ব্রি-অর্গানিক সারে সাশ্রয় হবে ৩০ ভাগ ইউরিয়া ও শতভাগ টিএসপির ব্যবহার

বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা অনেকাংশে ধানের ওপর নির্ভরশীলছবি: সংগৃহীত

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং শিল্পায়নের কারণে বর্তমান বিশ্বে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করছি, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এই সমস্যা সমাধানে এবং একটি পরিবেশবান্ধব পৃথিবী গড়ে তুলতে ‘3R’ (Reduce, Reuse, Recycle) তত্ত্বটি বিশ্বজুড়েই একটি সুপরিচিত মডেল।

এই তত্ত্বের মূল দর্শন বর্জ্যকে কেবল আবর্জনা হিসেবে না দেখে সেটিকে একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। এই তত্ত্বের প্রথম R মানে Reduce বা কমানো। মানে সম্পদের পরিমিত ব্যবহারকে বোঝায়। দ্বিতীয় R মানে Reuse বা পুনর্ব্যবহার। মানে বস্তুর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা। আর তৃতীয় R মানে Recycle বা পুনর্চক্রায়ণ, অর্থাৎ বর্জ্য থেকে কীভাবে নতুন পণ্য তৈরি করা যায়। মূলত, একটি বৃত্তাকার অর্থনীতি প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করাই এই থিওরির প্রধান উদ্দেশ্য। এই পুনর্চক্রায়ণের মাধ্যমেই কীভাবে ব্রি (বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট) বর্জ্য থেকে অর্গানিক সার উদ্ভাবন করল, আজ সেই গল্পই শেয়ার করব।

সারা বিশ্বের মতো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশেও একটি বড় সমস্যা। ঢাকা শহরের উচ্চ জনঘনত্বের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জৈব ও অজৈব বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতার অভাবে এসব বর্জ্য সম্পদে পরিণত না হয়ে উল্টো পরিবেশদূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করেই উন্নত দেশগুলো সহজে অর্গানিক বা জৈব সার তৈরি করছে।

আরও পড়ুন
3R তত্ত্বের প্রথম R মানে Reduce বা কমানো। দ্বিতীয় R মানে Reuse বা পুনর্ব্যবহার। আর তৃতীয় R মানে Recycle বা পুনর্চক্রায়ণ, অর্থাৎ বর্জ্য থেকে কীভাবে নতুন পণ্য তৈরি করা যায়।

২০১৫-২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের বৃহৎ শহরগুলোতে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৭ হাজার টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। শুধু রাজধানী ঢাকা শহরেই প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ৪৬৫ থেকে ৮ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ১৩৫ টন, খুলনায় ১ হাজার টন, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১ হাজার টন এবং গাজীপুরে প্রায় ৪ হাজার টন বর্জ্য প্রতিদিন তৈরি হয়।

গৃহস্থালি, বাজার ও কলকারখানায় সৃষ্ট এসব জৈব ও অজৈব বর্জ্য আলাদা সংরক্ষণ না করায় সেগুলোর পুনর্ব্যবহার, পুনর্চক্রায়ণ ও কম্পোস্টিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া দেশে আধুনিক ল্যান্ডফিল, ম্যাটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি, বায়োগ্যাস ও কম্পোস্ট প্ল্যান্টের সংখ্যাও সীমিত। বিদ্যমান সাইটগুলোতেও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা বেশ দুর্বল। অথচ গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশই কম্পোস্টিং উপযোগী। এই বর্জ্য রক ফসফেটের সঙ্গে কম্পোস্টিং করলে ফসফরাসের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং ফসল উৎপাদনে টিএসপি সার সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া সম্ভব হয়।

বাংলাদেশে খাদ্যনিরাপত্তা অনেকাংশে ধানের ওপর নির্ভরশীল। দেশে প্রায় ৮.৮২ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়, যেখানে ব্যাপক হারে রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়। এর পরিমাণ বার্ষিক প্রায় ৩৮ থেকে ৫০ লাখ টন। ২০২৪ সালে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৪৭ লাখ টন সার আমদানি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
গবেষণার তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশই কম্পোস্টিং উপযোগী।

অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও নিবিড় ফসল উৎপাদনের ফলে মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। একটি আদর্শ মাটিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব পদার্থ থাকার কথা থাকলেও, বাংলাদেশের মাটিতে স্থানভেদে জৈব পদার্থের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।

এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ পরিবেশবান্ধব ১০টি ব্যাকটেরিয়া, রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্য পদার্থ, রক ফসফেট ও বায়োচার মিশিয়ে ‘ব্রি-অর্গানিক সার’ উদ্ভাবন করেছে।

মাঠপর্যায়ে আউশ, বোরো ও আমন মৌসুমে দীর্ঘ পরীক্ষণের পর সম্প্রতি ব্রি-অর্গানিক সার বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সার ব্যবহারের মাত্রা হলো আউশ মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ১ টন এবং বোরো ও আমন মৌসুমে হেক্টরপ্রতি ২ টন। ফলাফলে দেখা গেছে, এটি ব্যবহার করলে টিএসপি সার সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া যায় এবং ইউরিয়া সার প্রায় ৩০ ভাগ কম দিলেও ফলনের কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। ইউরিয়া ও টিএসপি সারের জন্য সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হয়। রাসায়নিক সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় হয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসও সৃষ্টি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি উৎপাদনে প্রায় সাড়ে ছয় কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসৃত হয়। ব্রি উদ্ভাবিত এই অর্গানিক সার ধান চাষে ব্যবহার করলে একদিকে যেমন ৩০ ভাগ ইউরিয়া ও পূর্ণমাত্রার টিএসপি সারের ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে কাঁচাবাজারসহ রান্নাঘরের বর্জ্যকে ধান চাষে জৈব সাররূপে ব্যবহার করে পরিবেশদূষণও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
ইউরিয়া ও টিএসপি সারের জন্য সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিতে হয়। রাসায়নিক সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অপচয় হয় এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসও সৃষ্টি হয়।

এই সারের উদ্ভাবক ব্রির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উম্মে আমিনুন নাহার জানান, ‘টিএসপি অথবা ডিএপি সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে রক ফসফেট। রক ফসফেট সহজে দ্রবীভূত হয় না বলে একে ধানসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ফসলে সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। মাটিতে বসবাসকারী একশ্রেণির পরিবেশবান্ধব ব্যাকটেরিয়া, রক ফসফেটকে স্বল্প সময়ে দ্রবীভূত করে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য করে তোলে। উদ্ভাবিত এই সারটির সঙ্গে ১৫ ভাগ বায়োচার থাকায় এটি মাটিতে সরাসরি কার্বন যোগ করে মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি করবে। গবেষণালব্ধ ফলাফলে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ক্রমাগতভাবে শুধু রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটিতে বসবাসকারী নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী, ফসফেট দ্রবণকারী ও অন্যান্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মাটিতে উপস্থিত এসব অণুজীব উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ব্রি-অর্গানিক সারের ব্যবহারে মাটিতে উপকারী অণুজীবের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তিটি ইউরিয়া ও টিএসপি সার তৈরি বা আমদানি খরচ বহুলাংশে কমাবে এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষাসহ ধানের ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

উম্মে আমিনুন নাহার ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব পুত্রায় পিএইচডি গবেষণার সময় এই সার উদ্ভাবনের কাজের সূচনা করেন। নাইট্রোজেন স্থিরীকরণকারী ও ফসফেট দ্রবণকারী ব্যাকটেরিয়া এবং পিট ও পাম-তেল শিল্পের কম্পোস্টকৃত বর্জ্য দিয়ে তৈরি ক্যারিয়ার উপাদানের সমন্বয়ে এই বায়োফার্টিলাইজার উদ্ভাবনের জন্য তিনি ২০১২ সালে জাতিসংঘের ISTIC এবং TWAS আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। তখন থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে নিজ দেশের জন্য একটি অনন্য অর্গানিক সার উদ্ভাবন করা। এই সার উদ্ভাবনের পরিকল্পনায় তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের জমিতে মাটির উর্বরতার সমস্যা সমাধান, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্যয়বহুল রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন
উম্মে আমিনুন নাহার ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব পুত্রায় পিএইচডি গবেষণার সময় এই ব্রি-অর্গানিক সার উদ্ভাবনের কাজের সূচনা করেন।

ধান চাষে নাইট্রোজেন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা সাধারণত ইউরিয়া হিসেবে প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রয়োগকৃত নাইট্রোজেনের মাত্র ৩০-৫০ শতাংশই গাছ ব্যবহার করতে পারে। বাকি অংশ অ্যামোনিয়া হিসেবে উড়ে যাওয়া, নাইট্রাস-অক্সাইড নির্গমন ও নাইট্রেট লিচিংয়ের মাধ্যমে অপচয় হয়। ফসফরাস হলো উদ্ভিদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা সাধারণত টিএসপি বা ডিএপি আকারে ব্যবহৃত হয়।

রক ফসফেট হলো এসব সারের প্রাকৃতিক উৎস। রক ফসফেট সরাসরি ব্যবহারে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। তবে এটি ধীরে দ্রবণীয় হওয়ায় ফসফেট দ্রবণীয়কারী ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করলে এটি উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য হয়। এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও গ্রহণের মাধ্যমে ইউরিয়া ও টিএসপি ব্যবহার কমিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব। এতে গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ সমস্যার সমাধান হবে। কম্পোস্টিং প্রক্রিয়ায় বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে সবুজ জ্বালানি সৃষ্টি হবে এবং ধানক্ষেতের মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

২০২৩-২৪ আমন ও বোরো মৌসুমে গাজীপুরের ব্রিতে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ ভাগ নাইট্রোজেন, শূন্য ভাগ ফসফরাস, ১০০ ভাগ পটাশ ও সালফারের সঙ্গে ব্রি-অর্গানিক সার প্রয়োগ করলে কৃষকের অর্থনৈতিক লাভজনকতা প্রায় ১.৮৯ গুণ বৃদ্ধি পায়। এর থেকে প্রতীয়মান হয়, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্রি-অর্গানিক সার ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে অধিক লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০ ভাগ নাইট্রোজেন, শূন্য ভাগ ফসফরাস, ১০০ ভাগ পটাশ ও সালফারের সঙ্গে ব্রি-অর্গানিক সার প্রয়োগ করলে কৃষকের অর্থনৈতিক লাভজনকতা প্রায় ১.৮৯ গুণ বৃদ্ধি পায়।

এই সার বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ব্রি ও এসিআইয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় ব্রি তাদের উদ্ভাবিত ব্রি-অর্গানিক সার উৎপাদন প্রযুক্তি এসিআই পিএলসিকে হস্তান্তর করবে। এসিআই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের কৃষকদের জন্য মানসম্মত জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাত করবে। উৎপাদন দক্ষতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসিআই নিজস্ব কারখানা ও আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করবে। চুক্তিতে ব্রি’র পক্ষে মহাপরিচালক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান এবং এসিআইয়ের পক্ষে গ্রুপ অ্যাডভাইজার এফ. এইচ. আনসারী স্বাক্ষর করেন।

ব্রি’র পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এই সার একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তি, যা গৃহস্থালি বর্জ্য, গোবর, পোলট্রি লিটার, রক ফসফেট, বায়োচার এবং উপকারী অণুজীবের সমন্বয়ে তৈরি। হেক্টরপ্রতি মাত্র ৫০০ থেকে ৭৫০ কেজি সার ব্যবহার করেই ধান চাষে ফসফেট সার সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি নাইট্রোজেন সারের ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমিয়েও শতভাগ রাসায়নিক সারের সমপরিমাণ ফলন পাওয়া যায়। এই সার ব্যবহারে মাটির জৈব কার্বনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, পানি ধারণক্ষমতা উন্নত হয় এবং উপকারী অণুজীবের কার্যকারিতা বাড়ে, যা শিকড়কে শক্তিশালী করে।

লেখক: ঊর্ধ্বতন যোগাযোগ কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

আরও পড়ুন