প্রায় চার শ বছর আগের কথা। কারো প্রচণ্ড জ্বর, মাথাব্যথা বা কোনো বড় অসুখ হলে চিকিৎসকেরা এক অদ্ভুত কাজ করতেন। ধারালো ছুরি দিয়ে রোগীর হাত বা পা কেটে গলগল করে রক্ত বের করে দিতেন! এই ভয়ংকর পদ্ধতির নাম ছিল ব্লাডলেটিং। সে যুগে মানুষের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত নতুন রক্ত তৈরি করে। অসুস্থ হওয়ার মূল কারণও শরীরে জমে থাকা খারাপ রক্ত। তাই সেই খারাপ রক্ত শরীর থেকে বের করে দিলেই রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে!
প্রায় ১ হাজার ৪০০ বছর ধরে পুরো পৃথিবীর বড় বড় চিকিৎসক এই ভুল ধারণাটিকেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করে আসছিলেন। প্রাচীন গ্রিক চিকিৎসক গ্যালেন প্রথম এই তত্ত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, আমাদের যকৃৎ মানুষের খাওয়া খাবার থেকে প্রতিনিয়ত রক্ত তৈরি করে এবং সেই রক্ত আমাদের শরীরের শিরা-উপশিরা দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে যায়। অঙ্গগুলো সেই রক্তকে জ্বালানির মতো ব্যবহার করে। অর্থাৎ, দেহে রক্ত তৈরি হয়, ব্যবহৃত হয় এবং শেষ হয়ে যায়।
গ্যালেনের এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই শতাব্দীর পর শতাব্দী চলছিল চিকিৎসাবিজ্ঞান। এমনকি চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই ইবনে সিনার দ্য ক্যানন অব মেডিসিন-এ শরীরবৃত্তীয় অনেক নিখুঁত বর্ণনা থাকার পরও গ্যালেনের মূল ধারণার বাইরে তখনো খুব বেশি যাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ১৩ শতকে ইবনে আল-নাফিস নামে আরেক প্রতিভাবান আরব বিজ্ঞানী প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেছিলেন, রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে যায় এবং সেখানে বাতাস থেকে বিশুদ্ধ হয়ে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। কিন্তু ইউরোপীয় চিকিৎসকদের কাছে তাঁর সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার তখনো পৌঁছায়নি।
গ্যালেনের সেই প্রাচীন এবং ভুল ধারণার বিশাল পাহাড় যিনি একা হাতে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আধুনিক শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে। আজ ১ এপ্রিল, এই মহান বিজ্ঞানীর জন্মদিন। চলুন, আজ এই বিজ্ঞানীর আবিষ্কার এবং তাঁর জীবনের গল্প জেনে নিই!
১৩ শতকে ইবনে আল-নাফিস নামে প্রতিভাবান আরব বিজ্ঞানী প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেছিলেন, রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে যায় এবং সেখানে বাতাস থেকে বিশুদ্ধ হয়ে আবার হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে।
দুই
১৫৭৮ সালের ১ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ফোকস্টোন শহরের এক সচ্ছল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন উইলিয়াম হার্ভে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর চারপাশে ঘটে যাওয়া সাধারণ জিনিসগুলো নিয়ে কৌতূহলের কোনো শেষ ছিল না। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ১৫৯৯ সালে তিনি পাড়ি জমান ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে।
সে যুগে পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছিল পুরো ইউরোপের চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং গবেষণার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। হার্ভে যখন সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে ক্লাস নিতেন আধুনিক বিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিও গ্যালিলি! তিনিও তখন চারপাশের প্রকৃতিকে গণিতের চোখে দেখা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করার এক নতুন যুগ শুরু করেছিলেন। গ্যালিলিওর এই যৌক্তিক এবং পরীক্ষামূলক চিন্তাধারা হার্ভের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছিল।
পাদুয়ার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হার্ভের অ্যানাটমি শিক্ষক ছিলেন জিরোলামো ফ্যাব্রিচি। তিনি মানুষের শরীরের শিরা-উপশিরা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে একটি অদ্ভুত জিনিস আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন, মানুষের শিরার ভেতরে ছোট ছোট কপাটিকা আছে।
কপাটিকা আবার কী জিনিস? ধরুন, এমন একটি দরজা, যা শুধু একদিকেই খোলে। আপনি ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবেন, কিন্তু ভেতর থেকে ধাক্কা দিলে দরজা আর খুলবে না। শিরার ভেতরের এই কপাটিকাগুলো ঠিক এই কাজটাই করে। কিন্তু ফ্যাব্রিচি বুঝতে পারেননি এই দরজাগুলোর আসল কাজ কী! তিনি ভেবেছিলেন, লিভার থেকে তৈরি হওয়া রক্ত যাতে খুব দ্রুত শরীরের নিচের দিকে নেমে না যায়, শুধু রক্তের গতি কমানোর জন্যই হয়তো এই দরজাগুলো আছে।
হার্ভে যখন পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে ক্লাস নিতেন আধুনিক বিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিও গ্যালিলি!
কিন্তু তরুণ ছাত্র উইলিয়াম হার্ভের মন এই ব্যাখ্যায় সায় দিল না। তাঁর মনে হলো, এই দরজাগুলোর পেছনে নিশ্চয়ই আরও বড় কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে!
১৬০২ সালে পাদুয়া থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন হার্ভে। তিনি লন্ডনের বিখ্যাত সেন্ট বার্থোলোমিউ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সঙ্গে নিজের বাসায় শুরু করেন নানা রকম প্রাণী নিয়ে গবেষণা। তাঁর একটি বড় গুণ ছিল, তিনি শুধু মৃত প্রাণীর শরীরই কাটাকাটি করতেন না, বরং ব্যাঙ বা মাছের মতো জীবন্ত প্রাণীর হৃৎপিণ্ড কীভাবে ধুকপুক করে, তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে পর্যবেক্ষণ করতেন।
গ্যালিলিওর দর্শনে প্রভাবিত হয়ে হার্ভে জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি অদ্ভুত কাজ করে বসলেন। তিনি অ্যানাটমির সঙ্গে মিলিয়ে দিলেন গণিতকে!
গ্যালেনের তত্ত্ব অনুযায়ী লিভার যদি প্রতিনিয়ত নতুন রক্ত তৈরি করে এবং শরীর যদি তা গ্রহণ করে, তবে লিভারকে প্রতিদিন ঠিক কতটুকু রক্ত তৈরি করতে হবে, হার্ভে এই হিসাবটি কষতে বসলেন। তিনি দেখলেন, মানুষের হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৭২ বার সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। একে এখন আমরা হার্টবিট বলি। হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনে যদি অন্তত ২ আউন্স বা প্রায় ৫৬ গ্রাম রক্ত পাম্প হয়ে বের হয়, তবে এক ঘণ্টায় হৃৎপিণ্ড পাম্প করে প্রায় ৮ হাজার ৬০০ আউন্স রক্ত। অর্থাৎ প্রায় ২৫০ কেজি!
হার্ভে অবাক হয়ে দেখলেন, একটি মানুষের সারা দিনের খাবার থেকেও এই বিপুল পরিমাণ রক্ত তৈরি করা লিভারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যদি গ্যালেনের কথা সত্যি হতো, তবে প্রতিদিন মানুষের শরীর এই বিপুল পরিমাণ রক্ত তৈরি করতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ফেটে যেত!
এই জাদুকরী সমীকরণ থেকে হার্ভে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন। তিনি বুঝতে পারলেন, আমাদের লিভার প্রতিনিয়ত নতুন রক্ত তৈরি করে না এবং আমাদের শরীরও সেই রক্তকে দেহের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে না। বরং, আমাদের শরীরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্তই আছে, যা হৃৎপিণ্ড নামের পাম্পিং মেশিনের সাহায্যে একটি বদ্ধ চক্রের মতো বারবার পুরো শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে! এটাই হলো রক্তসঞ্চালন।
১৬০২ সালে পাদুয়া থেকে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন হার্ভে। তিনি লন্ডনের বিখ্যাত সেন্ট বার্থোলোমিউ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
তিন
হার্ভে শুধু অঙ্ক কষেই থেমে থাকলেন না। তিনি মানুষের শরীরের ওপর অত্যন্ত সহজ কিন্তু দারুণ কিছু পরীক্ষা চালালেন। প্রায় ৪০০ বছর আগের সেই পরীক্ষা এখন আপনি ঘরে বসে নিজেও করতে পারবেন!
তিনি একজন মানুষের হাতের ওপরের অংশে, অর্থাৎ কনুইয়ের কিছুটা ওপরে একটি দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধলেন। একে বলা হয় টুর্নিকেট। শক্ত করে বাঁধার পর তিনি দেখলেন, দড়ির নিচের অংশে থাকা হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠছে। কারণ শিরা দিয়ে রক্ত ওপরের দিকে, অর্থাৎ হৃৎপিণ্ডের দিকে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু দড়ির বাধার কারণে আর যেতে পারছে না।
এরপর তিনি একটি আঙুল দিয়ে ফুলে থাকা শিরার ওপর চাপ দিলেন। দেখলেন, শিরার রক্ত শুধু একদিকেই প্রবাহিত হয়, কোনোভাবেই উল্টো দিকে বা হাতের আঙুলের দিকে ফিরে যায় না। কারণ ফ্যাব্রিচির আবিষ্কার করা সেই কপাটিকা বা একমুখী দরজাগুলো রক্তকে উল্টো পথে যেতে দেয় না!
হার্ভে একজন মানুষের হাতের ওপরের অংশে, অর্থাৎ কনুইয়ের কিছুটা ওপরে একটি দড়ি দিয়ে খুব শক্ত করে বাঁধলেন। একে বলা হয় টুর্নিকেট।
এই পরীক্ষাটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করল, আমাদের শরীরের ধমনি দিয়ে রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিরা দিয়ে সেই রক্ত আবার হৃৎপিণ্ডেই ফিরে আসে। রক্ত কোথাও শেষ হয়ে যায় না, বরং এটি একটি বৃত্তের মতো সারা জীবন আমাদের শরীরে ঘুরতে থাকে।
টানা ১২ বছর ধরে অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, নিজের তত্ত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ১৬২৮ সালে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট থেকে হার্ভে একটি বই প্রকাশ করেন। ল্যাটিন ভাষায় লেখা সেই বইটির নাম ছিল এক্সারসিটাসিও অ্যানাটোমিক্যা ডি মটু কর্ডিস এট স্যাঙ্গুইনিস ইন অ্যানিমালিবাস। সংক্ষেপে বলা হতো ডি মোটু কর্ডিস। এর মানে প্রাণীর হৃৎপিণ্ড ও রক্তের গতিবিধি নিয়ে শারীরবৃত্তীয় গবেষণা।
মাত্র ৭২ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটি ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জন! এই বইয়ে তিনি প্রথমবার সম্পূর্ণ রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি দেখান, আমাদের হৃৎপিণ্ড একটি পেশিবহুল পাম্পিং মেশিন। এর সংকোচন এবং প্রসারণের ফলেই রক্ত পুরো শরীরে ধাক্কা খেয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
টানা ১২ বছর ধরে অসংখ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর, নিজের তত্ত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে ১৬২৮ সালে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট থেকে হার্ভে একটি বই প্রকাশ করেন।
চার
যেকোনো নতুন আবিষ্কারের শুরুতে যা হয়, হার্ভের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ১ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো অন্ধবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ায় সমসাময়িক চিকিৎসকেরা হার্ভেকে পাগল আখ্যা দিলেন। অনেক রোগী তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা বন্ধ করে দিল। তাঁকে ব্যঙ্গ করে অনেকেই ডাকতে শুরু করল সার্কুলেটর বলে! সে যুগে ল্যাটিন ভাষায় সার্কুলেটর মানে হাতুড়ে ডাক্তার।
কিন্তু হার্ভে অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিলেন যে, তিনি ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাজা প্রথম জেমস এবং পরবর্তীকালে রাজা প্রথম চার্লসের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। রাজপরিবারের এই সরাসরি সমর্থন থাকায় সমালোচকেরা তাঁর খুব একটা ক্ষতি করতে পারেনি। রাজা প্রথম চার্লস বিজ্ঞান গবেষণায় দারুণ আগ্রহী ছিলেন। তিনি হার্ভেকে তাঁর এই গবেষণার জন্য রাজকীয় হরিণ পার্ক থেকে অসংখ্য হরিণ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
হার্ভে প্রমাণ করেছিলেন, ধমনি দিয়ে রক্ত শরীরে যায় এবং শিরা দিয়ে ফিরে আসে। কিন্তু ধমনি ও শিরার মধ্যে সংযোগকারী রাস্তাটা ঠিক কোথায়? হার্ভে এই সংযোগকারী রাস্তাটি তাঁর নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি। কারণ এই রাস্তাগুলো এতই সূক্ষ্ম যে খালি চোখে তা দেখা অসম্ভব। হার্ভে তাঁর বইয়ে অনুমান করেছিলেন, মাংসপেশির ভেতরে নিশ্চয়ই এমন কোনো স্পঞ্জের মতো সূক্ষ্ম জালিকা আছে, যা ধমনি এবং শিরাকে যুক্ত করে।
হার্ভে অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিলেন যে, তিনি ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাজা প্রথম জেমস এবং পরবর্তীকালে রাজা প্রথম চার্লসের ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
১৬৫৭ সালের ৩ জুন, ৭৯ বছর বয়সে এই মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়। হার্ভের মৃত্যুর ঠিক চার বছর পর, ১৬৬১ সালে ইতালীয় বিজ্ঞানী মার্সেলো মালপিঘি একটি নতুন যন্ত্রের সাহায্যে ব্যাঙের ফুসফুস পরীক্ষা করছিলেন। যন্ত্রটির নাম ছিল মাইক্রোস্কোপ! সেই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে চোখ রাখতেই মালপিঘি দেখতে পেলেন সেই জাদুকরী দৃশ্য। তিনি দেখলেন, ধমনিগুলো সরু হতে হতে জালের মতো সূক্ষ্ম রক্তনালিতে পরিণত হয়েছে এবং সেই জালের অপর প্রান্ত যুক্ত হয়েছে শিরার সঙ্গে। এই জালের মতো সূক্ষ্ম নালিগুলোর নাম দেওয়া হলো ক্যাপিলারি বা কৈশিক জালিকা।
মালপিঘির এই আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে উইলিয়াম হার্ভের সেই রক্তসঞ্চালনের যুগান্তকারী মডেলটি সম্পূর্ণতা পেল। আজ আমরা খুব সহজেই জানি, আমাদের বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড নামের ছোট্ট মেশিনটি অবিরাম কাজ করে চলেছে। আর এই সত্যটিকে প্রমাণ করতে আজ থেকে চার শ বছর আগে উইলিয়াম হার্ভেকে যে বৈজ্ঞানিক সংগ্রাম ও সাহসিকতার পরিচয় দিতে হয়েছিল, তা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
