কেপলার ৪৫২বি গ্রহ কি আমাদের সেকেন্ড হোম হতে পারে

কেপলার ৪৫২বি গ্রহের কাল্পনিক ছবিছবি: নাসা

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মহাকাশে পৃথিবীর মতোই একটি গ্রহ আবিষ্কার করেছিল। সেখানে প্রাণীর বাঁচার মতো পরিবেশ থাকতে পারে। বলা হচ্ছে, এটি দ্বিতীয় পৃথিবী! গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে কেপলার ৪৫২বি। এটি আমাদের সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্রের চারপাশে প্রায় সমান দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করছে। এর আয়তন পৃথিবীর চেয়ে মাত্র ৬০ শতাংশ বেশি এবং সেখানে ৩৮৫ দিনে বছর, আমাদের চেয়ে মাত্র ২০ দিন বেশি। এত মিল আছে বলেই বিজ্ঞানীরা ভাবছেন সেখানে একদিন মানুষ গেলে হয়তো বেঁচে থাকতে পারবে।

কেপলার ৪৫২বি গ্রহ সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্রের চারপাশে প্রায় সমান দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করছে
ছবি: উইকিপিডিয়া

আমাদের সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর সঙ্গে মিল আছে এমন অন্তত হাজার খানেক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যেগুলোর মধ্যে সদ্য আবিষ্কৃত গ্রহটিতে প্রাণের টিকে থাকার অনুকূল পরিবেশ সবচেয়ে ভালো। সেখানে পৃথিবীর মতো পাহাড় ও জলবায়ু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানি থাকার সম্ভাবনার কথাও বিজ্ঞানীরা বলছেন।

তাহলে কি একদিন সেই পৃথিবীটি আমাদের দ্বিতীয় আবাসভূমি হতে পারে? পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখানে যদি আমরা টিকে থাকতে না পারি, তাহলে আমরা কি ওই গ্রহে গিয়ে থাকতে পারব?

আরও পড়ুন
কেপলার ৪৫২বি গ্রহ সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্রের চারপাশে প্রায় সমান দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করছে। এর আয়তন পৃথিবীর চেয়ে মাত্র ৬০ শতাংশ বেশি এবং সেখানে ৩৮৫ দিনে এক বছর।

এখানেই সমস্যা। গ্রহটি ১ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে। আলোর গতি সেকেন্ড ১ লাখ ৮৬ হাজার মাইল। এই বেগে আলো এক বছরে যতটা দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বলা হয় এক আলোক বর্ষ দূরত্ব। কোনো মহাকাশযান বা রকেটে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট। আমাদের দূরবর্তী গ্রহ প্লুটোতে পৌঁছাতে সে রকম গতির একটি মহাশূন্যযানের লেগেছে ১০ বছর। আর আমাদের সেকেন্ড হোম, কেপলার ৪৫২বি-তে যেতে লাগবে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ বছর। তারপরও সেখানে যাওয়া একেবারে অসম্ভব নয়। ১৫০ ছেলেমেয়ের একটি দল রকেটে আজ রওনা দিলে তাদের নাতি-পুতি... এবং তাদের নাতি-পুতি কোনো একদিন হয়তো সেখানে পৌছে যাবে।

পৃথিবী থেকে মহাকাশযানে কেপলার ৪৫২বি-তে যেতে সময় লাগবে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ বছর
ছবি: শাটারস্টোক

কিন্তু দলের সদস্যসংখ্যা ১৫০ কেন? কারণ, অতীতে যখন মানুষ ছোট ছোট ক্ল্যানে বিভক্ত ছিল, তখন দেখা গেছে ১৫০ জন সদস্যের একটি ক্ল্যান অনায়াসে সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে টিকে থাকতে পারত। সে জন্যই আধুনিক ব্যবস্থাপনায় বলা হয়, কোনো অসাধ্য সাধন করতে হলে ১৫০ জনের দল লাগে।

এটা ঠিক যে, এখন পৃথিবীর মতো যে গ্রহটি নাসার বিজ্ঞানীরা দেখছেন, সেটি তো আসলে গ্রহটির ১ হাজার ৪০০ বছর আগের চেহারা। কারণ, সেখান থেকে যে আলোকরশ্মি রওনা দিয়েছিল ১ হাজার ৪০০ বছর আগে সেটিই আজ যখন নাসার বিজ্ঞানীদের কেপলার টেলিস্কোপে পৌঁছাল, তখনই তো বিজ্ঞানীরা তাকে দেখলেন।

আরও পড়ুন
আমাদের দূরবর্তী গ্রহ প্লুটোতে পৌঁছাতে সে রকম গতির একটি মহাশূন্যযানের লেগেছে ১০ বছর। আর আমাদের সেকেন্ড হোম, কেপলার ৪৫২বি-তে যেতে লাগবে অন্তত ২ কোটি ৬০ লাখ বছর।

তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে এত সময় পর সেই গ্রহ টিকে আছে কি? আর থাকলে, তার পরিবেশ কি অবিকল সে রকমই আছে? এর মধ্যেই গ্রহটি ভেঙেচুরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে কি না? এর উত্তরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলেন, মহাজাগতিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও পরিবর্তন ঘটতে সময় লেগে যায় শত শত বা হাজার হাজার কোটি বছর। তাই মহাজাগতিক হিসাবের ক্ষেত্রে ২ কোটি ৬০ লাখ বছর আমাদের পৃথিবীর সময়ের পরিমাপে এক-দেড় সেকেন্ডের মতো। এই সামান্য সময়ে কী-ইবা আর পরিবর্তন ঘটবে!

শিল্পীর কল্পনায় কেপলার ৪৫২বি গ্রহের ছবি
ছবি: রেডিট

এখন দেখতে হবে কেপলার ৪৫২বি-এর পরিবেশ ও জলবায়ু কতটা অনুকূল। সেখানে গাছপালা-বাতাস-সমুদ্র-নদী আছে কি না। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে হয়তো কয়েক হাজার কোটি বছর পর আমরা পৃথিবীর এই জমজ ভাই বা বোনের আঙিনায় পা রাখতে পারব!

আরও পড়ুন