এক্সোপ্ল্যানেট কি পৃথিবীর শেষ মুহূর্তের ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে
পৃথিবীর যে রূপ আমরা দেখতে পাই, তা কি একদিনেই এমন অবস্থায় এসেছে?
এর উত্তর হলো, না। কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আজকের এই পৃথিবী আমরা পেয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে প্রাণের প্রাথমিক অণু অ্যামাইনো অ্যাসিড থেকে ধাপে ধাপে সৃষ্ট বিপুল জীববৈচিত্র্যের আধার এখন পৃথিবী।
কিন্তু এমন সময় কি আসতে পারে, যখন পৃথিবী অন্তিম দশায় পৌঁছাবে?
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিরন্তর গবেষণা চলছে। সেই অনুসন্ধানে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এমন একটি বহিঃসৌরগ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট, যার গতিপথ ও সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তাঁরা পৃথিবীর অন্তিম মুহূর্ত বুঝতে পারবেন।
সম্প্রতি জ্যোতির্বিদরা মহাকাশে একটি এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পেয়েছেন, যা ক্রমেই তার প্রকৃত গতিপথ থেকে সরে যাচ্ছে। এভাবে গ্রহটা সরে যাচ্ছে নিজের মাতৃনক্ষত্রের দিকে। এক্সোপ্ল্যানেটটির নাম কেপলার-১৬৫৮বি। কিছুদিন আগে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের মাধ্যমে আবিষ্কৃত এ বহিঃসৌরগ্রহটি। এই ঘটনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ পরিণতি জানার চেষ্টা করছেন। অনুমানের চেষ্টা করছেন, কীভাবে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর আমাদের এই পৃথিবী একটা সময়ে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।
হার্ভার্ড স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকসের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো জানা গেছে এই এক্সোপ্ল্যানেটের কথা। গ্রহটির কক্ষপথ ক্রমেই ক্ষয় হয়ে মাতৃনক্ষত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস-এ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অন্তিম দশা সম্পর্কে গবেষণা করতে পারছেন।
সম্প্রতি জ্যোতির্বিদরা মহাকাশে একটি এক্সোপ্ল্যানেটের সন্ধান পেয়েছেন, যা ক্রমেই তার প্রকৃত গতিপথ থেকে সরে যাচ্ছে। এক্সোপ্ল্যানেটটির নাম কেপলার-১৬৫৮বি।
এই গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গ্রহ এবং নক্ষত্রের জীবনচক্রের অন্তিম অবস্থা বিবেচনা করার জন্য এটি একটি নতুন মানদণ্ড। আমরা মাতৃনক্ষত্রের দিকে ধাবিত এক্সোপ্ল্যানেটের গতিপথ পর্যালোচনা করে এদের অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে নতুন সব তথ্য জানতে পরেছি।
সদ্য আবিষ্কৃত ওই এক্সোপ্ল্যানেটটি বৃহস্পতির ভর এবং আকারের সমান। কিন্তু সেটি তার মাতৃনক্ষত্রের কাছের কক্ষপথে ঘুরছে। গ্রহটি এমন দূরত্বে রয়েছে যা আমাদের সূর্য এবং তার সবচেয়ে কাছের কক্ষপথে প্রদক্ষিণকারী বুধ গ্রহ থেকে কাছে বা কম। সূর্য ও বুধের দূরত্বের মাত্র এক-অষ্টমাংশ ওই গ্রহ ও তার নক্ষত্রের অবস্থান।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, কেপলার-১৬৫৮বি এক্সোপ্ল্যানেটের কক্ষপথ বার্ষিক ভিত্তিতে কমছে। কেপলার-১৬৫৮বি এর কক্ষপথ প্রতি বছর প্রায় ১৩১ মিলিসেকেন্ড হারে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। গ্রহটি ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে ঘুরতে ঘুরতে তার হোস্ট নক্ষত্রের দিকে এগিয়ে চলেছে। গ্রহের ক্ষয়প্রাপ্ত কক্ষপথের পিছনে অন্যতম প্রধান কারণ নাকি জোয়ার-ভাটা। একইভাবে কিন্তু পৃথিবীর সাগর মহাসাগরগুলোতে প্রতিদিনই জোয়ার-ভাটা হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন, কেপলার-১৬৫৮বি এক্সোপ্ল্যানেটের কক্ষপথ বার্ষিক ভিত্তিতে কমছে। কেপলার-১৬৫৮বি এর কক্ষপথ প্রতি বছর প্রায় ১৩১ মিলিসেকেন্ড হারে ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।
গবেষকরা আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের জোভিয়ান সিস্টেমে ঘটতে থাকা অনুরূপ ঘটনার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি ইসার এক গবেষণা থেকে জানা যায়, আমাদের সৌরজগতের প্রধান নক্ষত্র সূর্য এখন তার মধ্যবয়সে প্রবেশ করেছে। সময়টা প্রায় ৪.৫৭ বিলিয়ন বছরের আশেপাশে হবে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সূর্যের জীবনের শেষ সময়গুলোতে তার নিকটবর্তী গ্রহ শুক্র, বুধ এবং পৃথিবীকে গিলে ফেলতে পারে!
গবেষণায় আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে প্রায় ৮ বিলিয়ন বছর পর সূর্য তার চূড়ান্ত তাপমাত্রায় পৌঁছাবে। এরপর তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করবে। আবার এর আকারও বাড়তে থাকবে। এই আকার ও আয়তন বৃদ্ধির সময় সূর্য তার নিকটবর্তী গ্রহগুলোকে গিলে ফেলার মাধ্যমে পরিণত হবে একটা রেড জায়ান্টে!