ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে কি সত্যিই মানুষ কম অসুস্থ হয়

ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে কি সত্যিই মানুষ কম অসুস্থ হয়, নাকি এটি নিছক প্রচলিত একটি বিশ্বাস?ছবি: কোচবিট

শীতের সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করার কথা শুনলেই অনেকের গা শিউরে ওঠে। অথচ কেউ কেউ নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করেন সুস্থ থাকার আশায়। তাঁদের বিশ্বাস, ঠান্ডা পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, রক্ত চলাচল ভালো রাখে, এমনকি অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও কমায়। কিন্তু এসব ধারণার পেছনে কি সত্যিই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে? ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে কি সত্যিই মানুষ কম অসুস্থ হয়, নাকি এটি নিছক প্রচলিত একটি বিশ্বাস?

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অনুপস্থিতি অন্যদের চেয়ে কম। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের মানসিক সুস্থতারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাসেলের মনোবিজ্ঞানী লেনা গ্লেজার এ নিয়ে কয়েকটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁর গবেষণার মূল প্রশ্ন ছিল, মানুষকে নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে বললে মনস্তাত্ত্বিকভাবে কী কী বিষয় কাজ করে? সেই বৃহত্তর গবেষণার অংশ হিসেবেই তিনি ঠান্ডা পানিতে গোসলের প্রভাব পরীক্ষা করেন। তিনি গবেষণাটি করেছেন নিজের পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে।

গবেষণায় তিনি ৭১৯ জনকে নিয়ে তিনটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা চালান। দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করেছেন, অসুস্থতার কারণে তাঁরা অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন অন্যদের তুলনায় ৩১ শতাংশ কম। আর যাঁরা বেশির ভাগ সময় গরম পানিতে গোসল করেছেন, তাঁরা ২৬ শতাংশ দিন বেশি অসুস্থ ছিলেন।

আরও পড়ুন
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের অনুপস্থিতি অন্যদের চেয়ে কম। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের মানসিক সুস্থতারও কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সংখ্যাগুলো বেশ আকর্ষণীয়। তবে এর মানে এই নয় যে ঠান্ডা পানিতে গোসল করলেই আর অসুস্থ হওয়া যাবে না। গবেষণাটি বরং এমন একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

লেনা গ্লেজারের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ঠান্ডা পানিতে গোসল করার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলা হয়েছিল। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, নতুন এই অভ্যাস তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনে কি না। একই সঙ্গে তাঁরা জানতে চেয়েছেন, ঠান্ডা পানিতে গোসল করার অভ্যাস ধরে রাখা কতটা কঠিন।

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে বোঝা দরকার। অসুস্থ থাকার দিন বলতে বোঝায়, একজন মানুষ কত দিন নিজেকে অসুস্থ বলে অনুভব করেছেন বা অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন। আর অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকার দিন মানে, অসুস্থতার জন্য কত দিন তাঁকে কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। দুটি হিসাব এক নয়। কেউ অসুস্থ বোধ করেও কাজে যেতে পারেন, আবার কেউ অসুস্থতার কারণে পুরো দিন বিশ্রাম নিতে পারেন।

ঠান্ডা পানিতে গোসলের অভ্যাস তৈরি করা যে সহজ নয়, গবেষণায় সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। লেনা গ্লেজার জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রথম দুই সপ্তাহে অনেক অংশগ্রহণকারী মাঝপথে সরে গিয়েছিলেন। যাঁরা অন্তত ৭০ শতাংশ সময় অভ্যাসটি ধরে রাখতে পেরেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৭৭.৩ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ ঠান্ডা পানিতে গোসল করেছেন। পরীক্ষাভেদে এই হার কিছুটা আলাদা ছিল।

আরও পড়ুন
ঠান্ডা পানিতে গোসলের অভ্যাস তৈরি করা যে সহজ নয়, গবেষণায় সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। লেনা গ্লেজার জানিয়েছেন, পরীক্ষার প্রথম দুই সপ্তাহে অনেক অংশগ্রহণকারী মাঝপথে সরে গিয়েছিলেন।

এ থেকে গবেষকেরা মনে করছেন, শুরুতে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কঠিন লাগলেও সময়ের সঙ্গে শরীর ও মন এর সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিতে পারে। অর্থাৎ, প্রথম দিন যে ঠান্ডা পানি অসহ্য মনে হয়, কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর সেটি তুলনামূলক সহজ লাগতে পারে।

তবে অভ্যাস ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কেউ এক-দুদিন ঠান্ডা পানিতে গোসল করেই দীর্ঘমেয়াদি কোনো উপকার পাবেন, এমন সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে পাওয়া যায় না। এখানে নিয়মিত অভ্যাসের সঙ্গে ফলাফলের সম্পর্ক দেখা হয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছিল। সেই প্রশ্নমালার ফল বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ব্যক্তিদের মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি হয়েছে।

শারীরিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই পরিবর্তন পরিসংখ্যানগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। অর্থাৎ, গবেষণার তথ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে ঠান্ডা পানিতে গোসলের কারণে শারীরিক সুস্থতা বেড়েছে।

তবু মানসিক সুস্থতার সামান্য উন্নতির বিষয়টি গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অনেকেরই শুরুতে ধারণা থাকতে পারে, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে অস্বস্তি বাড়বে, ভালো লাগার বদলে মন খারাপ হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষার ফল সেই আশঙ্কাকে সমর্থন করেনি। বরং অংশগ্রহণকারীদের উত্তরে মানসিক সুস্থতার সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন
অনেকেরই শুরুতে ধারণা থাকতে পারে, ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে অস্বস্তি বাড়বে, ভালো লাগার বদলে মন খারাপ হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষার ফল সেই আশঙ্কাকে সমর্থন করেনি।

আগেও মিলেছিল এমন ফল

ঠান্ডা পানিতে গোসল নিয়ে গবেষণা অবশ্য এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া গিয়েছিল। সে গবেষণায় দেখা যায়, ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ব্যক্তিদের অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকার হার ২৯ শতাংশ কম।

তবে সেই গবেষণায় অসুস্থ থাকার মোট দিনের সংখ্যা কমার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ব্যক্তিরা অসুস্থতার কারণে কাজে কম অনুপস্থিত ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা অন্যদের তুলনায় কম দিন অসুস্থ ছিলেন, এমন ফল পাওয়া যায়নি।

লেনা গ্লেজার ও তাঁর সহগবেষকদের নতুন বিশ্লেষণে দুটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তাঁদের মতে, এটি আগের গবেষণার ফলকে আরও জোরালো করে। কারণ, কাজে অনুপস্থিতি কমার পাশাপাশি অসুস্থ থাকার দিনও কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে গবেষকেরা নিজেরাই সতর্ক করেছেন, এই ফলাফলকে এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন
২০১৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাতে প্রায় একই ফল পাওয়া গিয়েছিল। সে গবেষণায় দেখা যায়, ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ব্যক্তিদের অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকার হার ২৯ শতাংশ কম।

ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়

ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে, এই গবেষণায় তা পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে অসুস্থতার দিন কমার পেছনে কোন জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

তবে অন্য কিছু গবেষণায় এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঠান্ডা পানিতে গোসলের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সংকেতের পরিবর্তন ঘটে। গবেষকেরা ধারণা করছেন, বারবার ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে।

ঠান্ডা পানিতে শরীর ডুবিয়ে রাখার প্রভাব নিয়েও আগে গবেষণা হয়েছে। সেসব গবেষণাতেও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কিছু প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে?
ছবি: ম্যাগনিফিক

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। কোনো জীবাণু শরীরে ঢুকলে সেটি শনাক্ত করা, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে নানা ধরনের কোষ ও রাসায়নিক সংকেত একসঙ্গে কাজ করে। ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এই ব্যবস্থার কিছু অংশে পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার কিছু সংকেত বেড়ে গেলেই যে মানুষ নিশ্চিতভাবে কম অসুস্থ হবে, তা বলা যায় না। শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা বেশ জটিল। এর কোনো একটি অংশের পরিবর্তন পুরো ব্যবস্থার উন্নতি প্রমাণ করে না। ঠান্ডা পানিতে গোসলের ফলে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা সত্যিই অসুস্থতার দিন কমানোর জন্য দায়ী কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
কোনো জীবাণু শরীরে ঢুকলে সেটি শনাক্ত করা, তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে নানা ধরনের কোষ ও রাসায়নিক সংকেত একসঙ্গে কাজ করে।

গবেষণাটির সীমাবদ্ধতা কোথায়

ফলাফল আশাব্যঞ্জক হলেও গবেষণাটির কয়েকটি সীমাবদ্ধতা আছে। প্রথমত, গবেষণাটি এখনো কোনো বিজ্ঞান সাময়িকীতে বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বা পিয়ার রিভিউয়ের মধ্য দিয়ে যায়নি। গবেষকেরা তাঁদের প্রিপ্রিন্ট প্রকাশ করেছেন এবং সেটি জার্নাল অব হেলথ সাইকোলজি সাময়িকীতে পাঠানো হয়েছে। পিয়ার রিভিউয়ের সময় অন্য বিশেষজ্ঞরা গবেষণার পদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত যাচাই করেন। সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলকে প্রাথমিক হিসেবেই দেখা উচিত।

দ্বিতীয়ত, অসুস্থ থাকার দিন ও কাজে অনুপস্থিতির তথ্য অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া। অর্থাৎ, তাঁরা কত দিন অসুস্থ ছিলেন বা কাজে যেতে পারেননি, তা নিজেরাই জানিয়েছেন। চিকিৎসকের পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া অসুস্থতার তথ্যের সঙ্গে ব্যক্তির নিজের দেওয়া তথ্য সব সময় এক নাও হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অংশগ্রহণকারীদের বিশ্লেষণের সময় তাঁরা বাস্তবে কতবার ঠান্ডা পানিতে গোসল করেছেন, সেটিও বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে নিয়মিত ঠান্ডা পানিতে গোসল করা ব্যক্তিদের সঙ্গে অন্যদের তুলনা করা হলেও শুধু ঠান্ডা পানিই এই ফলাফলের কারণ, এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তাঁদের জীবনযাপন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা কিংবা অন্য কোনো অভ্যাসও ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন
দ্বিতীয়ত, অসুস্থ থাকার দিন ও কাজে অনুপস্থিতির তথ্য অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া। অর্থাৎ, তাঁরা কত দিন অসুস্থ ছিলেন বা কাজে যেতে পারেননি, তা নিজেরাই জানিয়েছেন।

তাই গবেষণার ফলকে সম্ভাবনাময় বলা যায়, কিন্তু ঠান্ডা পানিতে গোসল অসুস্থতা ঠেকানোর নিশ্চিত উপায়; এমন দাবি করার সময় এখনো আসেনি। ঠান্ডা পানিতে গোসলের সম্ভাব্য উপকার শুনে কেউ অভ্যাসটি শুরু করতে চাইতেই পারেন। তবে প্রথম দিন থেকেই বরফশীতল পানির নিচে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। গবেষক লেনা গ্লেজারের পরামর্শ, ধীরে ধীরে পানির তাপমাত্রা কমিয়ে অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

প্রতিদিন পানির তাপমাত্রা একই রকম ঠান্ডা রাখারও দরকার নেই। শরীর কেমন অনুভব করছে, সেটি খেয়াল করা জরুরি। অস্বস্তি বেশি হলে জোর করে চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে ধীরে ধীরে অভ্যাসটি তৈরি করতে হবে।

লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা

সূত্র: সায়েন্স এলার্ট , ইউনিভার্সিটি অব বাসেল, সুইজারল্যান্ড

আরও পড়ুন