শেষ হলো এনওয়াইবিবি জাতীয় আন্তঃস্কুল বায়োটেকনোলজি কুইজ প্রতিযোগিতা

দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জীবপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতা। গত ৯ মে, শনিবার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এনওয়াইবিবি জাতীয় আন্তঃস্কুল বায়োটেকনোলজি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর নানা আয়োজনে মুখর এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। রানার্সআপ হয়েছে বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়।

৯ মে সকালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান এস এম রফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন এনওয়াইবিবির নির্বাহী কর্মকর্তা অনিক সাহা এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক জাহিন আলম। উদ্বোধনী পর্ব শেষে ল্যাবরেটরিতে বায়োটেকনোলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংবিষয়ক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিনবিজ্ঞানী ও ব্যানবেইসের পরিচালক আবেদ চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন এনওয়াইবিবির পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক মুশতাক ইবনে আইয়ুব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞান অনুষদের উপদেষ্টা এম এ মাজিদ। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন এনওয়াইবিবির নিশাত তারান্নুম হক।

আরও পড়ুন

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জীবপ্রযুক্তি আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখবে। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ বিজ্ঞানচর্চার জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। 

এরপর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এনওয়াইবিবি ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়। দেশের ১২টি জেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী চার রাউন্ডের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং চূড়ান্ত ধাপ শেষে মোট ছয়টি দল উত্তীর্ণ হয় ফাইনালে।

ফাইনালে উত্তীর্ণ অন্য দলগুলো ছিল প্লেজ হার্বার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়।

কুইজ পরিচালনা করেন এনওয়াইবিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন মাহিন রানা, চন্দ্রবিন্দু ও এমি। পুরো আয়োজনটি দেখভাল করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। চার রাউন্ডের এ প্রতিযোগিতায় জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ বিষয়ে নানা প্রশ্নমালা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণীবিজ্ঞান, মানব শরীরতত্ত্ব, রোগতত্ত্ব, পরিবেশ, সামুদ্রিক প্রাণী, অণুজীববিজ্ঞান, বায়োইনফরমেটিকসসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা।

আরও পড়ুন