ক্যাটস আই নীহারিকার চোখধাঁধানো নতুন ছবি প্রকাশ করেছে নাসা
মহাকাশের গভীর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছে বিশাল এক বিড়ালের চোখ! দেখতে বিড়ালের চোখের মতো বলেই এমন এমন নাম। মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে এটি ক্যাটস আই নেবুলা নামেই পরিচিত। পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই অদ্ভুত সুন্দর নীহারিকার অবিশ্বাস্য কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করেছে নাসা।
ছবিগুলোর দিকে তাকালে আপনি আক্ষরিক অর্থেই চমকে যাবেন। মনে হবে, মহাকাশের বিশাল ক্যানভাসে কেউ যেন নিখুঁত তুলির আঁচড়ে লাল ও সবুজ রঙের এক মায়াবী গ্যাসীয় মেঘমালা এঁকে রেখেছে। আর এই রঙিন মেঘের ঠিক মাঝখানে লুকিয়ে আছে মৃতপ্রায় একটি নক্ষত্র!
এই ক্যাটস আই নেবুলার সঙ্গে বিজ্ঞানীদের পরিচয় ১৯৯৫ সালে। নাসার বিখ্যাত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ প্রথমবারের মতো এর দারুণ একটি ছবি তুলেছিল। তখন নাসা একে মহাকাশের সবচেয়ে জটিল গঠনের নীহারিকা বলে আখ্যা দিয়েছিল।
আজ প্রায় ৩০ বছর পর, হাবলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরেক শক্তিশালী মহাকাশ টেলিস্কোপ ইউক্লিড। এই দুই শক্তিশালী টেলিস্কোপের জাদুতে ক্যাটস আই নেবুলার এমন সূক্ষ্ম ও নিখুঁত রূপ বেরিয়ে এসেছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি!
নতুন এই ছবিগুলোতে নীহারিকাটির চারপাশের অনেক বড় দৃশ্যপট ফ্রেমে বন্দী হয়েছে। ছবির সবচেয়ে বড় চমক এর চারপাশের কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা উজ্জ্বল রিংয়ের মতো বিশাল বলয়টি। নক্ষত্রটি মারা যাওয়ার সময় মূল নীহারিকা তৈরিরও অনেক আগে এই রিংয়ের পদার্থগুলো মহাকাশে ছিটকে পড়েছিল!
১৯৯৫ সালে নাসার বিখ্যাত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ প্রথমবারের মতো ক্যাটস আই নেবুলার একটি ছবি তুলেছিল। তখন নাসা একে মহাকাশের সবচেয়ে জটিল গঠনের নীহারিকা বলে আখ্যা দিয়েছিল।
ছবিতে আরও দেখা যায়, পেঁয়াজের খোসার মতো স্তরে স্তরে সাজানো গ্যাসের বলয়। সেগুলো প্রচণ্ড বেগে ছুটে চলা গ্যাসের স্রোত ও মহাজাগতিক ধাক্কায় তৈরি হওয়া ঘন গ্যাসের গিঁট। নাসার মতে, ছবিগুলোর এই গঠন এতই নিখুঁত ও জটিল যে এগুলোকে এককথায় পরাবাস্তব মনে হয়!
কিন্তু এই চোখধাঁধানো ছবিগুলো তুলে বিজ্ঞানীদের লাভ কী? নাসা বলছে, এই ছবিগুলো মহাজাগতিক ফসিল রেকর্ডের মতো কাজ করবে। ছবিগুলোর এই জটিল গঠন ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, একটি নক্ষত্র মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে কীভাবে ধাপে ধাপে তার শেষ রূপ ধারণ করে।
মহাকাশের বুকে একটি নক্ষত্রের মৃত্যুও যে দেখতে এত সুন্দর হতে পারে, ক্যাটস আই নেবুলার এই ছবিগুলো না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই হতো না!