চাঁদের উদ্দেশ্যে আর্টেমিস ২ উৎক্ষেপণ করা হবে মার্চে
পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর মানুষ আবার চাঁদের পথে পা বাড়াবে। সেই কাজটা করবে আর্টেমিস প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামের দ্বিতীয় মিশন অর্থাৎ আর্টেমিস ২ পরিচালনার কথা ছিল চলতি মাসেই। কিন্তু নাসার অভ্যন্তরীণ ডকুমেন্ট আপডেট করা হয়েছে ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার। সেখানে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নয়, নাসা এখন টার্গেট করছে মার্চ মাসকে। মার্চের ৬ থেকে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখ উৎক্ষেপণ করা হবে আর্টেমিস ২ মিশন।
সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। রকেট প্রস্তুত, নভোচারীরা প্রস্তুত। কিন্তু বাধ সাধল সেই পুরোনো শত্রু ‘ছিদ্র’। ২ ফেব্রুয়ারি নাসা তাদের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম বা এসএলএস রকেটের চূড়ান্ত মহড়া দিচ্ছিল। এই রিহার্সালে রকেটে আসল জ্বালানি ভরা হয় এবং উৎক্ষেপণের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছু চেক করা হয়।
ঠিক তখনই দেখা দিল বিপত্তি। রকেটের হাইড্রোজেন ফুয়েল লাইনে লিক ধরা পড়ে। নাসা ইঞ্জিনিয়াররা অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নন। তাঁরা আর্টিমিস ১ মিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লিক বন্ধ করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পুরোপুরি সফল হওয়া গেল না। তার ওপর আবার স্পেসক্রাফটের ক্যাপসুলের একটি ভালভ পাল্টানো হয়েছিল কিছুদিন আগে। সেখানেও কিছু সমস্যা দেখা দিল।
নাসা অবশ্য কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। মহাকাশে সামান্য ভুল মানেই বড় বিপর্যয়। তাই তারা সময় নিচ্ছে। এই লিক মেরামত এবং পুনরায় সাকসেসফুল রিহার্সাল না হওয়া পর্যন্ত রকেট উৎক্ষেপণ করবে না। যদি মার্চেও সম্ভব না হয়, তবে নথিতে এপ্রিলের শুরুর দিকের কথাও ব্যাকআপ হিসেবে বলা হয়েছে।
রকেটের হাইড্রোজেন ফুয়েল লাইনে লিক ধরা পড়ে। নাসা ইঞ্জিনিয়াররা অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নন। তাঁরা আর্টিমিস ১ মিশনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লিক বন্ধ করার চেষ্টা করলেন।
এবার একটু পেছনে ফিরে তাকানো যাক। ২০২২ সালে নাসা সফলভাবে আর্টিমিস ১ মিশন শেষ করে। সেটা ছিল মানুষবিহীন মিশন। ওরিয়ন ক্যাপসুল চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে। সেই মিশনের মাধ্যমেই বোঝা গেছে, মানুষ আবার চাঁদে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে সেই মিশনেও এই হাইড্রোজেন লিক বেশ ভুগিয়েছিল। মনে হচ্ছে, এসএলএস রকেটের এই রোগ এখনো পুরোপুরি সারেনি।
এখন আর্টিমিস ২ মিশন সফল করার কাজ করছে নাসা। এই মিশনও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের এত কাছে যাচ্ছে। তবে এই মিশনে কেউ চাঁদের মাটিতে নামবে না। চার নভোচারী ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবেন। তাঁরা চাঁদের ওপাশ ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
আসবেন। ১০ দিনের এই ভ্রমণে তাঁরা নভোযানের সব সিস্টেম পরীক্ষা করবেন, যাতে ভবিষ্যতের ল্যান্ডিং মিশনগুলো নিরাপদ হয়। এই মিশনের চার নভোচারী হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।
আর্টিমিস ২ সফল হলেই আসবে সেই আর্টিমিস ৩। এই মিশনেই মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। নাসা পরিকল্পনা করছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ড করার। আর এবারই প্রথম কোনো নারী এবং অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী চাঁদের বুকে হাঁটবেন। তবে সেই স্বপ্নের চাবিকাঠি এখন আর্টিমিস ২-এর হাতে।
মার্চে আর্টেমিস ২ উৎক্ষেপণ হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরবর্তী রিহার্সালের ওপর। নাসা আবারও রকেটে জ্বালানি ভরে সব সিস্টেম চেক করবে। যদি সব ঠিক থাকে, তবে আর মাত্র এক মাসের অপেক্ষা।