দক্ষিণ গোলার্ধে দেখা যাচ্ছে বিরল ধূমকেতু, আবার দেখা যাবে ১ লাখ ৭০ হাজার বছর পর

পৃথিবী থেকে এখন এক বিরল ধূমকেতু দেখা যাচ্ছে। পৃথিবীর আকাশে এটি খুব কম সময়ের জন্য দৃশ্যমান হয়েছে। এখন এই ধূমকেতু না দেখলে পরেরবার দেখতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

পৃথিবীর আকাশে মাঝেমধ্যেই ধূমকেতুর দেখা মেলে। মহাকাশের দূরপ্রান্ত থেকে এগুলো পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। পৃথিবীর পাশ দিয়ে ভ্রমণ করে নিজেদের পথ ধরে চলে যায়। পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে এখন তেমনই এক ধূমকেতু দেখা যাচ্ছে। মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য অতিথি হয়ে এসেছে এটি। এবার দেখার সুযোগ হারালে এই ধুমকেতু দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর!

এই ধূমকেতুর নাম ‘সি/২০২৫ আর৩ প্যানস্টারস’। আগে ধুমকেতুটি উত্তর গোলার্ধ দিয়ে অতিক্রম করছিল। সূর্যকে ঘুরে এখন এটি দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহরের একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জশ আওরাকি এই তথ্য জানিয়েছেন।

সি/২০২৫ আর৩ প্যানস্টারস ধূমকেতু
ছবি: ম্যাট বালখাম/কিউরেটর অফ ইনস্ট্রুমেন্টস/ওয়েলিংটন অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি

ধূমকেতুটি বেশ উজ্জ্বল। তবু একে খালি চোখে সহজে দেখা যাবে না। ধুমকেতুটি দেখতে দূরবিন, টেলিস্কোপ বা ক্যামেরার সাহায্য নিতে হবে। এই ধুমকেতুর ছবি তোলা তুলনামূলক সহজ। আকাশে এর ছবি সহজেই ক্যামেরায় ধরা যাবে।

আরও পড়ুন
আগে সি/২০২৫ আর৩ প্যানস্টারস ধূমকেতুটি উত্তর গোলার্ধ দিয়ে অতিক্রম করছিল। সূর্যকে ঘুরে এখন এটি দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে।

তবে আমাদের হাতে সময় খুব বেশি নেই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে এর উজ্জ্বলতা কমে যাবে। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষদের এখনই ধুমকেতুটি দেখার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

ধূমকেতুটি দেখতে হলে সূর্যাস্তের ঠিক পরপরই পশ্চিম আকাশের দিকে তাকাতে হবে। দিগন্ত পরিষ্কার এবং সামনে কোনো বাধা নেই—এমন জায়গা বেছে নিতে হবে। সূর্য ডোবার পরের এক ঘণ্টার মধ্যে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। এ সময় এটি আকাশের নিচু অংশে অবস্থান করবে।

আকাশে একে একটি নীল-সবুজ আলোর গোলা হিসেবে দেখা যাবে। এই আলোর চারপাশে থাকে গ্যাসের একটি স্তর, যাকে বলা হয় ‘কোমা’। এর সঙ্গে থাকে হালকা ঝাপসা একটি লেজ। লেজটিকে আকাশে ভেসে থাকা ম্লান আলোর রেখা হিসেবে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে এটি দেখতে অনেকটা ঝাপসা উল্কার মতো মনে হতে পারে।

আকাশে সি/২০২৫ আর৩ প্যানস্টারস ধূমকেতুটিকে একটি নীল-সবুজ আলোর গোলা হিসেবে দেখা যাবে
ছবি: ড্যান বার্টলেট

এই ধূমকেতুর জন্ম সৌরজগতের একেবারে প্রান্তে, ওর্ট মেঘ নামে পরিচিত বিশাল বরফঘেরা অঞ্চলে। সেখানে অসংখ্য বরফময় বস্তু ঘুরে বেড়ায়। সেখান থেকেই এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালে এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। এটি একটি দীর্ঘ-পর্যায়ের ধূমকেতু, যা সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার বছর সময় নেয়। তবে এটি যদি এরই মধ্যে এটি ভেঙে না যায়, তবে হয়তো দীর্ঘ সময় পর আবার দেখা যাবে।

আরও পড়ুন
আকাশে ধূমকেতুটিকে একটি নীল-সবুজ আলোর গোলা হিসেবে দেখা যাবে। এই আলোর চারপাশে থাকে গ্যাসের একটি স্তর, যাকে বলা হয় কোমা। এর সঙ্গে থাকে হালকা ঝাপসা একটি লেজ।

তবে এই ধূমকেতুর ভবিষ্যৎ পথ একেবারে নিশ্চিত নয়। সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় ধূমকেতুর ভর কমতে থাকে। এতে এর গতিপথ বদলে যেতে পারে। তাই এটি আবার দীর্ঘ এত সময় পরে ফিরে আসবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এমনও হতে পারে, এটি চিরতরে সৌরজগৎ ছেড়ে চলে যাবে। এ কারণেই এটি বিরল।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, কিশোর আলো

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন