বিজ্ঞানীদের দাম্পত্য জীবন!
বিজ্ঞানীদের দাম্পত্য জীবন কেমন? বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নাকি ভালো নয়। এর কারণও আছে। বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণা, ল্যাব—এসব নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকেন যে স্ত্রীকে সময় দেন না বা দিতে পারেন না। এ জন্য স্ত্রীরা মহা বিরক্তই থাকেন এবং মাঝেমধ্যেই সমস্যা হয়। কী ধরনের সমস্যা হয়, সেটাই বরং দেখা যাক। সেই রকম এক বিজ্ঞানী ধরা যাক। তিনি বিজ্ঞানী ডক্টর ক। তাঁর ওপর স্ত্রী মহা বিরক্ত। একদিন কফি দিতে এসে বিরক্তমুখে স্ত্রী বললেন—
ইশ্, তখন যদি আমার মায়ের কথা শুনতাম।
বিজ্ঞানী ডক্টর ক তখন সদ্য ছাপা হওয়া তাঁর একটা গবেষণাপত্র পড়ছিলেন। পড়া থামিয়ে বললেন—
কেন, উনি কী বলেছিলেন? লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্ত্রী বললেন—
উনি তোমাকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছিলেন।
তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছ, তোমার মা আমাদের বিয়েটা হোক, সেটা চাননি?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
আহা রে… বলে বিজ্ঞানী ডক্টর ক এবার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
আহা রে বললে কেন? স্ত্রী ভ্রু কোঁচকালেন।
আহা রে বললাম… অথচ ওই মহিলাকে কত খারাপই না ভেবেছি আমি। আর উনিই কিনা আমার জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলেন। সত্যি আফসোস!!
দ্বিতীয় ঘটনা। এবার কেস উল্টো। মানে, স্ত্রী বিখ্যাত বিজ্ঞানী ডক্টর মিসেস খ। তিনি একদিন তাঁর বাসাসংলগ্ন গবেষণা ল্যাব থেকে বের হয়ে এসে অ্যাপ্রন খুলতে খুলতে স্বামীকে বললেন—
আজ বিকেলে আমার মা–বাবা আসবেন। তোমাকে জানিয়ে রাখলাম।
আহা রে বললাম… অথচ ওই মহিলাকে কত খারাপই না ভেবেছি আমি। আর উনিই কিনা আমার জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলেন। সত্যি আফসোস!!
ওনারা আসবেন? বিরক্ত স্বামীর ভ্রু কুঁচকে গেল এবং সঙ্গে সঙ্গে একরকম ছুটে বের হয়ে গেলেন। বের হওয়ার সময় অবশ্য তাঁদের কুকুর জেমিকে নিয়ে বের হলেন। ঘণ্টাখানেক পরই আবার ফিরে এলেন। সঙ্গে জেমি নয়, অন্য কুকুর। এই কুকুর জার্মান শেফার্ড।
কী হলো? জেমিকে কোথায় রেখে এলে? হঠাৎ জার্মান শেফার্ড কুকুর আনলে কেন?
ওনাদের দেখে আমাদের জেমি লেজ নাড়ুক, এটা আমি কখনোই চাই না। বিজ্ঞানী ডক্টর মিসেস খ খেয়াল করলেন, জার্মান শেফার্ড কুকুরটির লেজ গোড়া থেকে কাটা। এই কুকুরগুলো নাকি এ রকমই হয়!
এবার তৃতীয় ও শেষ ঘটনা। এ ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানী স্বামী ডক্টর গ–এর সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক খারাপ। বেশ খারাপ, প্রতিদিনই কিছু না কিছু নিয়ে খিটিমিটি লাগছেই। এবার বিজ্ঞানী স্বামী ডক্টর গ স্ত্রীকে জানালেন, বিকেলে তাঁর মা–বাবা আসছেন চা খেতে। বিজ্ঞানী স্বামী ডক্টর গ বেশ অবাক হলেন। এই খবর শুনে স্ত্রীর মুখে বেশ হাসি। হাসিমুখেই শ্বশুর–শাশুড়ির বিকেলের চা–নাশতার জন্য রান্নাবান্না করতে কিচেনে ঢুকলেন। ডক্টর গ কিছুতেই ভেবে পেলেন না এমনটা হওয়ার কারণ কী। কী মনে করে তিনিও রান্নাঘরে ঢুকলেন। ঢুকেই টের পেলেন ঘটনা। দিন দুই আগে তাঁর একটা গবেষণার জন্য দুটি নাইট্রাস অক্সাইডের সিলিন্ডার এনেছিলেন। ল্যাবে জায়গা হয়নি বলে একটা রান্নাঘরে সংরক্ষিত আছে, সেটাই লিক করেছে, তাই স্ত্রীর মুখে হাসি। নাইট্রাস অক্সাইড যে লাফিং গ্যাস, এটা তো আমরা সবাই জানি!
জগতের সব বিজ্ঞানী সুখী হোক। এই কামনা!!