বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত

শেষ হলো বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬। গত ৮ মে, শুক্রবার রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পর্বের নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী ১২ থেকে ১৯ জুলাই লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। এবারের আসরের স্লোগান ‘আশা জাগানিয়া লিথুয়ানিয়া’।

এপ্রিল মাসজুড়ে দেশের ১০টি অঞ্চলে আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়। সেখান থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্ব বা বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাঠ্যক্রম অনুসারে সাতটি বিষয়ের ওপর সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা যাচাই করা হয়। বিষয়গুলো হলো কোষতত্ত্ব ও প্রাণরসায়ন, প্রাণী ও উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান ও শারীরতত্ত্ব, প্রাণী আচরণবিদ্যা, বাস্তুসংস্থান, জৈব অভিব্যক্তি ও বংশগতিবিদ্যা, বায়োসিস্টেমেটিকস এবং বায়োইনফরমেটিকস।

দিনের কার্যক্রম শুরু হয় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বহুনির্বাচনী পরীক্ষা। মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয় বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এই পর্ব শুরু হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রশ্নোত্তর পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন

বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসিনা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং এআইইউবির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাখহরি সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু।

আয়োজকেরা জানান, তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা ও গবেষণামুখী মানসিকতা তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন তাঁরা।

দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচিত ২০ জন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৩–১৬ মে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে অনুষ্ঠিতব্য বায়োক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও সেকেন্ড রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া পাঁচজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর নামে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু পুরস্কার পেয়েছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আরিজ আনাস, উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী পুরস্কার পেয়েছে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের মো. সিনান সাইফি রহমান, গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য পুরস্কার পেয়েছে ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আহনাফ দাইয়ান, এ কে এম নুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছে নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. শাহরিন আল-মুহাইমিন এবং এস এম হাসানুজ্জামান পুরস্কার পেয়েছে মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শাফিনা কবির।

এই আয়োজনের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি। ভেন্যু পার্টনার হিসেবে ছিল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। ট্রেনিং পার্টনার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি। টেকনিক্যাল পার্টনার ল্যাব বাংলা এবং ম্যাগাজিন পার্টনার কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা।

আরও পড়ুন