মানুষ কত লম্বা হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের রবার্ট ওয়াডল সবচেয়ে লম্বা মানুষ বলে স্বীকৃত (গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস)। ২.৭২ মিটার (৮ ফুট ১১ ইঞ্চি) উঁচু মানুষটি মাত্র ২২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মানুষের উচ্চতা প্রধানত তার দেহকোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ, বিশেষত খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। এটা খুব জটিল বিষয়। সাধারণত একজন মানুষ অঞ্চলভেদে একটি গড় উচ্চতা অর্জন করে। গত এক বা ২০০ বছর আগের তুলনায় এখন পৃথিবীর মানুষের উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়েছে। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন, মিনেরাল, আমিষ প্রভৃতি যুক্ত হওয়ায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে। গড় উচ্চতার চেয়ে খুব বেশি লম্বা বা খুব বেশি বেঁটে মানুষ কম। কারণ, উচ্চতা যদি খুব বেশি, যেমন ৯-১০ ফুট হয়, তাহলে তার শরীরে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। অসুখ-বিসুখে তাদের জীবন বিপন্ন হয়। সে জন্য এদের জিনগত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরের মধ্যে খুব কমই সঞ্চারিত হওয়ার সুযোগ পায়। খুব বেঁটে মানুষের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে।

আরও পড়ুন
গত এক বা ২০০ বছর আগের তুলনায় এখন পৃথিবীর মানুষের উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়েছে। খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত ভিটামিন, মিনেরাল, আমিষ প্রভৃতি যুক্ত হওয়ায় এই বৃদ্ধি ঘটেছে।

শরীরের হাড়ের বৃদ্ধির কারণে মানুষের উচ্চতা বাড়ে। সাধারণত একজন মানুষের ২৫ বছর পর্যন্ত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। এই সময় উপযুক্ত ও পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার হার বৃদ্ধির ফলে গড় উচ্চতা বেড়েছে। কিন্তু দেহকোষের জিন-সংকেত সহজে অতিক্রম করে না। হাড়ের বৃদ্ধি ঘটায় প্রজনন গ্রন্থি নিঃসৃত রস (সেক্স হরমোন)। একটি বয়সে খুব বেশি প্রজনন হরমোন নিঃসৃত হলে তা হাড়ের প্রান্ত সীমায় এই সংকেত দেয় যে আর শারীরিক বৃদ্ধির দরকার নেই। তখন সে আর লম্বা হয় না। এ জন্যই দেখা যায়, সাধারণত একজন মানুষের ২৫ বছর পর্যন্ত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে টিউমার হলে তা প্রজনন হরমোন কোষগুলো নষ্ট করে ফেলে। ফলে হাড় বৃদ্ধি বন্ধের সংকেত আর যায় না। এ জন্য কোনো কোনো মানুষ অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যায়। এটা অসুস্থতা।

আরও পড়ুন