মশারা কি মানুষের রক্তের জন্য আগের চেয়ে বেশি তৃষ্ণার্ত হয়ে উঠছে

সময়ের সঙ্গে অনেক মশা আগের চেয়ে বেশি মানুষের রক্তের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু কেন?ছবি: গেটি ইমেজ

একসময় মশারা বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত খেত। এর ভেতর মানুষ ছাড়াও রয়েছে গরু, ছাগল, কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া, পাখি, বানর, ব্যাঙসহ অন্যান্য নানা বন্যপ্রাণী ও সরীসৃপ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, সময়ের সঙ্গে অনেক মশা আগের চেয়ে বেশি মানুষের রক্তের দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে বড় কারণ হতে পারে বন ধ্বংস ও পরিবেশের পরিবর্তন।

বিজ্ঞানীরা ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্যের মশা ধরে পরীক্ষা করেন। তাঁরা মশার শরীরে থাকা রক্তের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখেন, মশাগুলো আগে কাদের কামড়েছিল। অবাক করার মতো বিষয় হলো, যেসব মশার রক্ত শনাক্ত করা গেছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ছিল মানুষের রক্ত। অথচ মশা ধরার ফাঁদগুলো জঙ্গলের ভেতরেই বসানো হয়েছিল! মানে মশা হয়তো জঙ্গল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মানুষের কাছে গিয়ে রক্ত খেয়ে আবার ফিরে এসেছে।

কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? গবেষকদের মতে, এর বড় কারণ বন উজাড় হওয়া ও বন্য প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়া। আগে মশা সহজেই নানা প্রাণীর রক্ত পেত। কিন্তু বন ধ্বংস হওয়ায় সেই প্রাণীগুলো কমে গেছে। ফলে মশা বাধ্য হয়ে মানুষের দিকে ঝুঁকছে। তার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বাড়ায় মশার জীবনচক্রে বংশবৃদ্ধির সময়ও বেড়ে যাচ্ছে। এখন মশারা কম সময়ে এবং বেশি সময় ধরে মশার জন্ম দিচ্ছে। একটি মা মশা বর্তমানে ৩০০ থেকে ১ হাজারটি পর্যন্ত ডিম দিচ্ছে। এই সংখ্যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

আরও পড়ুন
অবাক করার মতো বিষয় হলো, যেসব মশার রক্ত শনাক্ত করা গেছে, তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ছিল মানুষের রক্ত। অথচ মশা ধরার ফাঁদগুলো জঙ্গলের ভেতরেই বসানো হয়েছিল!

প্রশ্ন হলো, এটি কেন চিন্তার বিষয়? মশা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি। কারণ, তারা ডেঙ্গু, জিকা, ইয়েলো ফিভারসহ নানা রোগ ছড়াতে পারে। বিশ্বজুড়ে মশাবাহিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশেও ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন সবচেয়ে বেশি। মশা যদি মানুষের রক্তের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এসব রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

মশা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীদের একটি
প্রতীকী ছবি

তাহলে এর সমাধান কী? বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের বসতিতে মশা কমানোর একটি বড় সমাধান হলো প্রকৃতি ও বন রক্ষা করা। বন ও বন্যপ্রাণী যদি টিকে থাকে, তাহলে মশারও প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎস থাকবে। ফলে তারা মানুষের দিকে ঝুঁকবে না।

লেখক: সাংবাদিক

সূত্র: সায়েন্স ফোকাস

আরও পড়ুন