ঘুমের সময় কি এক কান জেগে থাকে

গভীর ঘুমের সময় চোখ-কানও ঘুমিয়ে থাকে। কানের তো কথাই নেই। অনেক সময় হাজার ডাকাডাকিতেও ঘুম ভাঙে না, যাকে বলে বেঘোরে ঘুম! তাহলে বিজ্ঞানীরা কেন এক কান জেগে থাকার কথা বলেন? এটা এল কোথা থেকে? আসলে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, নতুন বা অপরিচিত জায়গায় সহজে ঘুম আসে না। সামান্য শব্দে ঘুম ভেঙে যায়।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, এ সময় ডান কান জেগে থাকে। অপরিচিত পরিবেশে মস্তিষ্কের বাম পাশের কিছু অংশ জেগে পাহারা দেয়, অন্য পাশ গভীর ঘুমে অচেতন থাকে। বিজ্ঞানীরা কারেন্ট বায়োলজি-এর ৯ মে ২০১৬ সংখ্যায় এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। এ থেকেই আমরা সহজে বুঝতে পারি কোথাও বেড়াতে গিয়ে নতুন কোনো হোটেলে রাতের ঘুমে কেন কিছুটা অস্বস্তি থাকে।

তিমিদের অক্সিজেন গ্রহণের জন্য কিছুক্ষণ পরপর ভেসে উঠতে হয়। তাই তাদের মস্তিষ্কের এক পাশ জেগে থাকে
ছবি: রয়টার্স

ঘুমের সময় কিছু জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখির মস্তিষ্কের অর্ধেক জেগে থাকে। তিমি প্রভৃতি জলজ স্তন্যপায়ীদের অক্সিজেন গ্রহণের জন্য কিছুক্ষণ পরপর ভেসে উঠতে হয়। তাই তাদের মস্তিষ্কের এক পাশ জেগে থাকে। পুরো মস্তিষ্ক একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লে পানির নিচে অক্সিজেনের অভাবে মরবে। কোনো কোনো পাখির গাছের ডালে বসে ঘুমানোর জন্য ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়। তাই ঘুমের মধ্যেও মস্তিষ্কের এক পাশ জেগে থাকে। এই কৌশলকে বলা হয় 'ইউনিহেমিস্ফিয়ারিক স্লিপ'। বিজ্ঞানীরা অবশ্য মনে করেন, ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত এ ধরনের অসামঞ্জস্য দেখায় না।

আরও পড়ুন
ঘুমের সময় কিছু জলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখির মস্তিষ্কের অর্ধেক জেগে থাকে। তিমি প্রভৃতি জলজ স্তন্যপায়ীদের অক্সিজেন গ্রহণের জন্য কিছুক্ষণ পরপর ভেসে উঠতে হয়।

বিজ্ঞানীরা স্লিপ ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন, গভীর ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্কের বাম পাশের নার্ভ সেল নেটওয়ার্ক ডান পাশের নেটওয়ার্কের তুলনায় ঘুম পাড়ানোর কাজে কম ভূমিকা রাখে। এতে বোঝা যায় ঘুমের ব্যাপারে মস্তিষ্কের বাম ও ডান অংশ একই রকম ভূমিকা রাখে না। অবশ্য দ্বিতীয়-তৃতীয় দিনে পরিবেশ চেনা-জানা হয়ে গেলে ঘুম স্বাভাবিক হয়ে আসে।

নতুন জায়গায় ঘুমের প্রথম রাতে মস্তিষ্কের বাম পাশ সামান্য শব্দেই বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। বাম পাশে শব্দতরঙ্গ ডান কান দিয়ে ঢোকে। ডান কানের শব্দে সহজে ঘুম ভেঙে যায়। তাই বলা যেতে পারে, নতুন জায়গায় ঘুমানোর সময় ডান কান জেগে থাকে! অবশ্য এই হালকা ঘুমের অবস্থাটা ঘুমের প্রথম প্রহরেই বেশি থাকে। পরের দিকে থাকে কি না, তা এখনো গবেষণার বিষয়।

ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্কের বাম পাশের নার্ভ সেল নেটওয়ার্ক ডান পাশের নেটওয়ার্কের তুলনায় কম ভূমিকা রাখে
ছবি: এআইয়ের সাহায্যে তৈরি

এটা অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ, নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে গভীর ঘুম আসবে কেন? পরিচিত পরিবেশেও কিন্তু সামান্য শব্দে ঘুম ভেঙে যেতে পারে, যদি সেই শব্দ বিপদের সংকেত হয়। যেমন বজ্রপাতের শব্দে অনেক সময় মায়ের ঘুম ভাঙে না, কিন্তু পাশে ঘুমিয়ে থাকা বাচ্চার সামান্য কান্নায় ঘুম ভেঙে যায়। এই চমৎকার বিষয়ে আরও জানার জন্য পড়ুন লরা স্যান্ডার্সের লেখা 'লেফট ব্রেইন স্ট্যান্ডস গার্ড হোয়াইল অ্যাস্লিপ', সায়েন্স নিউজ, মে ২৮, ২০১৬, কিনডল এডিশন।

আরও পড়ুন