ভয়েস ডিটেক্টর
স্বর্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করেছেন একজন মন্ত্রী। মন্ত্রী হলরুমে ঢুকেছেন। ছেলেমেয়েদের তৈরি বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন করেই মন্ত্রী বলেছিলেন চলে যাবেন। সিদ্ধান্ত বদলে স্কুলের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। তাঁর মনে হয়েছে, বাংলাদেশ একদিন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে পৃথিবীর শীর্ষে থাকবে। সেই আবিষ্কার করবে স্বর্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মন্ত্রী বিশেষ আগ্রহ নিয়ে একটা প্রজেক্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর চোখে বিস্ময়। আমাদের দেশে সব বাসার ছাদে ছোট-বড় পানির ট্যাংক থাকে। মোটর দিয়ে পানি তোলা হয়। পানির মোটর সময়মতো বন্ধ করা হয় না। ট্যাংক ভরে পানি উপচে পড়ে। তাতে প্রচুর পানির অপচয় হয়।
মন্ত্রী সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটির কাছে জানতে চাইলেন, ‘তোমার নাম কী?’
‘নওশীন মিতি।’
‘কোন ক্লাসে পড়ো?’
‘ক্লাস এইটে।’
‘তোমার এই ইনোভেশন কীভাবে কাজ করবে?’
‘যখন ট্যাংক পানিতে প্রায় ভরে যাবে, তখন লাল বাতি জ্বলবে এবং অ্যালার্ম বাজবে। আর যখন ট্যাংকে পানির পরিমাণ কমে আসবে, তখন নির্দিষ্ট মাত্রায় এলে কমলা আলো জ্বলবে, সেই সঙ্গে অ্যালার্মও বাজবে।’
এটা কীভাবে কাজ করবে, মিতি তার সামনে রাখা একটি ছোট ট্যাংকে পানি ভরে দেখাল। মন্ত্রী খেয়াল করলেন, পানিতে ট্যাংক পূর্ণ হয়ে যাওয়া আর ট্যাংক পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার অ্যালার্মের আওয়াজ আলাদা। এই উদ্ভাবন তাঁর পছন্দ হয়েছে। তিনি খুশি হলেন।
নবম শ্রেণির ছাত্র কৌশিক দেখাল রিমোট কন্ট্রোলড দরজা। কেউ ডোরবেল বাজালে মোবাইল ফোনসেট, নোটপ্যাড বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাঁর ছবি দেখা যাবে। যেকোনো জায়গা থেকে রিমোটের বাটন চেপে খুলে দেওয়া যাবে দরজা।
রাফি স্কুলে এসে হতভম্ব হয়ে গেছে। সে স্বর্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বিজ্ঞান মেলায় দেখাবে বলে ভয়েস ডিটেক্টর বানিয়েছে। স্কুলে ঢুকতে গিয়ে দেখে চারদিকে পুলিশ। মন্ত্রী চলে না যাওয়া পর্যন্ত কাউকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সে ঠিক সময়ে এসেছে। মন্ত্রী চলে এসেছেন নির্ধারিত সময়ের আগে। রাফি কোনো একজন স্যারকে খুঁজছে। কিন্তু কোনো স্যারের দেখা পাওয়া গেল না। মন খারাপ করে স্কুলে গেটে দাঁড়িয়ে থাকল সে।
মন্ত্রী খেয়াল করলেন, পানিতে ট্যাংক পূর্ণ হয়ে যাওয়া আর ট্যাংক পানিশূন্য হয়ে যাওয়ার অ্যালার্মের আওয়াজ আলাদা। এই উদ্ভাবন তাঁর পছন্দ হয়েছে। তিনি খুশি হলেন।
মৈনাক এসেছে। ছেলেটি রাফির বন্ধু। তারা একই ক্লাসে পড়ে। মৈনাক জিজ্ঞেস করল, ‘কিরে কী হয়েছে?’
রাফি তাকে ঘটনা জানাল। মৈনাকের বাবা অরূপ ব্যানার্জি সংসদ সদস্য। এলাকায় তিনি বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে মৈনাক বাবার নাম বলে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নেয় না। তাই সে পুলিশকে বাবার কথা বলে স্কুলে ঢুকল না। রাফিকে বলল, ‘চল, ওই কদমগাছের নিচে বসে থাকি। মন্ত্রী চলে গেলে আমরা ঢুকব।’
মৈনাক আর রাফি হেঁটে হেঁটে রাস্তা পার হয়ে ওপাশের মাঠের ধারে কদমগাছের নিচে বসে পড়ল।
রাফির কাছে পাট দিয়ে বানানো চওড়া ব্যাগ। সে ব্যাগ পাশে রেখে বসেছে। মৈনাক বলল, ‘কী বানিয়েছিস?’
‘ভয়েস ডিটেক্টর।’
‘কীভাবে কাজ করবে?’
‘আমরা যেসব কথা বলি, সেসব কথা কিছুক্ষণ বাতাসে থেকে যায়। এই যে আমরা টেলিভিশনে খবর শুনি, গান শুনি, সিনেমা দেখি, মোবাইল ফোনে কথা বলি, কীভাবে আসে এসব কথা? এসব আসে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে।’
‘তো?’
উত্তেজনা বোধ করছে রাফি। সে তার উদ্ভাবিত ভয়েস ডিটেক্টরের ব্যাপারটি কাউকে জানাতে পেরে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে। চনমনে গলায় বলল, ‘এই ভয়েস ডিটেক্টরে আছে ইলেকট্রনিক অসিলেটর সার্কিট। আমি ব্যবহার করেছি কোয়ার্জ ক্রিস্টালের ফ্রিকোয়েন্সি। এটা করেছি রিভার্স সিস্টেমে। আর বাইনারি ফর্মে ডিজিটাল সিগন্যাল জুড়ে দিয়েছি ফ্রিকোয়েন্সি শিফট ট্রান্সমিটারে।’
মৈনাক বলল, ‘জটিল হয়ে যাচ্ছে। ঘটনা কী ঘটবে, সেটা সহজ করে বল।’
রাফি বলল, ‘ধর, এটা নিয়ে তুই কোথাও গিয়েছিস। মনে কর, সেখানে কিছুক্ষণ আগে অভ্র আর মুগ্ধ নামে দুজন ছিল। এখন নেই। তুই এই ভয়েস ডিটেক্টরে ফ্রিকোয়েন্সি মিলিয়ে তারা ওখানে দাঁড়িয়ে কী কথা বলেছিল, তা শুনতে পারবি।’
উত্তেজনা বোধ করছে রাফি। সে তার উদ্ভাবিত ভয়েস ডিটেক্টরের ব্যাপারটি কাউকে জানাতে পেরে উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে। চনমনে গলায় বলল, ‘এই ভয়েস ডিটেক্টরে আছে ইলেকট্রনিক অসিলেটর সার্কিট।'
মৈনাক চোখ বড় বড় করে বলল, ‘এটা সম্ভব!’
রাফি বলল, ‘অবশ্যই সম্ভব।’
‘স্পষ্ট শোনা যাবে কথা?’
‘ভ্যারিয়েবল রেজিস্টার ব্যবহার করেছি। শব্দ যদি আস্তে হয়, মিলিয়ে যেতে থাকে, তাহলে রেজিস্ট্যান্স কমিয়ে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে দিলেই হবে।’
ওরা ভেবেছিল মন্ত্রী কিছুক্ষণের ভেতর চলে যাবেন। মন্ত্রী কিছুক্ষণের ভেতর চলে গেলেন না। মৈনাক বলল, ‘এখানে বসে না থেকে আমাদের বাড়িতে চল। ঘণ্টাখানেক পরে আসব।’
রাফি ভয়েস ডিটেক্টরের ব্যাগ হাতে নিয়ে উঠে পড়ল।
বাড়ির সামনে এসে মৈনাক দেখে বাড়িভর্তি পুলিশ আর মানুষ। কিছু ঘটেছে। কী ঘটেছে মৈনাক জানে না। সে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছে, তখন সব স্বাভাবিক ছিল। এখন স্বাভাবিক নেই।
মৈনাক সামনে এগিয়ে গেল। নিজের পরিচয় দিল। পুলিশ জানাল তাদের বাড়ি থেকে অষ্টধাতুর গণেশের মূর্তি চুরি হয়ে গেছে। এর বেশির ভাগ অংশ ছিল স্বর্ণের। এই মূর্তি পাঁচপুরুষ ধরে তাদের বাড়িতে আছে। পুলিশ বাড়ির ভেতর তল্লাশি করছে। তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আবার ভেতর থেকেও কাউকে বাড়ির বাইরে বেরোতে দিচ্ছে না পুলিশ।
মৈনাক ফোনে বাবাকে জানিয়ে রাফিকে নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকল।
অরূপবাবু বাড়ির ভেতরের বারান্দায় আরামচেয়ারে বসে আছেন। তাঁর সামনে বসে আছেন ইউনিফর্ম পরা তিনজন পুলিশ। পেছনে ড্রাইভার অজিত দাঁড়ানো।
রাফিকে দেখিয়ে মৈনাক বলল, ‘বাবা, রাফি এসেছে।’
অরূপবাবু চেনেন রাফিকে। রাফি আগেও মৈনাকের সঙ্গে এ বাড়িতে এসেছে। সে হাত থেকে ব্যাগ নামিয়ে রেখে দুহাত জোড় করে নমস্কার জানাল। মৈনাকের দিকে তাকিয়ে অরূপবাবু বললেন, ‘রাফিকে নিয়ে তোমার ঘরে যাও।’
অরূপবাবু বাড়ির ভেতরের বারান্দায় আরামচেয়ারে বসে আছেন। তাঁর সামনে বসে আছেন ইউনিফর্ম পরা তিনজন পুলিশ। পেছনে ড্রাইভার অজিত দাঁড়ানো।
মৈনাক আর রাফি ঘরে চলে গেল।
রাফির অস্থির লাগছে। উসখুস করছে। স্থির হয়ে বসতে পারছে না। সে বলল, ‘যে মূর্তিটা হারিয়ে গেছে, সেটা কোথায় রাখা ছিল?’
‘বাবার স্টাডিরুমে।’
‘সেখানেই কি কাকা ভিজিটরদের সঙ্গে মিট করেন?’
‘বাবার স্টাডিরুমে বাবা ছাড়া শুধু আমি আর মা যাই। আর কারও সেখানে যাওয়ার পারমিশন নেই। বাবা ভিজিটর মিট করেন ড্রয়িংরুমে কিংবা লিভিংয়ে।’
‘ঘটনা কখন ঘটেছে বলে মনে হয়?’
‘আমি বাড়ি থেকে বেরোনোর পর হয়তো বাবা খেয়াল করেছেন। গত রাতে বাবা স্টাডি থেকে ফেরার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় ঘটতে পারে।’
মৈনাকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাফি বলল, ‘কাকা রাজি হলে আমার ভয়েস ডিটেক্টর এখানে টেস্ট করে দেখতে পারি।’
উচ্ছ্বসিত গলায় মৈনাক বলল, ‘বাহ, তাই তো!’
রাফি বলল, ‘ঘটনা আনুমানিক কোন সময়ে ঘটেছে, সেটা ভেবে আমরা টাইম সেট করব। কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে যদি সন্দেহজনক কয়েকজনের ভয়েস রেকর্ড করে নেওয়া যায়। তাহলে ফ্রিকোয়েন্সি মিলিয়ে ভয়েস সার্চ করব। ভয়েস ম্যাচ করলে দেখবি লাল বাতি জ্বলছে। কোনো নির্দিষ্ট ভয়েস ম্যাচ না করলে সবুজ বাতি জ্বলবে।’
মৈনাক বাবাকে জানাল। অরূপবাবু রাজি হলেন। তবে তিনি ঢাকঢোল পিটিয়ে এটা করতে চান না। পুলিশ চলে গেলে তিনি ভয়েস ডিটেক্টর পরীক্ষা করার অনুমতি দিয়েছেন।
কোথাও কিছু না পেয়ে স্টাডিরুম বন্ধ রাখতে বলে পুলিশ চলে গেল। মৈনাকের মা মিথিলা, ড্রাইভার অজিত আর গৃহকর্মী নিরঞ্জনকে ডেকেছেন অরূপ বাবু। ডাক পেয়ে তারা চলে এসেছে। রাফি আর মৈনাক বারান্দার জানালার পাশে রাখা লম্বা কাঠের টেবিলের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাফি তার ভয়েস ডিটেক্টর রেখেছে ফুলদানির পেছনে।
মৈনাক বলল, ‘আমি বাড়ি থেকে বেরোনোর পর হয়তো বাবা খেয়াল করেছেন। গত রাতে বাবা স্টাডি থেকে ফেরার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো এক সময় ঘটতে পারে।’
অরূপবাবু বললেন, ‘নিরঞ্জন প্রথম জানতে পারে যে মূর্তিটি ঘরে নেই।’
নিরঞ্জনের দিকে শান্ত চোখে তাকল মৈনাক। জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কখন দেখেছেন?’
‘সকালে ঘরের জিনিসপত্র মুছতে গিয়ে দেখি মূর্তি নেই।’
‘তখন কয়টা বাজে?’
‘সকাল সাড়ে আটটার মতো হবে।’
‘বাবা, তুমি স্টাডি থেকে গত রাতে কখন বেরিয়েছ?’
‘রাত এগারোটা নাগাদ।’
‘অজিত মামা, আপনি কিছু জানেন?’
‘সকালে ডিউটিতে এসেও কিছু শুনিনি। পরে জানলাম।’
‘মা, তুমি?’
মিথিলা বললেন, ‘তোর বাবার ডাক শুনে এসে জানলাম মূর্তি চুরি হয়ে গেছে।’
রাফি কনুই দিয়ে মৈনাককে ইশারা করল। তার যা দরকার ছিল, সে পেয়ে গেছে।
মৈনাক বলল, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’
অরূপবাবু বললেন, ‘তোমরা এখন যাও।’
নিরঞ্জন চলে গেল। মিথিলাও চলে গেলেন। অজিত দাঁড়িয়ে রইল। অরূপবাবু বললেন, ‘অজিত, তুমিও এখন যাও। দরকার হলে ডেকে নেব।’
অরূপবাবু, মৈনাক আর রাফি এসে ঢুকেছে স্টাডিরুমে। রাফি সুইচ টিপে ঘরের আলো জ্বালল। এসি অন করতে গেল। রাফি বলল, ‘আপাতত এসি চালাস না। বাড়তি নয়েজ অসুবিধা করতে পারে।’
মৈনাক এগিয়ে গিয়ে স্টাডিরুমের দরজা বন্ধ করে দিল। অরূপবাবু তাকালেন রাফির দিকে। রাফি বলল, ‘কাকা, এটা নতুন বানিয়েছি। এখনো তেমনভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। কতটুকু কাজ করবে জানি না। তবে এদের ভয়েস যদি ম্যাচ না করে, তাহলে অন্য ব্যবস্থা করব। সময় মেপে এ ঘরে পাওয়া ভয়েসগুলো শোনার চেষ্টা করব।’
অরূপবাবু কিছু বললেন না।
রাফি টাইম সেট করে ভয়েস ডিটেক্টর চালু করেছে। ঝিঁঝি পোকার ডাকের মতো একটানা ঝিঁঝি আওয়াজ হয়ে যাচ্ছে। রাফি একটু একটু করে সময় এগিয়ে দিচ্ছে। আচমকা ঝিঁঝি পোকার ডাক থেমে গেল। এখন পড়পড় ধরনের মোচড়ানো শব্দ হচ্ছে। রাফি ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক করে নিল।
অরূপবাবু, মৈনাক আর রাফি এসে ঢুকেছে স্টাডিরুমে। রাফি সুইচ টিপে ঘরের আলো জ্বালল। এসি অন করতে গেল। রাফি বলল, ‘আপাতত এসি চালাস না। বাড়তি নয়েজ অসুবিধা করতে পারে।’
কান্নাভেজা অসহায় গলায় স্পষ্ট কথা শোনা গেল তখন, ‘ক্ষমা করে দেবেন, বাবু। আপনার নুন খেয়ে আপনার ক্ষতি করছি। মোকতাদির সাহেব আমার ছোট মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে। তাকে আটকে রেখেছে। এই মূর্তি নিয়ে গিয়ে মোকতাদির সাহেবকে না দিলে সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে। ঘটনা আপনাকে কিংবা পুলিশকে জানালেও তন্দ্রাকে মেরে ফেলবে বলেছে।’
যন্ত্রের ভেতর আবার পড়পড়–জাতীয় আওয়াজ হচ্ছে। মৈনাক পিঠ টান টান করে ফেলেছে। সে এলোমেলো গলায় বলল, ‘নিরঞ্জন কাকা!’
নিরঞ্জনের ভয়েসের সঙ্গে ভয়েস ম্যাচ করেছে। একটি চ্যানেলে লাল আলো জ্বলছে। বাকিগুলোর আলো সবুজ। রাফি বলল, ‘তন্দ্রা নিশ্চয় তাঁর কন্যা!’
অরূপবাবু বললেন, ‘এক্ষুনি কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। আমি মোকতাদির সাহেবের খোঁজ করি আগে।’
মৈনাক অবাক গলায় বলল, ‘মোকতাদির সাহেব মানে!’
অরূপবাবু বললেন, ‘মোকতাদির আইউব। প্যান শপের মালিক।’
মৈনাক চিনতে পেরেছে। অ্যান্টিক মূর্তি কেনাবেচা করে। শহরের সবাই তাকে চেনে।
অরূপ বাবু বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় নিরঞ্জনকে দেখলেন। স্থির গলায় কাছে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘নিরঞ্জন, তোমার ছোট মেয়ে তন্দ্রা কোথায়?’
চমকে উঠেছে নিরঞ্জন। বাবু তার কন্যার নাম জানেন, তা জানা ছিল না। তিনি হঠাৎ কেন তন্দ্রার খোঁজ নিচ্ছেন, তা–ও বুঝতে পারল না। ঘাবড়ে গিয়ে নিরঞ্জন বলল, ‘আজ্ঞে বাবু সে ভালো আছে। বাড়িতে এখন। কী হয়েছে, বাবু?’
‘না, কিছু হয়নি। তুমি কাজে যাও। আমি না ফেরা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে যাবে না।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেল মোকতাদির আইউব নেপালে যাবেন বলে এয়ারপোর্টের পথে রওনা হয়ে গেছেন। অরূপবাবু পুলিশ কমিশনারকে ফোন করলেন। তাকে ঘটনা জানিয়ে সাহায্য চেয়েছেন।
পুলিশ এয়ারপোর্টে মোকতাদির আইউবের ব্যাগ তল্লাশি করে অরূপবাবুর অষ্টধাতুর গণেশের মূর্তি উদ্ধার করল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেছে।
বাড়িতে ফিরে এসেছেন অরূপ বাবু। তিনি আনন্দে রাফিকে শক্ত করে বুকের ভেতর চেপে ধরলেন। আদর মেশানো গলায় বললেন, বিশ্বে তোমাদের মতো অসাধারণ বিজ্ঞানীদের নামে পরিচিত হবে বাংলাদেশ।