মার্চের আকাশে কী কী দেখবেন, কীভাবে দেখবেন
রাতের আকাশ দেখতে ভালোবাসেন? তাহলে মার্চ মাসটা কিন্তু আপনার জন্যই! শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনে রাতের আকাশ এখন দারুণ পরিষ্কার। আকাশে এখন উজ্জ্বল সব গ্রহ, তারামণ্ডল ও দূর মহাকাশের নানা চমক অপেক্ষা করছে। আপনি কি শুধু শখের বশে আকাশ দেখেন? নাকি দারুণ সব ছবি তুলতে চান? সবার জন্যই এই মাসে কিছু না কিছু আছে।
সবচেয়ে বড় চমকটা কী, জানেন? ৩ মার্চের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ! এই সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে গাঢ় লাল রং ধারণ করবে। বছরের সবচেয়ে সুন্দর ছবি তোলার সুযোগ কিন্তু এটাই!
আকাশ দেখার ক্ষেত্রে সঠিক যন্ত্রপাতি কিন্তু দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে দিতে পারে। একটা ভালো বাইনোকুলার আপনাকে চাঁদ ও তারার এমন সব খুঁটিনাটি দেখাবে, যা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহ ও নীহারিকাগুলো একদম স্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে। আর একটা ভালো ক্যামেরা দিয়ে আপনি আকাশের বিশাল ক্যানভাস বা গ্রহণের দারুণ সব ছবি তুলে ফেলতে পারবেন। চলুন জেনে নিই, এই মার্চে রাতের আকাশ আমাদের জন্য কী কী চমক নিয়ে আসছে!
২ মার্চ: চাঁদ ও নক্ষত্রের লুকোচুরি
ভোরে সূর্য ওঠার ঠিক আগে একটা দারুণ দৃশ্য দেখা যাবে। চাঁদ তখন প্রায় ৯৯ ভাগ আলোকিত। সে ধীরে ধীরে সিংহ রাশির সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র রেগুলাসের খুব কাছে চলে যাবে। পৃথিবীর কিছু জায়গা থেকে মনে হবে, নক্ষত্রটি যেন চাঁদের আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে! কয়েক মিনিট পর আবার তাকে দেখা যাবে। তবে চাঁদের আলো খুব বেশি থাকায় খালি চোখে এটা দেখা একটু কঠিন হতে পারে। একটা সাধারণ বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ থাকলে এই লুকোচুরি খেলাটা খুব ভালোভাবে দেখতে পারবেন।
৩ মার্চ: পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ
এই দিন আকাশে ঘটবে এক মহাজাগতিক রোমাঞ্চ। চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢুকে পড়বে। আর তার রং হয়ে যাবে একদম গাঢ় লাল! একে অনেকেই ব্লাড মুন বলেন। খালি চোখেই এই গ্রহণ দারুণভাবে দেখা যাবে।
কিন্তু আপনার কাছে যদি ৮ × ৪২ বা ১০ × ৫০ মাপের কোনো সাধারণ বাইনোকুলার থাকে, তবে দৃশ্যটা আরও স্পষ্ট হবে। আরও ভালো দেখতে চাইলে ট্রাইপডে বসানো ১৫ × ৭০ মাপের বড় বাইনোকুলার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ছোট টেলিস্কোপেও বেশ ভালোই কাজ চলবে।
৮ মার্চ: কাছাকাছি শনি ও শুক্র গ্রহ
সূর্যাস্তের পরপরই পশ্চিম আকাশে চোখ রাখুন। দেখবেন শনি ও শুক্র গ্রহ একদম কাছাকাছি চলে এসেছে! গ্রহ দুটো বেশ উজ্জ্বল হওয়ায় খালি চোখেই এদের দেখতে পাবেন। তবে আপনার কাছে যদি একটা টেলিস্কোপ থাকে, তবে শনির সুন্দর বলয়গুলোও দেখা যাবে। গ্রহ দুটি যেহেতু দিগন্তের বেশ কাছাকাছি থাকবে, তাই খুব পরিষ্কার দৃশ্য হয়তো না-ও পেতে পারেন।
১৮ মার্চ: অমাবস্যার অন্ধকার ও গ্যালাক্সির মেলা
এদিন আকাশে চাঁদ থাকবে না। রাতের আকাশ থাকবে একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার। আর এই অন্ধকার আকাশই হলো দূর মহাকাশ দেখার আসল সময়! শুরু হবে গ্যালাক্সি দেখার মৌসুম। লিও ট্রিপলেট, নিডল গ্যালাক্সি বা পিনহুইল গ্যালাক্সির মতো চমৎকার সব বস্তু দেখার সেরা সময় এটাই।
এগুলো দেখার জন্য ৮ ইঞ্চি বা তার চেয়ে বড় অ্যাপারচারের টেলিস্কোপ সবচেয়ে ভালো। বাইনোকুলার দিয়ে হয়তো গ্যালাক্সির খুব ভালো ডিটেইল দেখা যাবে না, তবে ১০ × ৫০ মাপের বাইনোকুলার দিয়ে চাঁদের আলোহীন আকাশে অনেক কিছুই দেখা যাবে। যারা ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তারা ক্যামেরাকে টেলিস্কোপের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে পারেন। অথবা ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স লাগিয়ে মিল্কিওয়ের দারুণ সব ছবি তুলে ফেলতে পারেন!
২০ মার্চ: শুক্রের কাছে একফালি চাঁদ
সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে চোখ রাখলে মন জুড়িয়ে যাবে। উজ্জ্বল শুক্র গ্রহের ঠিক ওপরেই ঝুলে থাকবে মাত্র ৫ ভাগ আলোকিত একফালি পাতলা চাঁদ! টেলিস্কোপ দিয়ে শুক্র গ্রহের খুব বেশি কিছু হয়তো বোঝা যাবে না। তবে চাঁদের গায়ের গর্তগুলো দারুণ স্পষ্ট দেখা যাবে। এই দৃশ্য দেখার জন্য অন্তত ৪ ইঞ্চির বেশি অ্যাপারচারের টেলিস্কোপ ব্যবহার করতে পারেন।
২৬ মার্চ: চাঁদ, বৃহস্পতি ও যমজ নক্ষত্রের তারার মিলনমেলা
এই রাতে চাঁদ থাকবে মিথুন রাশিতে। তার পাশেই থাকবে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি এবং ক্যাস্টর ও পোলাক্স নামে দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। চাঁদের অর্ধেকের বেশি অংশ তখন আলোকিত থাকবে। আপনার কাছে যদি ১৫ × ৭০ মাপের বা তার চেয়ে বড় বাইনোকুলার থাকে, তবে বৃহস্পতির উপগ্রহগুলোও দেখতে পাবেন। আর ৬-৮ ইঞ্চির টেলিস্কোপ থাকলে বৃহস্পতির গায়ের মেঘের স্তর ও সেই বিখ্যাত বিশাল গ্রেট রেড স্পট চোখে পড়বে!
২৭ মার্চ: নক্ষত্রের ঝাঁকের সঙ্গে চাঁদের দেখা
আপনি কি রাত জাগতে ভালোবাসেন? তাহলে রাত ১১টার দিকে আকাশের দিকে তাকান। দেখবেন চাঁদ একটা বিশাল নক্ষত্রের ঝাঁকের খুব কাছে চলে এসেছে। চাঁদের প্রায় ৬৯ ভাগ তখন আলোকিত থাকবে। এই তারার ঝাঁকটা খালি চোখে দেখা যায় না। এই দৃশ্য দেখতে আপনাকে অন্তত ৪ ইঞ্চি বাইনোকুলারের সাহায্য নিতে হবে। আর চাঁদের খুঁটিনাটি দেখতে চাইলে ১৫x বা ২০x বাইনোকুলার ব্যবহার করতে পারেন।