বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দ শুনলে যে উপকার পাওয়া যায়

বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি হয় স্বরযন্ত্রের একটি অংশ গ্লটিসের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমেছবি: ইমাগো/অ্যালামি

পাঠকের লেখা

আদরের বিড়ালটিকে যখন কোলে নেন, সে মাঝেমধ্যে খুব নিচু স্বরে একটা শব্দ করে; তার পুরো শরীর যেন একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাঁপতে থাকে। একে বলে বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দ, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় পারিং। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে আকর্ষণীয় কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

বিড়ালের ঘড়ঘড় শুধু সন্তুষ্টির প্রকাশ নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানবদেহের নিরাময়ের এক অদ্ভুত শক্তি। গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বিড়ালের এই বিশেষ গুণ নিয়ে গবেষণা করে আসছেন এবং এর ফলাফলগুলো সত্যিই চমকপ্রদ।

ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি হয় কীভাবে

বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি হয় স্বরযন্ত্রের একটি অংশ গ্লটিসের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে। বিড়াল যখন শ্বাস নেয় ও ছাড়ে, তখন বায়ু কম্পিত হয়ে এই বিশেষ ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি করে। এই শব্দের কম্পাঙ্ক সাধারণত ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজের মধ্যে থাকে, যা মানবদেহের জন্য বিশেষভাবে উপকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিড়াল যখন শ্বাস নেয় ও ছাড়ে, তখন বায়ু কম্পিত হয়ে এই বিশেষ ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি করে
ছবি: উইকিপিডিয়া

ঘড়ঘড় করার সময় বিড়ালের মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হরমোন। মজার ব্যাপার হলো, এই ঘড়ঘড় শব্দ শুধু বিড়ালের নয়; মানুষের শরীরেও এন্ডোরফিন তৈরি করতে পারে। ফলে স্ট্রেস হরমোন কমে যায়, রক্তচাপ হ্রাস পায়, মেজাজ ভালো হয় এবং সুখের অনুভূতি তৈরি হয়। পাশাপাশি হতাশা ও দুশ্চিন্তাও কমে।

আরও পড়ুন
বিড়ালের ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি হয় স্বরযন্ত্রের একটি অংশ গ্লটিসের সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে। বিড়াল যখন শ্বাস নেয় ও ছাড়ে, তখন বায়ু কম্পিত হয়ে এই বিশেষ ঘড়ঘড় শব্দ তৈরি করে।

হৃদ্‌রোগ ও রক্তচাপে উপকার

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের বিড়াল নেই, তাঁদের তুলনায় বিড়ালের মালিকেরা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে কম থাকেন। বিড়ালকে আদর করলে বা ঘড়ঘড় শব্দ শুনলে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সুখের অনুভূতি দেয় এবং কর্টিসল কমায়। ফলে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

উদ্বেগ, মাইগ্রেন ও ঘুমের ওপর প্রভাব

বিড়ালের ঘড়ঘড় দুশ্চিন্তার উৎস থেকে মন সরিয়ে নিতে সাহায্য করে। অনেকে মাইগ্রেনের সময় ঘড়ঘড়রত বিড়ালের পাশে শুয়ে থাকলে মাথাব্যথা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ঘড়ঘড়ের ছন্দময় শব্দ নিদ্রাহীনতার সমস্যা দূর করতে পারে এবং রাতের ঘুমের মান উন্নত করে। চিকিৎসাসহায়ক প্রাণী হিসেবেও বিড়াল হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও বিদ্যালয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বিড়ালকে আদর করলে বা ঘড়ঘড় শব্দ শুনলে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সুখের অনুভূতি দেয় এবং কর্টিসল কমায়
ছবি: লাইভ সায়েন্স

একটি ঘড়ঘড়রত বিড়াল শুধু সঙ্গী নয়; তার স্পর্শ, তার দর্শন এবং তার ঘড়ঘড় শব্দ মানুষের শরীর ও মন দুটোকেই সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই বিড়ালকে আদর করুন, তার ঘড়ঘড় শব্দ শুনুন। কারণ, সেই ছোট্ট প্রাণীটি হয়তো আপনার জন্য সত্যিই অনেক কিছু করার শক্তি রাখে।

সূত্র: ইনস্পায়ার দ্য মাইন্ড ডট অর্গ, রাদারফোর্ড ভেট ডটকম ও ডই ডটঅর্গ

আরও পড়ুন