সায়েন্স মিউজিয়াম
পৃথিবীখ্যাত পদার্থবিদ নীলস বোরের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বিজ্ঞানীর ব্যবহৃত জামাকাপড় ও জিনিসপত্র নিয়ে তাঁর ঘরেই একটা পারিবারিক জাদুঘর তৈরি করেছিলেন। তবে সেটা জনগণের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। বিজ্ঞানীর ঘনিষ্ঠজনেরা ঢুকতে পারতেন, বিজ্ঞানীর স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে।
—আমি ওই জাদুঘরে, আই মিন নীলস বোরের ফ্যামিলি মিউজিয়ামে ঢুকতে পেরেছিলাম, দাবি করে বসে দেশ-বিদেশ ঘোরা এক বঙ্গদেশীয় পুঙ্গব, এক চায়ের আড্ডায়।
—বলেন কী! সত্যিই আপনি ওখানে, মানে ওই মিউজিয়ামে ঢুকতে পেরেছিলেন?
—অবশ্যই।
—কিন্তু ওটা তো নীলস বোরের শুধু পারিবারিক বন্ধুবান্ধবের জন্য উন্মুক্ত ছিল। আপনি তা নন।
—কিন্তু আমার সেই সৌভাগ্য হয়েছিল এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথাও হয়েছে!
—বলেন কী! উনি কী বলেছেন আপনাকে?
—উনি আমার সঙ্গে একটা বাক্যই বলেছেন; বঙ্গদেশীয় যেন এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
—সেটা কী?
—গেট আউট!
আমি ওই জাদুঘরে, আই মিন নীলস বোরের ফ্যামিলি মিউজিয়ামে ঢুকতে পেরেছিলাম, দাবি করে বসে দেশ-বিদেশ ঘোরা এক বঙ্গদেশীয় পুঙ্গব, এক চায়ের আড্ডায়।
দ্বিতীয় একটি মিউজিয়ামে ঢুকি এবার। এটাও একটা সায়েন্স মিউজিয়াম। তবে বিজ্ঞানী নীলস বোরের মতো ফ্যামিলি মিউজিয়াম নয়। এটা জনগণের জন্য উন্মুক্ত, রোবটদের একটা স্পেশালাইজড মিউজিয়াম। নানা রকম রোবট এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। সেই আঠারো শতকের রোবট, সেই উনিশ শতকের রোবট...এ রকম। একজন গাইড সুন্দর করে দর্শকদের ব্যাখ্যা করতে করতে চলেছেন।
—এই রোবটটা দেখুন, আঠারো শতকের একটি রোবট। এটা কথা বলতে পারত না। তবে হাঁটতে পারত, হ্যান্ডশেক করতে পারত, হাগ করতে পারত...আর এই রোবটটা দেখুন, এ কথা বলা রোবট...আর এই রোবটটা মানুষের মতো চিন্তা করতে পারত। বলতে বলতে গাইড দর্শকদের মিউজিয়ামের এক্সিট ডোরের কাছে দাঁড়ানো শেষ রোবটটার কাছে চলে এল।
—এই রোবট তো মনে হচ্ছে অনেক আধুনিক। এক দর্শক মন্তব্য করে।
—অবশ্যই এ আসলে ‘এআই রোবট’। কথা বলা, চিন্তা করা, তর্ক করা, সব পারে—একদম মানুষের মতো। এর মুখভঙ্গি দেখে আমি পর্যন্ত বুঝতে পারছি সে কী বলতে চাচ্ছে।
—বলেন কী! এখন তার মুখভঙ্গি ঠিক কী বলতে চাচ্ছে?
—ইয়ে...‘এই গাইডকে সবাই উপযুক্ত বকশিশ দিয়ে জাদুঘর ত্যাগ করুন!’
