গবেষণার জন্য ভালো মানের রিসার্চ পেপার কীভাবে খুঁজবেন, কোথায় পাবেন

গবেষণার মান নির্ভর করে সঠিক রেফারেন্স এবং আগের কাজের বিশ্লেষণের ওপর। গুগল স্কলার, সায়েন্স ডিরেক্ট বা আইইইই এক্সপ্লোরের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো তথ্যের ভাণ্ডার হলেও সঠিক পেপার খুঁজে পেতে জানতে হয় কিছু কৌশল। কীওয়ার্ড ছোট করা, বুলিয়ান অপারেটর ব্যবহার করা এবং ভালো পেপারের রেফারেন্স লিস্ট চেক করার মাধ্যমেই একজন গবেষক তার কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে পেতে পারেন।

গবেষণার মান অনেকটাই নির্ভর করে কাজের বিশ্লেষণের ওপরছবি: সেবাস্তিয়ান থিবল্ট

গবেষণা সম্পর্কিত কাজের কথা উঠলেই প্রথম যে বিষয়টি প্রয়োজন হয়, তা হলো আমাদের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চমানের গবেষণাপত্র। বিশেষ করে স্কলারশিপের আবেদন, থিসিস লেখা বা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির সময় উপযুক্ত পেপার খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উচ্চশিক্ষা পুরোপুরি গবেষণানির্ভর এবং গবেষণার ভিত্তি হিসেবে আগের কাজগুলোকে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

রিসার্চ পেপারের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে রেজাল্ট এবং ডিসকাশন অংশ, আগের গবেষণার তুলনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে লেখা হয়। এ ছাড়া রেফারেন্স অংশও মানসম্মত হওয়া জরুরি। একটি পেপারের মান অনেকটাই নির্ভর করে তার রেফারেন্সের ওপর। তাই সঠিক এবং একই ধরনের কাজের পেপার খুঁজে পাওয়া গবেষণার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়।

ভালো পেপার বলতে সাধারণত বোঝানো হয় এমন গবেষণাপত্র, যা খ্যাতনামা জার্নালে প্রকাশিত, বিশ্বস্ত প্রকাশনা সংস্থার অধীনে প্রকাশিত এবং উচ্চমানের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে উপস্থাপিত। এসব জায়গায় গবেষণাপত্র প্রকাশের আগে কঠোর মান যাচাই বা পিয়ার রিভিউ করা হয়। ফলে কাজগুলোর নির্ভরযোগ্যতা বেশি থাকে।

আরও পড়ুন
একটি পেপারের মান অনেকটাই নির্ভর করে তার রেফারেন্সের ওপর। তাই সঠিক এবং একই ধরনের কাজের পেপার খুঁজে পাওয়া গবেষণার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজনীয়।

ইন্টারনেটে তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য সঠিক জায়গায় খুঁজতে হবে। সেরকম কিছু সাইট হলো:

গুগল স্কলার: গুগলের মতোই সহজ, তবে এখানে শুধু একাডেমিক লেখা ও গবেষণাপত্র পাওয়া যায়। ভালো ও মাঝারি মানের সব ধরনের পেপারই থাকে, তাই কিছুটা বাছাই করে নিতে হয়।

গবেষণাপত্রের জন্য ব্যবহৃত প্লাটফর্ম গুগল স্কলার
ছবি: উইকিপিডিয়া

সাইলিট: গুগল স্কলারের মতোই একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে এখানে সাধারণত ভালো মানের জার্নাল পেপার বেশি পাওয়া যায় এবং এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

ডিওএএজে: ডিরেক্টরি অব ওপেন অ্যাক্সেস জার্নালস। এখানে ভালো একটি সংগ্রহ আছে। বিভিন্ন বিষয়ের উচ্চমানের গবেষণা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

সায়েন্স ডাইরেক্ট: এলসেভিয়ার প্রকাশনীর জার্নালে প্রকাশিত প্রবন্ধ পাওয়া যায় এখানে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলোর মান খুবই ভালো।

পাবমেড: মেডিকেল, বায়োলজি এবং লাইফ সায়েন্সের গবেষণার জন্য এটি নির্ভরযোগ্য একটি উৎস।

আইইইই এক্সপ্লোর: ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তি–সংক্রান্ত গবেষণা ও কনফারেন্স পেপার খুঁজে পাওয়ার জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন
গুগল স্কলারের মতোই সাইলিট একটি প্ল্যাটফর্ম। তবে এখানে সাধারণত ভালো মানের জার্নাল পেপার বেশি পাওয়া যায় এবং এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে সার্চ করলে সঠিক পেপার পাওয়া যাবে? রিসার্চ পেপার খুঁজে বের করার কিছু কার্যকর কৌশল আছে। নতুনরাও খুব সহজে এগুলো ব্যবহার করতে পারে। বড় শিরোনাম হুবহু সার্চ দিলে অনেক সময় ভালো ফল মেলে না। তাই মূল টপিককে ভাগ করে ছোট কীওয়ার্ডে সার্চ করতে হয়। যেমন, Evaluation of Classical Programming Languages for Quantum Computing লিখে সার্চ না দিয়ে আপনি আলাদা আলাদা ভাবে সার্চ করতে পারেন। যেমন, ‘Classical Programming Languages Evaluation’ বা ‘Programming Languages for Quantum Computing’। এতে সার্চ রেজাল্ট অনেক বেশি নির্ভুল হয়।

সার্চ করার সময় এই তিনটি শব্দ জাদুর মতো কাজ করে। AND, OR এবং NOT। সার্চ রেজাল্টে দুটি বিষয়ই চাইলে AND দিয়ে সার্চ করুন। যেমন, Supercomputers AND Quantum Computing। যেকোনো দুটির একটি চাইলে OR ব্যবহার করুন। যেমন Supercomputers OR Quantum Computing। কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বাদ দিতে চাইলে ব্যবহার করবেন NOT। যেমন, Quantum Computing NOT Supercomputers। এতে নির্দিষ্ট গবেষণাপত্র খুঁজে পাবেন সহজে। এগুলো ব্যবহার করলে সার্চ প্রক্রিয়া অনেক বেশি টার্গেটেড হয়।

আরও পড়ুন
সার্চ করার সময় এই তিনটি শব্দ AND, OR এবং NOT জাদুর মতো কাজ করে। সার্চ রেজাল্টে দুটি বিষয়ই চাইলে AND দিয়ে সার্চ করুন। যেকোনো দুটির একটি চাইলে OR ব্যবহার করুন।

আপনি যদি চান, পুরো বাক্যাংশটি যেসব পেপারে আছে শুধু সেগুলোই দেখানো হোক, তাহলে শব্দগুলো উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”) ব্যবহার করে লিখতে পারেন। যেমন, “Supercomputers and quantum computing”। এতে অপ্রাসঙ্গিক পেপার বাদ পড়ে যায়।

এর পাশাপাশি আরও কিছু কার্যকর কৌশল আছে।

রিভিউ পেপার: একটি রিভিউ পেপার পুরো ক্ষেত্রের সারসংক্ষেপ দেয়। কোন কোন কাজ হয়েছে, কোনগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং কোথায় আরও গবেষণার সুযোগ আছে তা বোঝা যায়। নতুন টপিক শুরু করার জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।

ব্যাকওয়ার্ড সার্চ: ভালো পেপারের রেফারেন্স তালিকায় সাধারণত আরও মূল্যবান পেপারের নাম থাকে। রেফারেন্স ধরে ধরে আগের গবেষণা খুঁজে বের করার পদ্ধতি ব্যাকওয়ার্ড সার্চ নামে পরিচিত।

গুগল স্কলার অ্যালার্ট: নির্দিষ্ট কীওয়ার্ড দিয়ে অ্যালার্ট সেট করলে নতুন কোনো পেপার প্রকাশিত হলেই ইমেইলে নোটিফিকেশন পাওয়া যায়।

ভালো গবেষণাপত্র খুঁজে পাওয়া প্রথমে কঠিন মনে হলেও এটি একটি শেখার মতো দক্ষতা। সঠিক প্ল্যাটফর্ম, উপযুক্ত কীওয়ার্ড এবং কিছু সার্চ কৌশল জানলে সহজেই মানসম্মত পেপার পাওয়া সম্ভব। তথ্য খোঁজার সঠিক পথ শিখে নিলেই গবেষণার প্রকৃত যাত্রা শুরু করা যায়।

লেখক: শিক্ষার্থী, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন