এমভিএনও সিম কী, কীভাবে কাজ করে

আমরা সচরাচর এমএনও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করিছবি: রয়টার্স

আজকাল ইন্টারনেটের জন্য আলাদা ব্রডব্যান্ড লাইন ও ফোনের জন্য আলাদা সিম ব্যবহার করাটা যেন অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেমন হতো, যদি মাত্র একটি সংযোগের মাধ্যমেই মোবাইল কল, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড ও বিনোদন একসঙ্গে পাওয়া যেত? গ্রাহকদের সেই সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিটিসিএল প্রথমবারের মতো চালু করেছে এমভিএনও সিম। কিন্তু এই এমভিএনও সিম আসলে কী? আর এতে গ্রাহক কী কী বাড়তি সুবিধা পাবেন?

এমভিএনওর পূর্ণরূপ মোবাইল ভার্চ্যুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর। সাধারণত গ্রামীণফোন বা টেলিটকের মতো মোবাইল অপারেটরদের দেশজুড়ে নিজস্ব টাওয়ার ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা থাকে। এই মূল অপারেটরদের বলা হয় এমএনও বা মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর। আমরা সচরাচর এই নেটওয়ার্কই ব্যবহার করি। তবে এমভিএনও পদ্ধতিটি একটু আলাদা। এই মডেলে কোনো কোম্পানির নিজস্ব টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক অবকাঠামো থাকে না। এরা মূল অপারেটরদের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিতে আসে এবং তাদের কাছ থেকে নেটওয়ার্কের বড় একটি অংশ কিনে নেয়। এরপর নিজস্ব ব্র্যান্ড নামে গ্রাহকদের কাছে সিম বিক্রি করে এবং পছন্দমতো অফার বা সেবার দাম ঠিক করে। এমভিএনও কোম্পানি যত বেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি করবে, তাদের নেটওয়ার্ক তত বেশি শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশে বিটিসিএল এই আধুনিক পদ্ধতিতেই প্রথমবারের মতো সিম চালু করছে। তাদের নিজস্ব টাওয়ার না থাকলেও তারা সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের সব সেবা পৌঁছে দেবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার বিটিসিএল এমভিএনওর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন
গ্রামীণফোন বা টেলিটকের মতো মোবাইল অপারেটরদের দেশজুড়ে নিজস্ব টাওয়ার ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা থাকে। এই মূল অপারেটরদের বলা হয় এমএনও বা মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর।

নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন তিন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড মোবাইল ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা। ফলে গ্রাহকেরা একই সঙ্গে কল, ইন্টারনেট, ব্রডব্যান্ড এবং ডিজিটাল বিনোদন পাবেন। ইতিমধ্যেই এই সিমের মাধ্যমে ভয়েস কল সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ধাপগুলো শেষ করে খুব শিগগির এমভিএনও সিমটি সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য বাজারে আসবে।

এখন আসা যাক আসল কথায়। বাজারে থাকা অন্য সাধারণ সিমের তুলনায় এমভিএনও সিমে বাড়তি কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে? সাধারণ সিমে আমরা সাধারণত শুধু কল বা ডেটা প্যাক কিনি। কিন্তু বিটিসিএলের এমভিএনও সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর কোয়াড-প্লে সেবা। এই সেবায় একটি সিমের প্যাকেজ নিলেই একসঙ্গে চারটি সুবিধা পাবেন গ্রাহক। মোবাইল কল, মোবাইল ইন্টারনেট, ঘরের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নাটক-সিনেমা দেখার সুযোগ। অর্থাৎ ডিজিটাল জীবনের সব প্রয়োজন মিটবে মাত্র একটি সংযোগেই।

সাধারণ সিমে সাধারণত শুধু কল বা ডেটা প্যাক কেনা যায়
প্রতীকী ছবি

বাজারে থাকা প্রচলিত অপারেটররা সাধারণত নির্দিষ্ট পরিমাণ ইন্টারনেট বা মিনিট বিক্রি করে। কিন্তু নতুন এই সিমে থাকছে আনলিমিটেড কল ও ডেটার সুবিধা। এতে বারবার ব্যালেন্স শেষ হওয়ার চিন্তা থাকবে না এবং সাশ্রয়ী মূল্যে যত খুশি কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে। বিটিসিএলের নিজস্ব প্রকৌশলীদের তৈরি এই সিস্টেমটি সাধারণ মানুষের খরচ অনেক কমিয়ে আনবে।

আরও পড়ুন
কোয়াড-প্লে সেবায় একটি সিমের প্যাকেজ নিলেই একসঙ্গে চারটি সুবিধা পাবেন গ্রাহক। মোবাইল কল, ইন্টারনেট, ঘরের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নাটক-সিনেমা দেখার সুযোগ।

সাধারণ সিমে আমরা যখন ঘরে থাকি, তখন ফোনের ডেটা শেষ হওয়ার ভয়ে আলাদা ওয়াই-ফাই ব্যবহার করি। কিন্তু এমভিএনও সিমের অন্যতম সুবিধা হলো এর স্মার্ট কানেক্টিভিটি। ব্যবহারকারী যখন ঘরে থাকবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাই-স্পিড জিপন (GPON) ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে ইন্টারনেট পাবেন, আর বাইরে বের হলে ফোনের মোবাইল ডেটা সচল হবে। ফলে ইন্টারনেটের গতি বা সংযোগ নিয়ে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুভি বা খেলা দেখতে গেলে আলাদা সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হয়। এমভিএনও সিমের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হলো, এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। ধীরে ধীরে হয়তো অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মও এর সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই জনপ্রিয় সব কন্টেন্ট উপভোগ করা যাবে।

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ঘেঁটে জানা গেছে, বিটিসিএলের এমভিএনও সেবা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সেবায় বিশেষ শর্তে মাত্র ১৮ টাকায় ১ জিবি ডেটা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য থাকছে সহজ কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুবিধা। যেকোনো এমভিএনও গ্রাহক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ৪জি বা ৫জি স্মার্টফোন নিতে পারবেন। শুরুতে সামান্য কিছু টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে ফোনের দাম পরিশোধ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তি শুরু হবে মাত্র ৫০০ টাকা থেকে।

লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা

আরও পড়ুন