এ বছরের সুপার ব্লু মুন দেখা যাবে আগামী বৃহস্পতিবার ভোরে। আরও সঠিক করে বললে, ৩১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে পূর্ণ চাঁদের ফেইজ শুরু হবে। এ সময় চাঁদ থাকবে হরাইজনের নিচে। তাই চাঁদকে তখন দেখা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে ধীরে ধীরে দিগন্তের ওপরে উঠবে। তখন বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে। এটিই চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল চাঁদ।
‘ব্লু মুন’ বলতে মোটেই নীল রঙের চাঁদ বোঝায় না। আসলে ব্লু মুনের সঙ্গে রঙের কোনো সম্পর্ক নেই। একই মাসে দুটি পূর্ণিমা হলে দ্বিতীয়টিকে বলে ব্লু মুন। বুধবারের পূর্ণিমাকে ব্লু মুন বলা হচ্ছে, কারণ এ মাসের প্রথম পূর্ণিমা হয়েছে ১ আগস্ট। এটি দ্বিতীয় পূর্ণিমা। এবারের ব্লু মুনকে একই সঙ্গে ‘সুপারমুন’ও বটে। সুপারমুনের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে— 'পেরিগি মুন'। পেরিগি অর্থ হচ্ছে 'পৃথিবীর নিকটতম'। চাঁদ যখন পূর্ণ পূর্ণিমায় থাকে এবং বার্ষিক প্রদক্ষিণের সময় পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে তখন একে সুপারমুন বলা হয়। পৃথিবীর কাছাকাছি আসায় এই চাঁদকে স্বাভাবিক পূর্ণিমার চাঁদের তুলনায় বড় ও বেশি উজ্জ্বল দেখায়।
আগেই বলা হয়েছে, ব্লু মুন বলতে একই মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমাকে বোঝায়। প্রতি বছর প্রায় ১২ বার পূর্ণিমা হয়। আসলে সঠিক হিসেব করলে বছরে ১২ দশমিক ৪ বার পূর্ণিমা হয়। এই যে বেশি সময়টা থাকে, এ কারণে কোনো কোনো মাসে দুবার পূর্ণিমা দেখা যেতে পারে। প্রতি ২ বছর ৮ মাসে ২৪ বারের পরিবর্তে পূর্ণিমা দেখা যায় ২৫ বার। এ কারণে এক বছরে একই মাসে দুবার পূর্ণিমা হয়। তবে সব ব্লু মুন সুপারমুন হয় না। দুটি একই সঙ্গে হলে সেই পূর্ণিমাকে বলা হয় হয় ‘সুপার ব্লু মুন’।
প্রশ্ন জাগতে পারে, পরবর্তী সুপার ব্লু মুন আবার কবে দেখা যাবে? আসলে একইসঙ্গে ব্লু মুন ও সুপারমুন দেখা বিরল ঘটনা। তবে ব্লু মুন মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, গড়ে প্রায় ১০ বছর পরপর সুপার ব্লু মুনের দেখা মেলে। এরপর আবার সুপার ব্লু মুন দেখা যাবে ২০৩৭ সালের মার্চ মাসে।
লেখক: শিক্ষার্থী, সিটি কলেজ, ঢাকা
সূত্রঃ স্পেস ডট কম