ওয়েলকাম ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে গবেষণা করছেন কয়েকজন গবেষকছবি: চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন / ফেসবুক

বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদান ‘ওয়েলকাম ডিসকভারি অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচআরএফ)। বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্যসুরক্ষাবিষয়ক এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে এই অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ওয়েলকাম।

সিএইচআরএফের তথ্যমতে, সম্ভবত প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান এই সম্মানজনক অনুদান পেল। এই অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের প্রাণঘাতী ভাইরাল নিউমোনিয়া নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করবে।

বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ নিউমোনিয়া। এর নেপথ্যে রয়েছে রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি। এই ভাইরাস সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে গুরুতর নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে। অনেক শিশুকে এই ভাইরাসের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, এমনকি কেউ কেউ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যায়।

আরএসভি কারও ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতো উপসর্গ তৈরি করে, আবার কারও ক্ষেত্রে কেন তা মারাত্মক নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়; এই রহস্যের জট খুলতেই গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে সিএইচআরএফের গবেষকেরা। যেহেতু শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর প্রথম আঘাতটি হানে নাকে, তাই এই গবেষণা মূলত নাকের ভেতরের কোষ বা মিউকোসা নিয়ে করা হবে।

গবেষকেরা দেখতে চান ভাইরাস, শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাব কীভাবে নাকের কোষগুলোকে প্রভাবিত করে। নাকের ভেতরের কোষ ও প্রতিরোধী কোষগুলোর আচরণ বিশ্লেষণ করে তাঁরা বোঝার চেষ্টা করবেন, ঠিক কোন শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ মারাত্মক হয়ে উঠছে এবং কেন।

আরও পড়ুন

এই গবেষণায় ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক সিঙ্গল-সেল জিনোমিকস প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি কোষের ভেতরের জিনগত কার্যকলাপ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ফলে গবেষকেরা কোষের ভেতরে কী ঘটছে, তা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এ ছাড়া নাকের কোষ দিয়ে ল্যাবে বিশেষ মডিউল তৈরি করা হবে, যা ব্যবহার করে শরীরের বাইরের ভাইরাস ও ভেতরের কোষের পারস্পরিক সম্পর্ক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সিএইচআরএফের যোগেশ হুদা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালের হোসে অরদোভ্যাস-মন্তানেস ও ব্রুস হরউইৎজ।

বাংলাদেশি অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা
ছবি: খালেদ সরকার

গবেষণাটি মূলত পরিচালিত হবে বাংলাদেশের শিশু ও তাদের পরিবারের ওপর। এ জন্য হাসপাতাল ও কমিউনিটি পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যদিও গবেষণাটি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে, তবে এর ফলাফল শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত রোগ বিশ্বজুড়েই একটি বড় স্বাস্থ্যসমস্যা। এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে নতুন প্রতিরোধ পদ্ধতি, দ্রুত রোগনির্ণয় এবং উন্নত চিকিৎসাপরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। নাকের ভেতরের ক্ষুদ্র কোষ থেকে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান ভবিষ্যতে হাজারো শিশুর প্রাণ রক্ষা করবে বলে মনে করছেন সিএইচআরএফের গবেষকেরা।

আরও পড়ুন