শিশুরা সহজে মাতৃভাষা শিখতে পারে কেন

শৈশবকালকে শিশুরা সহজে মাতৃভাষা শেখে কেন?ছবি: ইউনিসেফ

ধরুন এক ইংরেজ পরিবার কোনো বাঙালি শিশুকে দত্তক হিসেবে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে সে খাঁটি আমেরিকান অ্যাকসেন্টে ইংরেজি শিখবে সহজে। বড় হয়ে সে যদি তার মাতৃভাষা বাংলা শেখার চেষ্টা করে, তাহলে পারবে, যদিও অসুবিধা হবে। একটু কঠিন লাগবে। সময় লাগবে। বাংলা উচ্চারণও ঠিকভাবে হবে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাঙালি পরিবারের সন্তানেরা শিশু অবস্থা থেকেই বাসায় মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা, পড়া ও লেখা যেমন সহজে শিখতে পারে আবার একই সঙ্গে চারপাশের পরিবেশে অর্জিত অভিজ্ঞতায় আমেরিকানদের মতোই খাঁটি অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলা, লেখা ও পড়া খুব সহজে শিখে নিতে পারে। এর কারণ হলো, জন্মের সময় থেকেই মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের বিভিন্ন স্তরে কিছু অভিজ্ঞতা সহজে গ্রহণ ও শেখার একটি কাঠামো নির্ধারিত থাকে। যেমন শৈশবে ভাষা, গান, নাচ প্রভৃতি শেখার উপযুক্ত সময়। আবার বড় হয়ে ডাক্তারি, ব্যারিস্টারি শেখা সহজ।

আরও পড়ুন
শৈশব সময়কালটা এমন যে ওই সময়ে শুধু মাতৃভাষাই নয়, শিশুশিক্ষার প্রথম সাত বছরে একাধিক ভাষা শেখাও সহজ। অন্তত তিনটি ভাষা তো অনায়াসে রপ্ত করতে পারে।

শৈশবকালকে বলা হয় মস্তিষ্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার শক্তিশালী ও স্থায়ী ছাপ ফেলার সময়কাল (সেনসেটিভ পিরিয়ডস)। এ জন্যই শিশুরা সহজে মাতৃভাষা শেখে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাষাও সহজে ও নির্ভুল অ্যাকসেন্টে কৈশোরে শেখা সহজ। কারণ, এ সময় অভিজ্ঞতাগুলো মস্তিষ্কের একটি অংশে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। কেউ বেশি বয়সে বিদেশি ভাষা অনর্গল বলতে পারলেও, মস্তিষ্কের ইলেকট্রনিক প্রতিবিম্ব (ইমেজিং) পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মানুষ যখন তাদের দুটি ভাষা শোনে, তখন মস্তিষ্কের সংশ্লিষ্ট বাড়তি কিছু অংশও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে বোঝা যায়, বড় হয়ে বিদেশি ভাষা শিখতে মস্তিষ্কে একটু বাড়তি জায়গা লাগে। কিন্তু শৈশবে লাগে না। তাই শৈশব সময়কালটা এমন যে ওই সময়ে শুধু মাতৃভাষাই নয়, শিশুশিক্ষার প্রথম সাত বছরে একাধিক ভাষা শেখাও সহজ। অন্তত তিনটি ভাষা তো অনায়াসে রপ্ত করতে পারে। শিশুদের মস্তিষ্কে সে রকম প্রস্তুতি থাকে।

আরও পড়ুন