খাওয়ার মাঝে পানি খেলে কি সমস্যা হয়

ভরপেট খাবারের পর পানি খেলে শরীর সবটুকু পুষ্টি নিতে পারে নাছবি: বিবিসি

আমরা সাধারণত এক গ্লাস পানি নিয়ে ভাত খেতে বসি। আর পান্তাভাত তো পানিতে ভাসে। কিন্তু অনেকে বলেন, খাওয়ার মাঝে পানি খেলে ক্ষতি হয়। প্রবাদ আছে 'ফল খেয়ে জল খায়, যম বলে আয় আয়!' তার মানে কী? পানি তাহলে কখন খাওয়া উচিত? এ নিয়ে মতভেদ থাকলেও অন্তত কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। খাওয়ার সময় মুখে যে লালা বের হয় তাতে অনেক ধরনের এনজাইম থাকে। এগুলো খাদ্যের উপাদানগুলো ভেঙে পরিপাকে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাকের জন্য অনেক পাচক রস বের হয়।

আবার লিভার (যকৃৎ) খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। খাওয়ার সময় প্রচুর পানি খেলে এই তিনটি ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খাওয়ার সময় পানি খেতে মানা করেন। এ জন্যই বলা হয় ফল বা ভরপেট খাবারের পর পানি খেতে নেই। কারণ, এতে পাচক রস ও এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়, শরীর সবটুকু পুষ্টি নিতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা খাওয়ার সময় পানি খেতে মানা করেন
ছবি: শাটারস্টোক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন এ বি এম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, সুস্থ ব্যক্তি খাওয়ার মাঝে কমবেশি পানি খেলে সমস্যা নেই। তবে কারও অ্যাসিডিটি থাকলে বা খাওয়ার পর বারবার ঢেকুর উঠলে খাওয়ার মাঝে নয়, কিছু সময় পর পানি খেতে হবে। খাদ্য পরিপাকের জন্য শরীরে যথেষ্ট পানি থাকা দরকার।

আরও পড়ুন
ফল বা ভরপেট খাবারের পর পানি খেতে নেই। কারণ, এতে পাচক রস ও এনজাইমগুলোর কার্যকারিতা কমে যায়, শরীর সবটুকু পুষ্টি নিতে পারে না।

পিপাসার্ত অবস্থায় পেট ভরে খেলে লিভার ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ও আধা ঘণ্টা পরে এক গ্লাস করে পানি খেলে শরীর পানিসিক্ত থাকে, খাবার পরিপাক সহজ হয়।

অন্যদিকে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেন, হিসাব করে পানি খাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন হলেই পিপাসা লাগে, তখন পানি খেতে হয়। খাওয়ার মাঝে হয়তো পিপাসা লাগে বলে আমরা সাধারণত পানি নিয়ে খেতে বসি। উপকার না থাকলে আমাদের এ অভ্যাসটি হতো না।

বিশেষজ্ঞের মতে, প্রয়োজন হলেই পিপাসা লাগে, তখন পানি খেতে হয়
ছবি: কেভেন ইমেজ/কেভেন/গেটি ইমেজ

আর তা ছাড়া, ঝাল লাগলে হেঁচকি ওঠে, তখন যে সামান্য পানি খেতে হয়, সে তো আমরা সবাই জানি। খাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পেট ভরে পানি খেলে ওজন কমানো সহজ হয়, এ কথাও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলেন। কারণ, এতে খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। শরীর বেশি ক্যালোরি পায় না।

আরও পড়ুন