ইংলিশে জ্যাকফ্রুট, ফরাসিতে জাকিয়ে
আরবিতে জাক্কায়া, লোকে থাকে তাকিয়ে!
লজ্জায় মাথা নিচু করে বলে কাঁঠালে
এই দেশে ধরেবেঁধে কে আমাকে পাঠালে?
নামেই জাতীয় ফল, ভাবসাব বাহিরে
বাস্তবে সম্মান একেবারে নাহি রে!
মন চায় কেঁদে যাই দিনমান, অঝোরে
বাঙালির সমস্যা বরাবরই নজরে!
আমকে রাজার পদে কী ভেবে যে বসালো!
ভাব দেখে লাগে শুধু আমই বুঝি রসালো।
কাঁঠালেও রস আছে, রস শুধু আমে না!
তবু দেখি আম নিয়ে উচ্ছ্বাস থামে না!
আমি ছাড়া বাঙালির টান সবকিছুতে
চোখ করে চকচক কালোজাম, লিচুতে!
বাঙালির ইজ্জত তালশাঁসে, গাবে না
ফল খাওয়া লোকগুলো একবারও ভাবে না?
নেই কোনো আগামাথা বাঙালির ভোজনে
উৎসাহে তরমুজ কিনে ফেলে ওজনে।
‘তরমুজ-ক্লাব’ গড়ে রাতদিন কাটালে
টের পাবে নাকি ওরা কী যে আছে কাঁঠালে?
বলি বলে লোকে প্রায় পুরে দেয় প্রিজনে
বাঙ্গিকে নিয়ে ঢং চলে তার সিজনে!
আদেখলাপনা বুঝি আর শেষ হলো না!
কাঁঠালকে ভুলে যাও! বাঙ্গিকে ভোলো না!
কথা ছিল প্রিয় হবে যেই ফল জাতীয়
তা-না আমি কিল খাই, সাথে খাই লাথিও!
অপমান সয়ে সয়ে পারি না তো কুলাতে
মাঝে মাঝে মনে হয় মিশে যাব ধুলাতে।
এ রকম অবহেলা ফি-বছর চলিলে
দেশ ছেড়ে চলে যাব, লিখে রাখ দলিলে।