশেল আছে। রংধনুর সব রং একসঙ্গে মিশলে হয় সাদা। তবে মজার ব্যাপার হলো, সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি বের হয় সবুজ রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো!
তাহলে আমরা হলুদ দেখি কেন? কারণ, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। সূর্যের সাদা আলো যখন বায়ুমণ্ডলে ঢোকে, তখন বাতাস অণুগুলোকে এমনভাবে ছড়িয়ে দেয় যে আমরা নিচ থেকে একে হলুদ দেখি। ঠিক একই কারণে আকাশও দেখি নীল।
সূর্য এখন তার যৌবনকালে আছে। এর ভেতর প্রতিনিয়ত হাইড্রোজেন পুড়ে হিলিয়াম তৈরি হচ্ছে এবং বিপুল শক্তি ছড়াচ্ছে। তবে সূর্য কিন্তু চিরকাল এমন বামন থাকবে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য একটু একটু করে বড় হচ্ছে। আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর এর জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সূর্য ফুলেফেঁপে ঢোল হয়ে যাবে! তখন ওটা আর বামন থাকবে না, হয়ে যাবে লাল দানব।
তখন সূর্য এতটাই বড় হবে যে বুধ, শুক্র, এমনকি পৃথিবীও হয়তো এর পেটের ভেতর চলে যাবে! তবে আশার কথা হলো, সেই ভয়ংকর দৃশ্য দেখার জন্য তত দিন আমরা কেউ আর বেঁচে থাকব না। তার আগ পর্যন্ত সূর্য আমাদের কাছে ‘বামন’ নক্ষত্র হিসেবেই আলো দিয়ে যাবে।