এবারের বিজ্ঞানচিন্তার ফেব্রুয়ারি সংখ্যার কেমন হলো
ফেব্রুয়ারি মাস মানেই নতুন বই। প্রতিবছর বইপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে বইমেলার অপেক্ষা করেন। তবে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার বইমেলা একটু দেরিতে হচ্ছে। বইপ্রেমীদের এই অপেক্ষার সময়টা যদি বই নিয়ে চমৎকার সব লেখা পড়ে কাটে, তবে মন্দ হয় না। সেই কথা ভেবেই হয়তো বিজ্ঞানচিন্তা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি সংখ্যা করেছে।
এবারের সংখ্যার মলাট কাহিনি ও ফিচারের বিষয়গুলো বেশ দারুণ। মলাটের ওপর বড় করে লেখা ‘দুনিয়া কাঁপানো ১২ বই’। শিরোনাম দেখেই কৌতূহল জাগে, কোন বইগুলো আসলে পৃথিবী বদলে দিয়েছে।
সূচিপত্র খুলতেই চোখে পড়ল বই নিয়ে প্রথম মলাট কাহিনি ‘মানবসভ্যতা যার কাছে ঋণী’। লেখক বিজ্ঞানবক্তা আসিফ এটি লিখেছেন। তিনি আলোচনা করেছেন আনুমানিক ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রকাশিত ইউক্লিডের বিখ্যাত বই এলিমেন্টস নিয়ে। কেন এই বইটিকে অনেকে জ্যামিতির বাইবেল বলেন, লেখক তা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। ১৩ খণ্ডের এই বইটির ওপর ভিত্তি করেই যে আজকের জ্যামিতির কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, সেই দারুণ ইতিহাসও এখানে উঠে এসেছে।
মলাট কাহিনির বাকি লেখাগুলোও জগৎবিখ্যাত সব বই নিয়ে। ইতিহাসের সব বড় পরিবর্তন কিন্তু সবসময় অস্ত্রের মাধ্যমে আসেনি। অনেক সময় একটি বই পুরো পৃথিবীর চিন্তার গতিপথ বদলে দিয়েছে। কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবালা, কিতাব আল মানাজির, আল কানুন ফিত তিব, প্রিন্সিপিয়া, অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস, রিলেটিভিটি, কসমস এবং আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম বইগুলো নিয়ে ফিচারগুলো দারুণ। বিজ্ঞান ও সভ্যতার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এই বইগুলো নিয়ে লেখকেরা অনেক অজানা তথ্য তুলে ধরেছেন, যা পড়ে সত্যিই অবাক হতে হয়।
মলাট কাহিনির বাকি লেখাগুলোও জগৎবিখ্যাত সব বই নিয়ে। ইতিহাসের সব বড় পরিবর্তন কিন্তু সবসময় অস্ত্রের মাধ্যমে আসেনি। অনেক সময় একটি বই পুরো পৃথিবীর চিন্তার গতিপথ বদলে দিয়েছে।
এরপর সূচিপত্রে চোখ পড়ল E= কেন লেখাটায়। আইনস্টাইনের এই বিখ্যাত সমীকরণটি আমরা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু এই ছোট্ট সমীকরণটি কেন এত শক্তিশালী কিংবা এটি আসলে কী বোঝায়, তা নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে। এই লেখায় খুব সহজভাবে সেটি তুলে ধরা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় কেবল গুরুগম্ভীর বিজ্ঞানের লেখা আছে এমন নয়। কিশোর ও তরুণ পাঠকদের জন্য এতে রয়েছে আহসান হাবীবের বিজ্ঞান রম্য ও দ্য ম্যাথমেটিশিয়ান নামে একটি কল্পগল্প। এছাড়া ছড়া, শব্দজট, গণিতের সমস্যা, আইনস্টাইনের ধাঁধা, বুদ্ধির ব্যায়াম, গোয়েন্দা ধাঁধা ও কুইজ তো আছেই। প্রতিটি ধাঁধা সমাধান করে পাঠালে পাঠকদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগ।
এবারের ফিচারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি সতর্কতামূলক লেখা হয়েছে। আমাদের নিত্যসঙ্গী স্মার্টফোন কীভাবে গোপনে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে, সে বিষয়ে পাঠকদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে এই লেখায়।
এছাড়াও প্রকৃতি ও জীববিজ্ঞানের কৌতূহলী পাঠকদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় সব প্রশ্নের উত্তর। গাছ কি আসলেই মানুষের মতো ঘুমায় কিংবা মৌমাছি ঠিক কীভাবে পরিশ্রম করে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে, এই রহস্যগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মিলবে এবারের সংখ্যায়।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে এবারের সংখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে। ‘বার্ধক্য কি আসলেই ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব’ এই প্রশ্নের উত্তর আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণার আলোকে খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
সাধারণ পাঠকদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে কিছু বিষয় রাখা হয়েছে। ঘরের কোণে থাকা সাধারণ স্মোক ডিটেক্টর কেন তেজস্ক্রিয়, কীভাবে কাজ করে কিংবা বিভিন্ন গাণিতিক সূত্রের জ্যামিতিক প্রমাণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংখ্যা।