মা বেশি চিনি খেলে কি শিশুর দাঁতে পোকা হয়
দিনে অনেকবার আমরা দাঁত ব্যবহার করি। খাওয়া বা কথা বলার জন্য তো দাঁত ব্যবহার করতেই হয়। কোনো অস্বস্তি না থাকলে দাঁত নিয়ে আলাদাভাবে ভাবারও দরকার হয় না। কিন্তু দাঁতের যত্ন নিতে এবং নতুন কিছু শিখতে দাঁত সম্পর্কে জানা উচিত। তাই চলুন, দেখে নিন দাঁত সম্পর্কে ১০টি চমকপ্রদ তথ্য!
১. জন্মের সময় দাঁত ও মায়ের খাদ্যাভ্যাস
সাধারণত ৬ মাস বয়সে শিশুর দাঁত ওঠে। তবে কিছু শিশু দাঁত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে বা জন্মের এক মাসের মধ্যেই দাঁত ওঠে। এটি বেশ বিরল ঘটনা। অনেক সময় দেখা যায়, এই দাঁতগুলো ঠিকমতো গঠিত হয়নি বা এনামেল খুব দুর্বল। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মা যদি অতিরিক্ত চিনি বা কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার খান, তবে শিশুর দাঁতের এনামেল গঠনে ত্রুটি হতে পারে। ফলে দাঁতটি দুর্বল হয় এবং দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে। সরাসরি ক্ষয়দাঁত নিয়ে জন্মানোর চেয়ে দুর্বল দাঁত নিয়ে জন্মানোর আশঙ্কাই বেশি। এ ছাড়া গর্ভাবস্থায় নেওয়া কিছু ওষুধের প্রভাবেও এমন হতে পারে।
২. দাঁত কি হাড়ের মতো জোড়া লাগে
শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা হাড় ভাঙলে শরীর নিজে নিজেই তা সারিয়ে তোলার চেষ্টা করে। কিন্তু দাঁত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। দাঁতের ওপরের শক্ত আবরণ বা এনামেল জীবন্ত কোষ দিয়ে তৈরি নয়। তাই দাঁত একবার ভেঙে গেলে বা গর্ত হলে আর নিজেকে মেরামত করতে পারে না। প্রাথমিক পর্যায়ের ক্ষয় হলে ফ্লোরাইড বা মিনারেল জমে কিছুটা ঠিক হতে পারে, কিন্তু একবার গর্ত হয়ে গেলে ডেন্টিস্টের সাহায্য ছাড়া উপায় নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মা যদি অতিরিক্ত চিনি বা কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার খান, তবে শিশুর দাঁতের এনামেল গঠনে ত্রুটি হতে পারে। ফলে দাঁতটি দুর্বল হয় এবং দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।
৩. বাঁকা পথের যাত্রী
সব দাঁত যে সোজা হয়ে উঠবে, এমন কোনো কথা নেই। জায়গা না পেলে বা মাড়ির সমস্যার কারণে দাঁত উল্টে, পাশ দিয়ে বা ঘুরে উঠতে পারে। এগুলো খুব সাধারণ না হলেও মুখের গঠন ও কামড়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৪. স্থায়ী দাঁতের পথপ্রদর্শক
দুধদাঁত শুধু শিশুদের খাওয়ার জন্যই নয়, এর আরও একটি বড় দায়িত্ব আছে। মাড়ির নিচে থাকা স্থায়ী দাঁতের জন্য জায়গা ধরে রাখে এই দাঁত। কোনো দুধদাঁত যদি সময়ের আগেই পড়ে যায় বা ফেলে দিতে হয়, তবে পাশের দাঁতগুলো সেই ফাঁকা জায়গায় হেলে পড়ে। ফলে পরে যখন স্থায়ী দাঁত ওঠে, তখন ওটা আর জায়গা পায় না এবং বাঁকা হয়ে ওঠে।
৫. গাছের পাতার মতো ঝরে যায়
শীতে যেমন গাছের পাতা ঝরে যায়, তেমনি দুধদাঁতও পড়ে যায় স্থায়ী দাঁতকে জায়গা দিতে। ল্যাটিন শব্দ ডিসিডিয়ার অর্থ ঝরে পড়া। সেখান থেকেই দুধদাঁতের পোশাকি নাম হয়েছে ডিসিডুয়াস টুথ। সাধারণত ৬ মাস বয়সে দুধদাঁত ওঠা শুরু হয় এবং ৩ বছর বয়সে সবকটি (২০টি) দাঁত গজিয়ে যায়। এরপর ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে এগুলো একে একে পড়ে যায়।
৬. ২০ ও ৩২-এর হিসাব
মানুষের জীবনে দুই সেট দাঁত থাকে। ছোটবেলায় ২০টি দুধদাঁত থাকে, আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সব মিলিয়ে ৩২টি স্থায়ী দাঁত হয়। তবে জিনগত কারণে কারও দাঁত কম থাকতে পারে, আবার কারও অতিরিক্ত দাঁতও থাকতে পারে।
সাধারণত ৬ মাস বয়সে দুধদাঁত ওঠা শুরু হয় এবং ৩ বছর বয়সে সবকটি দাঁত গজিয়ে যায়। এরপর ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে এগুলো একে একে পড়ে যায়।
৭. ই-সিগারেটের মিষ্টি ফাঁদ
অনেকে ভাবেন ই-সিগারেট বা ভ্যাপ সাধারণ সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ। কিন্তু দাঁতের জন্য এটি ভয়ানক। নিকোটিন তো আছেই, এর সঙ্গে ই-সিগারেটের মিষ্টি ফ্লেভারে থাকা কৃত্রিম চিনি দাঁতের বারোটা বাজায়। মুখের ব্যাকটেরিয়া এই চিনি খেয়ে অ্যাসিড তৈরি করে, যা এনামেল ক্ষয় করে দ্রুত ক্যাভিটি তৈরি করে।
৮. পেশাই করার যন্ত্র
মোলার হলো মুখের পেছনের দিকের বড় ও চ্যাপ্টা দাঁত। এদের কাজ হলো খাবার পিষে ও গুঁড়ো করে হজমে সাহায্য করা। বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপরের চোয়ালে তিনটি এবং নিচের চোয়ালে তিনটি করে মোট ১২টি মোলার দাঁত থাকে (আক্কেল দাঁতসহ)।
৯. ডায়েট সোডা কি নিরাপদ
চিনি নেই বলে ডায়েট সোডা বা স্পোর্টস ড্রিংকসকে নিরাপদ ভাবার কোনো কারণ নেই। এগুলোতে চিনির বদলে থাকে উচ্চমাত্রার অ্যাসিড। ফসফরিক বা সাইট্রিক অ্যাসিড থাকতে পারে। এই অ্যাসিড সরাসরি দাঁতের এনামেল গলিয়ে ফেলে। এ ছাড়া ঘন ঘন এসব পানীয় খেলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং লালারস কমে যায়। লালারস কমে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রাজত্ব শুরু করে। ফলে দাঁত দ্রুত নষ্ট হয়।
১০. হিমশৈলের চূড়া
বরফের পাহাড় যেমন খুব অল্প অংশই পানির ওপরে দেখা যায়, দাঁতের ক্ষেত্রেও তাই। আমরা বাইরে দাঁতের যে সাদা অংশটুকু দেখি, তাকে বলে ক্রাউন। এটি দাঁতের মোট দৈর্ঘ্যের মাত্র এক-চতুর্থাংশ বা এক-তৃতীয়াংশ। বাকি বিশাল অংশটি শিকড় মাড়ির নিচে হাড়ের ভেতর লুকানো থাকে।