পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাও আছে প্রাণ, জানালেন বিজ্ঞানীরা
জুরাসিক পার্ক মুভির সেই বিখ্যাত ডায়লগটা মনে আছে? ‘লাইফ ফাইন্ডস আ ওয়ে’, অর্থাৎ জীবন ঠিকই তার পথ খুঁজে নেয়।
আমাদের এই নীল গ্রহটা বসবাসের জন্য সেরা হলেও এর আনাচে-কানাচে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে বেঁচে থাকাটা নরকযন্ত্রণার চেয়ে কম নয়! ভাবছেন, আগ্নেয়গিরি বা বরফের রাজ্যের কথা বলছি? না, বলছি সমুদ্রের অতল গহ্বরের কথা। সেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, পানির চাপে হাড়গোড় গুঁড়ো হয়ে যাওয়ার দশা। তাপমাত্রাও হিমাঙ্কের নিচে।
এত দিন আমরা জানতাম, এসব জায়গায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি আবিষ্কার করেছেন, সেই অসম্ভব পরিবেশেও আছে প্রাণ। প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে, পৃথিবীর গভীরতম খাদ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ঠিক পাশেই আছে এক অদ্ভুত এলাকা। নাম মারিয়ানা ফোরআর্ক। এখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, মাথার ওপর হাজার হাজার টন পানির চাপ। পাশাপাশি চারদিকে মাটির আগ্নেয়গিরি থেকে বের হচ্ছে বিষাক্ত কাদা।
এখানকার পরিবেশ এতই ক্ষারীয় যে সাধারণ কোনো প্রাণীর পক্ষে এক মুহূর্ত টেকাও দায়। বিজ্ঞানীরা এত দিন ভাবতেন, এই নরকে নির্ঘাত কোনো প্রাণ নেই। একেবারে মৃতপুরী। কিন্তু বিজ্ঞানীদের সেই ভাবনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে, পৃথিবীর গভীরতম খাদ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের ঠিক পাশেই আছে এক অদ্ভুত এলাকা। নাম মারিয়ানা ফোরআর্ক। এখানে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, মাথার ওপর হাজার টন পানির চাপ।
কিন্তু এই মৃত্যুপুরীতে জীবনের খোঁজ মিলল কীভাবে? সাধারণত কোনো জায়গায় প্রাণ আছে কি না, তা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা ডিএনএ খোঁজেন। কিন্তু মারিয়ানা ফোরআর্কের পরিবেশ এতই জঘন্য যে, সেখানে ডিএনএ খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
জার্মানির ব্রেমেন ইউনিভার্সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উডস হোল ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশনের বিজ্ঞানীরা এবার ভিন্ন এক বুদ্ধি করেছেন। তাঁরা ভাবলেন, ডিএনএ না পেলে কী হয়েছে, চর্বি তো পাওয়া যেতে পারে! ধরুন, একটা বাড়িতে মানুষ আছে কি না, আপনি জানেন না। বাড়ির পেছনের ডাস্টবিনে যদি খাবারের প্যাকেট বা ময়লা পান, তার মানে কী? নিশ্চয়ই ভেতরে কেউ আছে!
ঠিক একইভাবে বিজ্ঞানীরা ওই কাদামাটির ভেতর অণুজীবের শরীরের চর্বির অস্তিত্ব খুঁজে পেলেন। আর তাতেই প্রমাণ হয়ে গেল, এই চরম প্রতিকূল পরিবেশেও দিব্যি বেঁচে আছে একদল অণুজীব!
সবচেয়ে বড় রহস্য হলো, এই অন্ধকার আর খাবারবিহীন জায়গায় এরা বাঁচে কীভাবে? খায় কী? দেখা গেল, এই অণুজীবগুলো অত্যন্ত স্মার্ট। সমুদ্রের তলায় পাথর ও পানির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে শক্তি তৈরি হয়, এরা সরাসরি পাথর থেকেই সেই শক্তি শুষে নেয়! এই প্রক্রিয়ায় এরা তৈরি করে মিথেন গ্যাস।