নাসার নেতৃত্বে পৃথিবীর ২১টি দেশের অর্থায়ন ও সহোযিতায় পরিচালিত হবে এই অভিযান। আর্টেমিসের মূল লক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রাণিত করা।

আর্টিমিস মিশনে নতুন প্রযুক্তির সহায়তায় আরো ভালোভাবে চাঁদ নিয়ে গবেষণা করবেন বিজ্ঞানীরা। জানা যাবে পৃথিবী, চাঁদ এবং আমাদের সৌরজগতের উৎপত্তি এবং ইতিহাস সম্পর্কে নানা তথ্য।

মঙ্গলগ্রহে নভোচারী পাঠানোর ব্যাপারে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আর্টেমিস। এজন্য চাঁদে সাময়িক মানব ও রোবট বসতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। মঙ্গলে যাওয়ার নানা প্রতিবন্ধকতার সমাধান পাওয়া যাবে তাতে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে আরো শক্তিশালী করা আর্টেমিসের অন্যতম লক্ষ্য।

default-image

আর্টেমিস মিশন পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে নাসার শক্তিশালী নতুন রকেট, স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস। এর ডগায় বসানো থাকবে স্পেসক্র্যাফট ওরিয়ন। আপাতত আর্টিমিস মিশনের তিন ধাপের পরিকল্পনা চূড়ান্তভাবে জানিয়েছে নাসা।

মিশনের প্রথমধাপ আর্টিমিস ১-এর মহাকাশযান উৎক্ষেপিত হবে আগামী ২৯ আগস্ট। এতে কোন নভোচারী থাকবেন না। এটি হবে মূলত টেস্ট ফ্লাইট। চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফটের ক্রু মডিউল। পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে যাবে ওরিয়নের মূল অংশ বা সার্ভিস মডিউল, যা পরবর্তীতে অভিযানগুলোতে ব্যবহার করা হবে।

এরপর ২০২৪ সালে নভোচারি নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে ছুটবে আর্টেমিস ২-এর মহাকাশযান। এতে নভোচারী থাকবেন। তবে, তাঁরাও চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে পৃথিবীতে আসবেন।

আর্টিমিস মিশনের তৃতীয় কিস্তিতে নভোচারীরা অবতরণ করবেন চাঁদে। প্রথমবারের মতো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখবে মানুষ। ২০২৫ সালে আর্টেমিস ৩ প্রোগ্রাম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাসা। নাসার তথ্য মতে, এই দশক জুড়েই চলবে আর্টেমিস মিশনের নানা কার্যক্রম ও অভিযান।

বিজ্ঞানীদের জন্য তো বটেই, সাধারণ মানুষের জন্যও গর্বের আর অনুপ্রেরণার প্রতীক হবে আর্টেমিস। উন্মোচিত হবে মানুষের মহাকাশ জয়ের নতুন দিগন্ত। এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদে সর্বপ্রথম কোন নারী এবং ভিন্ন বর্ণের মানুষের পদচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে নাসা।

লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

সূত্র: নাসা

মহাকাশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন