প্রায় পৃথিবীর মতো নতুন গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা

এইচডি-১৩৭০১০ বি গ্রহছবি: নাসা

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন। গ্রহটির বৈশিষ্ট্য প্রায় পৃথিবীর মতোই। পৃথিবীর মতোই ৩৬৫ দিনের কাছাকাছি সময়ে সেখানে বছর হয়। কিন্তু সমস্যা একটাই, সেখানে ভয়ানক ঠান্ডা! গ্রহটি পৃথিবী থেকে মাত্র ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘এইচডি-১৩৭০১০ বি’।

বিজ্ঞানীদের এই নতুন আবিষ্কার সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। এই গ্রহটি পাথুরে এবং আকারে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে সামান্য বড়। এর ভর পৃথিবীর ভরের প্রায় ১.২ গুণ। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, গ্রহটি নিজ সূর্যের চারপাশে ঘোরে ৩৫৫ দিনে। মানে প্রায় হুবহু পৃথিবীর মতো!

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অবসরে যাওয়া কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের পুরোনো ডেটা ঘেঁটে এই গ্রহের অস্তিত্ব টের পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা ট্রানজিট মেথড ব্যবহার করে এটি আবিষ্কার করেছেন। অর্থাৎ, গ্রহটি যখন তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের আলো সামান্য কমে যায়। সেই ছায়া বা আলোর পরিবর্তন দেখেই বিজ্ঞানীরা একে শনাক্ত করেছেন।

এইচডি-১৩৭০১০ বি গ্রহের (ডানে) ভর পৃথিবীর (বামে) ভরের প্রায় ১.২ গুণ
ছবি: নাসা

বছর আর আকার পৃথিবীর মতো হলে এটি এত ঠান্ডা কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে এর নক্ষত্র বা সূর্যের মধ্যে। গ্রহটি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, তার নাম এইচডি-১৩৭০১০। এটি আমাদের সূর্যের মতো অতটা বড় নয়। এটি একটি কে-ডোয়ার্ফ বা কমলা বামন নক্ষত্র। আমাদের সূর্যের তুলনায় এর আকার ও ভর প্রায় ৭০ শতাংশ। যেহেতু নক্ষত্রটি ছোট এবং কম উজ্জ্বল, তাই এটি কম তাপ দেয়। তবে এর একটা ভালো দিকও আছে। এই ধরনের নক্ষত্ররা হাইড্রোজেন খুব ধীরে খরচ করে। তাই এদের আয়ু আমাদের সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি হয়।

আরও পড়ুন
গ্রহটি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, তার নাম এইচডি-১৩৭০১০। এটি আমাদের সূর্যের মতো অতটা বড় নয়। এটি একটি কমলা বামন নক্ষত্র। আমাদের সূর্যের তুলনায় এর আকার ও ভর প্রায় ৭০ শতাংশ।

তাহলে বরফ রাজ্যে কি প্রাণের আশা আছে? বিজ্ঞানীরা অঙ্ক কষে দেখেছেন, ৫১ শতাংশ সম্ভাবনা আছে যে গ্রহটি তার নক্ষত্রের বাসযোগ্য এলাকায় রয়েছে। কিন্তু কম আলো পাওয়ার কারণে এর তাপমাত্রা মাইনাস ৬৮ থেকে মাইনাস ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ মঙ্গলের চেয়েও ঠান্ডা!

গবেষকেরা বলছেন, যদি এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে, তবে গ্রিনহাউস ইফেক্টের কারণে সেখানে তরল পানি থাকা সম্ভব। আর যদি তা না থাকে, তবে এটি সম্ভবত একটি বরফের গোলা হয়ে আছে। এর পৃষ্ঠ পুরোপুরি বরফে ঢাকা। এতে নক্ষত্রের আলো প্রতিফলিত হয়ে আরও ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে গ্রহটি। এর তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ১০০ ডিগ্রিতেও!

এইচডি-১৩৭০১০ গ্রহটি কম আলো পাওয়ার কারণে এর তাপমাত্রা মাইনাস ৬৮ থেকে মাইনাস ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে
ছবি: হাইপার হিস্টোরিয়া

তবে এত ঠান্ডাতেও বিজ্ঞানীরা প্রাণের আশা ছাড়ছেন না। কারণ পৃথিবীও তার ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাসে একাধিকবার এমন বরফের গোলা অবস্থায় ছিল। তবুও এখানে প্রাণ টিকে ছিল।

আপাতত এই গ্রহটি সম্ভাব্য গ্রহ হিসেবে তালিকায় রয়েছে। এটি আসলেই গ্রহ কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত হতে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। তবে বিজ্ঞানীরা বেশ আশাবাদী। ভবিষ্যতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির প্লেটো টেলিস্কোপের মাধ্যমে হয়তো এই বরফশীতল পৃথিবীর আসল রহস্য জানা যাবে।

 

লেখক: সহকারী শিক্ষক, গণিত বিভাগ, পদ্মা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শরীয়তপুর

সূত্র: দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস ও সায়েন্স অ্যালার্ট

আরও পড়ুন