বিজ্ঞানমনস্কতা!
বিজ্ঞানী না হতে পারি, বিজ্ঞানমনস্ক হতে বাধা কোথায়?
এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিন তরুণ আড্ডা দিচ্ছিলেন লেকের ধারে বসে। কার বাবা কত বিজ্ঞানমনস্ক।
প্রথমজন—আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের সবাই বিজ্ঞানমনস্ক। যেমন আমার বাবার কথাই যদি বলি, তাহলে বলতে হয়, বাবা আমাদের যে নতুন বাড়িটা তৈরি করেছেন, সেটা ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে দাঁড়িয়ে আছে! বাবা এটা এভাবেই তৈরি করেছেন।
—সেকি! কেন?
—কারণ বাবা জানেন, শিগগিরই একটা বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা আছে। তখন বেশির ভাগ বাড়িঘর ৪৫ ডিগ্রি কোণে হেলে পড়তে পারে, তাই আগেই...
দ্বিতীয়জন—ওহ্, সত্যি দারুণ...তবে আমার বাবার কথা যদি বলি, তবে বলতে হবে, তিনি সেই ছাত্রাবস্থা থেকে বিজ্ঞানমনস্ক। যেমন ধর, তিনি সব সময় কলা খান খোসাসহ!
—সেকি! কেন?
—কলার খোসায় কি অনেক ভাইটামিন?
—না না, সেটা না।...কারণ, কলার ভেতরে যে কলাই আছে, বাবা সেটা ভালো করে জানেন, আর তাই অনাবশ্যক কখনো কলা ছিলে সময় নষ্ট করেন না তিনি।
দ্বিতীয়জন—ওহ্, সত্যি দারুণ...তবে আমার বাবার কথা যদি বলি, তবে বলতে হবে, তিনি সেই ছাত্রাবস্থা থেকে বিজ্ঞানমনস্ক। যেমন ধর, তিনি সব সময় কলা খান খোসাসহ!
তৃতীয়জন—সত্যি, এভাবে কখনো ভেবে দেখিনি তো। তবে বলতেই হবে, আমার বাড়িতেও আমরা ভাই-বোন-মা–বাবা সবাই অবশ্য বিজ্ঞানমনস্ক। তোদের বাবার কথা তো শুনলাম, এবার আমার বাবার কথা যদি বলি, তাহলে বলব...বাবা সকালে বাথরুমে যান সব সময় দুটো বদনা নিয়ে।
—কেন? দুটো বদনা কেন?
—একটা খালি, একটা পানি ভরা।
—কিন্তু কেন?
—কারণ, বাথরুমে যাওয়ার পর যদি বাথরুম না পায়...তাই খালি বদনা!
তিন বিজ্ঞানমনস্ক বাবার পুত্রদের বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে আলোচনা আরও কতক্ষণ চলেছিল, বলা মুশকিল। কিন্তু পৃথিবীর অনেক বিজ্ঞানী তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে কখনো কখনো বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয় দেননি। পদার্থবিদ ফাইনম্যানের কথাই ধরা যাক। ম্যানহাটান প্রজেক্টের আওতায় যখন প্রথম অ্যাটম বোমা বিস্ফোরণ হলো, তখন সব বিজ্ঞানী বিশেষ ধরনের কালো চশমা পরে সেই বিশাল অচিন্তনীয় ‘ব্যাঙের ছাতা’ বিস্ফোরণ অবলোকন করেছিলেন। কিন্তু নোবেল প্রাইজ পাওয়া পৃথিবীখ্যাত বিজ্ঞানী ফাইনম্যান বলেছিলেন, ‘এ জিনিস খালি চোখে দেখতেই হবে আমাকে!’
