কাছাকাছি ভবিষ্যতের এক পৃথিবী। সেখানে মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ন্ত্রণ করে প্রযুক্তি। কাছাকাছি ভবিষ্যতের এক পৃথিবী। সেখানে মানুষের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ন্ত্রণ করে প্রযুক্তি। গাড়ি নিজে নিজে চলে, ঘরের কাজ করে দেয় স্মার্ট যন্ত্র। কিন্তু একজন প্রযুক্তি একদমই পছন্দ করে না। নিজের হাতে কাজ করতে ভালোবাসে। এমন সময় এক ভয়ংকর হামলায় চোখের সামনে তাঁর স্ত্রীকে খুন করা হলো, তাকে করে দেওয়া হলো চিরতরে পঙ্গু। ঘাড়ের নিচ থেকে তার পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্ত। হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে সে শুধু মৃত্যুর দিন গুনছে। ঠিক তখন এক বন্ধু তাকে এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রস্তাব দেয়, যাতে সে আবার হাঁটতে পারবে, নিতে পারবে স্ত্রীর হত্যার প্রতিশোধ!
২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন থ্রিলার মুভি আপগ্রেড ঠিক এই টানটান উত্তেজনার গল্পই বলে। মুভির মূল চরিত্র গ্রে ট্রেস একজন প্রযুক্তিবিদ্বেষী মানুষ। মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়ে এবং নিজে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে সে চরম হতাশায় দিন কাটায়। এ সময় এক ধনকুবের উদ্ভাবক গ্রেকে একটি গোপন ও পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির প্রস্তাব দেয়। নাম স্টেম। এটি মূলত একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মাইক্রোচিপ। মেরুদণ্ডে এই চিপ বসানোর পর গ্রে শুধু তার হাঁটার ক্ষমতাই ফিরে পায় না, সে পরিণত হয় এক অমানবিক শক্তির অধিকারী সুপারহিউম্যানে। শুরু হয় স্ত্রীর খুনিদের খুঁজে বের করার এক রুদ্ধশ্বাস মিশন।
মুভিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অভিনব অ্যাকশন দৃশ্য এবং গ্রে চরিত্রে লোগান মার্শাল-গ্রিনের দুর্দান্ত অভিনয়। চিপ বসানোর পর গ্রের শরীর যখন স্টেমের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন তার রোবোটিক ও যান্ত্রিক নড়াচড়াগুলো দেখার মতো! নিজের শরীর নিয়ন্ত্রণ করছে একটা যন্ত্র, আর গ্রে নিজে অবাক হয়ে নিজের শরীরের মারামারি দেখছে। লোগান মার্শাল-গ্রিন এই অনুভূতিটা এত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে দর্শক হিসেবে আপনিও শিহরিত হবেন।
একনজরে
আপগ্রেড
পরিচালক: লি ওয়ানেল
প্রধান অভিনয়শিল্পী: লোগান মার্শাল-গ্রিন
ধরন: অ্যাকশন, সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার
মুক্তি: ২০১৮ সাল
ব্যাপ্তি: ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট
আইএমডিবি রেটিং: ৭.৫/১০
সায়েন্স ফিকশন মুভিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানেই আমরা সাধারণত ধ্বংসাত্মক কোনো যন্ত্রের কথা ভাবি। কিন্তু এই মুভির স্টেম একেবারেই আলাদা। সে গ্রের মাথার ভেতরে কথা বলে, যেকোনো বিপদের আগে নিখুঁত গাণিতিক হিসাব কষে দেয়, এমনকি মারামারির আগে গ্রের কাছ থেকে শরীর নিয়ন্ত্রণের অনুমতি চেয়ে নেয়! গ্রে এবং তার মাথার ভেতর বাস করা স্টেমের মধ্যকার কথোপকথনগুলো মুভিতে অদ্ভুত এক থ্রিল তৈরি করে।
এটি কেবল একটি সাধারণ প্রতিশোধের গল্প নয়। মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে মানুষের অসহায়ত্ব এবং প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার এক ভয়ংকর অন্ধকার দিক মুভিটিতে খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মুভির শেষ দৃশ্যটি আপনাকে রীতিমতো চমকে দেবে, যা নিয়ে আপনি মুভি শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ ভাবতে বাধ্য হবেন।
মুভিটিতে বেশ কিছু ডার্ক ও ভায়োলেন্ট অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে। তাই এটি শিশুদের নিয়ে না দেখাই ভালো। কিন্তু আপনি যদি টানটান উত্তেজনার, ডার্ক থিমের এবং দারুণ অ্যাকশনসমৃদ্ধ সায়েন্স ফিকশন মুভি দেখতে পছন্দ করেন, তবে আপগ্রেড আপনাকে মোটেও হতাশ করবে না।