রাতে টিভি দেখলে কি ঘুম কমে যায়
আধুনিক যুগে রাত জেগে টেলিভিশন দেখা, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা প্রভৃতি কারণে রাতে ঘুমের পরিমাণ কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কথাটা যে খুব ভুল নয়, তা নিশ্চিত করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নীলাভ আলো ঘুমে বাধা দেয়। এটা সত্য। আগে এসব ছিল না। হাজার হাজার বছর আগে মানুষ পশুপাখি শিকার করে খেত। সন্ধ্যা হতেই ঘুমিয়ে পড়ত। সে তুলনায় এখন আমাদের ঘুমের পরিমাণ কি খুব কম?
আবার অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে বেশি রাত জাগা ও কম ঘুমের জন্য ওজন বেড়ে যায়, মেজাজ বিগড়ে যায়, অন্যান্য আধুনিক অসুস্থতা দেখা দেয়। আগের দিনে তো এসব ছিল না। সবকিছুর জন্য কম ঘুমকেই দায়ী করা হয়। বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর দুজন বিজ্ঞানীর গবেশনাপত্র কারেন্ট বায়েলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের জীবনযাত্রা ও ঘুমের পরিমাণ নিয়ে গবেষণা করে তাঁরা দেখেছেন যে সে যুগের আর এ যুগের মানুষের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তিন গ্রুপের ৯৪ জন মানুষের ওপর তাঁরা গবেষণা চালান। তাঁরা উত্তর তানজানিয়া, কালাহারি মরুভূমি ও বলিভিয়ার আদি নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
আদিমকালের মানুষ সূর্যাস্তের অন্তত সোয়া তিন ঘন্টা পর ঘুমাত। কারণ, ঘুম না আসা আলোর ওপর যতটা না নির্ভর করে, তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে তাপমাত্রার ওপর।
বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তাঁদের চলাফেরা ও ঘুমের সময়-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। সব মিলিয়ে তাঁরা ১ হাজার ১৬৫ দিনের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেন। তাঁরা দেখেন এই তিন গ্রুপের মানুষেরা গড়ে সাড়ে ছয় ঘন্টা ঘুমান। এই সংখ্যাটি ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে শহরের মানুষের ঘুমের পরিমাণের চেয়ে বেশি তো নয়ই, বরং অনেক কম।
আধুনিক শহরবাসী মানুষ রাতে গড়ে অন্তত সাড়ে সাত ঘন্টা ঘুমায়। আবার এটাও ঠিক নয় যে আগের দিনের মানুষ সন্ধ্যা হতে না হতেই ঘুমিয়ে পড়ত। বরং আদিমকালের মানুষ সূর্যাস্তের অন্তত সোয়া তিন ঘন্টা পর ঘুমাত। কারণ, ঘুম না আসা আলোর ওপর যতটা না নির্ভর করে, তারচেয়ে বেশি নির্ভর করে তাপমাত্রার ওপর।
দিনের তাপ কমে ঠাণ্ডা হতে সূর্যাস্তরে পর অন্তত তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগে। তাই রাতের ঘুম আসতে দেরি হয়। আদিম যুগের মানুষ সাধারণ দিনে ঘুমাত না ( সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, ১৭ অক্টোবর ২০১৫)। আমরা যে বলি দিনে সামান্য ঘুম আদিমকাল থেকে চলে আসছে, সেটা ঠিক নয়। সে যুগের মানুষ দিনের ঘুম ঘুমাত গড়ে পাঁচ দিনে হয়তো এক দিন।
আর শীতকালে দিনে ঘুমাতই না। মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা ছিল, কিন্তু নির্ঘুম রাত কি জিনিস, সেটা তারা জানতই না। অথচ আধুনিক যুগে মানুষ নির্ঘুম রোগে ভোগে, দুশ্চিন্তায় সারা রাত ঘুম আসে না। ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে হয়। এই পার্থক্য কেন, তা খুঁজে দেখার জন্য আরও গবেষণা দরকার।
