ঘরের বাতাস ভালো রাখার সেরা ৩ গাছ
ইনডোর প্লান্ট বা ঘরের গাছ আধুনিক অন্দরসজ্জার খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিছু সজীব সবুজ ছাড়া অন্দর যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কেবল সৌন্দর্য বা রুচির বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই নয়, গাছপালা আমাদের ঘরের বাতাসকে দূষণমুক্ত করতেও সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন গাছ সবচেয়ে ভালোভাবে ঘরের বাতাস পরিষ্কার করে?
গাছ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। তাহলে তারা কি সত্যিই ঘরের বাতাসের দূষণ কমাতে পারে? মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষণা কী বলে?
এ বিষয়ে ১৯৮৯ সালে একটি গবেষণা করেছিল নাসা। এ গবেষণায় পরীক্ষা করে দেখা হয়েছিল, গাছ কোনো বদ্ধ পরিবেশে বাতাস পরিষ্কার করতে পারে কি না। এই পরীক্ষায় বিভিন্ন ইনডোর প্লান্ট ছোট সিল করা চেম্বারে রাখা হয়। সেখানে কার্বন মনোক্সাইড, বেনজিন এবং ফরমালডিহাইডের মতো ক্ষতিকর গ্যাস ছিল। এসব গ্যাস সাধারণ ঘরের বাতাসেও পাওয়া যায়।
গবেষণার ফলাফলে যা দেখা যায়, স্পাইডার প্লান্ট কার্বন মনোক্সাইড কমাতে খুব কার্যকর ছিল। এ গাছ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই গ্যাস নামিয়ে আনে প্রায় শূন্যের কোঠায়। অন্যদিকে ফরমালডিহাইড দূর করতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে ফিলোডেনড্রন। আর বেনজিন কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিল জারবেরা ডেইজি।
এই পরীক্ষাগুলো খুব ছোট ও সম্পূর্ণ সিল করা পরিবেশে করা হয়েছিল, যা আমাদের বাস্তব ঘরের মতো নয়। বাস্তব ঘরে দরজা-জানালা দিয়ে বাতাস আদান-প্রদান হয়, তাই গাছের কার্যকারিতাও অনেকটা কমে যায়। গবেষণা অনুযায়ী, বাস্তব পরিবেশে গাছ বাতাসের মান কিছুটা উন্নত করতে পারে, কিন্তু নাসার পরীক্ষার মতো এত বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
গবেষণার ফলাফলে যা দেখা যায়, স্পাইডার প্লান্ট কার্বন মনোক্সাইড কমাতে খুব কার্যকর ছিল। এটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই গ্যাস প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনে।
বাস্তবে গাছ কতটা কার্যকর
গাছ মূলত কিছু দূষণ কমাতে সাহায্য করে, ঘরের আর্দ্রতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। মন ভালো ও ইতিবাচক রাখতেও এটি সাহায্য করে। তবে ঘরের বাতাস সম্পূর্ণ পরিষ্কার করার জন্য শুধু গাছই যথেষ্ট নয়। ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে চাইলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, নিয়মিত জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা।
একনজরে সেরা ৩ গাছ
১. স্পাইডার প্লান্ট
এই গাছের লম্বা পাতার ভেতর থেকে ছোট ছোট বেবি প্লান্ট ঝুলে থাকে। সেগুলো ঘরের বাতাসে থাকা কিছু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।
২. ফিলোডেনড্রন
এ গাছের হার্ট আকৃতির সবুজ পাতা থাকে। খুব সহজেই এটি ঘরের ভেতরে বাঁচে। ফরমালডিহাইড নামের ক্ষতিকর গ্যাস কমাতে এই গাছ সাহায্য করে।
৩. জারবেরা ডেইজি
এতে খুব উজ্জ্বল ও রঙিন ফুল ফোটে। ঘর সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি কিছু বিষাক্ত উপাদান কমাতেও এটি সাহায্য করে। তবে এই গাছগুলোর বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত আলোর দরকার হয়।