পিথাগোরাস ও চোর
মহান গণিতবিদ পিথাগোরাস আলখাল্লার মতো একটি ভারী কাপড় পরতেন, তখনকার সময় সবাই পরত। একদিন সেটি চুরি হয়ে যায়। চুরি যাওয়া আলখাল্লার পকেটে ছিল তাঁর সেই বিখ্যাত পিথাগোরাসের সূত্র—ত্রিভুজের ‘অতিভুজ২ = লম্ব২ + ভূমি২’। পিথাগোরাস সাধারণত তাঁর কাছে আসা চিঠিপত্রের খামের উল্টো পাশের খালি জায়গায় তাঁর বিখ্যাত সব গাণিতিক সমীকরণ ও জ্যামিতির নকশার খসড়া করতেন। তাঁর স্ত্রী আবার সেসব সঠিকভাবে ভালো কাগজে কপি করে রাখতেন। তো, চুরি যাওয়া আলখাল্লার পকেটেও ‘অতিভুজ২ = লম্ব২ + ভূমি২’-এ সূত্রটির খসড়া ছিল। সেই আলখাল্লা চুরি যাওয়ায় পিথাগোরাসের স্ত্রী তা ভালো কাগজে কপি করতে পারেননি বলে তিনি চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন। তাঁর শিষ্যরাও (পিথাগোরিয়ান) ছুটে এলেন। তখনকার নিরাপত্তাকর্মীদের জানানো হলো। তাঁরা আলখাল্লা উদ্ধারে মাঠে নেমে গেলেন। যদিও পিথাগোরাস নির্বিকার।
খুব দ্রুতই চোর গ্রেপ্তার হলো। আলখাল্লা পাওয়া গেল, তবে তার পকেটে কোনো খাম পাওয়া গেল না। তাকে কোর্টে নেওয়া হলো সওয়াল-জবাবের জন্য—
বিচারক: তুমি পিথাগোরাসের আলখাল্লা চুরি করেছ?
চোর: জি, ধর্মাবতার।
বিচারক: তার পকেটে একটা খাম ছিল, সেটা কোথায়?
চোর: জনাব, একটা ছেঁড়াখোঁড়া কাগজ ছিল বটে, সেটা দিয়ে আমি চুল্লির আগুন ধরিয়েছিলাম।
পিথাগোরাস তখন তাঁর বাসার বারান্দায় বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। সব শুনেও তাঁর কোনো ভাবান্তর হলো না। স্ত্রী পাশেই ছিলেন, তিনি একটা ছোটখাটো হুংকার দিলেন, ‘হ্যাঁ-না একটা কিছু বলো?’
চোরের উত্তর শুনে পুরো আদালত হায় হায় করে উঠল। বিচারকও স্তম্ভিত। বিচারক তাঁর কাঠের হাতুড়ি দিয়ে দুবার আঘাত করে শাস্তি ঘোষণা করলেন—
বিচারক: ওই গুরুত্বপূর্ণ কাগজটি, যেখানে মহান পিথাগোরাসের সূত্র লেখা ছিল, সেটি পোড়ানোর জন্য তোমাকে ১০০ দ্রাকমা (সিলভার কয়েন) জরিমানা করা হলো। আর আলখাল্লা চুরির জন্য আরও ১০০ দ্রাকমা জরিমানা করা হলো।
চোর হাত তুলে বলল—
চোর: ধর্মাবতার, আমার কিছু বলার আছে।
বিচারক: বলো।
চোর: আলখাল্লাটা চুরির জন্য ৮০ দ্রাকমা জরিমানা করা হোক।
বিচারক: কেন?
চোর: মহান পিথাগোরাসের আলখাল্লাটা আমার গায়ে মাপমতো হচ্ছিল না। ওটা ফিটিং করতে আমার ২০ দ্রাকমা খরচ হয়েছে।
পরে পিথাগোরিয়ানরা (পিথাগোরাসের শিষ্যরা) পিথাগোরাসকে আদালতের সিদ্ধান্ত জানান। পিথাগোরাস তখন তাঁর বাসার বারান্দায় বসে রোদ পোহাচ্ছিলেন। সব শুনেও তাঁর কোনো ভাবান্তর হলো না। স্ত্রী পাশেই ছিলেন, তিনি একটা ছোটখাটো হুংকার দিলেন, ‘হ্যাঁ-না একটা কিছু বলো?’
পিথাগোরাস তখন বিড়বিড় করে বললেন, ‘হ্যাঁ-না, এই শব্দ দুটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ও ছোট্ট শব্দ। কিন্তু এ শব্দ দুটি বলতে আমাকে যেকোনো অঙ্কের সূত্রের চেয়েও বেশি ভাবতে হয়!’
