সময় কীভাবে মাপা হয়
একটা বছর চলে গেল। নতুন বছর এসেছে। তার অর্থ, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে এসেছে। এর মধ্যে প্রতিদিন পৃথিবী তার নিজের চারপাশে ২৪ ঘণ্টায় একবার করে ঘুরছে। প্রতি ঘণ্টাকে ৬০ মিনিট ও প্রতি মিনিটকে ৬০ সেকেন্ডে ভাগ করে আমরা সাধারণত সময় মাপি। সনাতন এই হিসাবে, গড় সৌরদিবসকে ৮৬ হাজার ৪০০ দিয়ে ভাগ করলে পাই সময়ের একক, সেকেন্ড। কিন্তু গড় দিবসের হেরফের হয়। কারণ, এটা নির্ভর করে মহাবিশ্বে গ্রহ-নক্ষত্রের পরিভ্রমণের ওপর, তাই আরও নিখুঁত একটি একক বের করার প্রয়োজন দেখা দেয়।
পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণের ভিত্তিতে সময় মাপার পদ্ধতিটির চেয়েও অধিকতর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি এখন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক পদ্ধতি হলো, পরমাণুর কম্পনের ভিত্তিতে সময় পরিমাপ করা। একটি সিসিয়াম পরমাণু দুটি বিকীরণ অবস্থার (র্যাডিয়েশন স্টেট) মধ্যে ৯১৯ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজার ৭৭০ বার দোলনকালকে এক সেকেন্ড ধরা হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে সেকেন্ডের এই সংজ্ঞা প্রচলিত। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেকনোলজি এ বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
ছায়াপথ নীহারিকার কেন্দ্রের চারপাশে সূর্যের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ২২ কোটি বছর। এর ভিত্তিতেই এক মহাজাগতিক বছর হিসাব করা হয়।
সময়ের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী মহাবিশ্বের বয়স প্রায় এক হাজার ৩৭০ কোটি বছর। এত বিরাট মানের সংখ্যা নিয়ে হিসাব করা কঠিন। সে জন্য সৌরবছরের বিকল্প হিসেবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বছরের পরিমাপ হিসেবে মহাজাগতিক বছর (কসমিক ইয়ার) ব্যবহার করেন। ছায়াপথ নীহারিকার কেন্দ্রের চারপাশে সূর্যের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২২৫ মিলিয়ন (সাড়ে ২২ কোটি) বছর। এর ভিত্তিতেই এক মহাজাগতিক বছর হিসাব করা হয়।
মহাবিশ্বের বয়স বের করার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের হার পরিমাপ করেন, যা 'হাবল প্যারামিটার' নামে অভিহিত। বিংশ শতাব্দীর খ্যাতনামা জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের নামে এই প্যারামিটারের নামকরণ করা হয়েছে। হাবল লক্ষ করেছেন, নীহারিকাগুলো দ্রুততর গতিতে প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণের হার নির্ণয়কারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। হাবল প্যারামিটারের বিপরীত মান (রেসিপ্রকাল) এই মহাবিশ্বের বয়সের প্রায় সমান, যা এক হাজার ৩৭০ কোটি বছর বলে ধরা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য পড়ুন নিউইয়র্ক টাইমস, ২২ জানুয়ারি সংখ্যা।
