দুর্ঘটনাক্রমে আবিষ্কার হওয়া যে ৭টি জিনিস আমাদের প্রতিদিন কাজে লাগে
বিজ্ঞানের বড় বড় আবিষ্কার কি সব সময় ল্যাবে বসে অনেক ভেবেচিন্তে হয়? মোটেও না! মাঝেমধ্যে কাজ করতে করতে ভুল করে ফেললে কিংবা দুর্ঘটনাবশত তৈরি হয়ে যায় অসাধারণ সব জিনিস। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এমন অনেক জিনিস ব্যবহার করি, যা আসলে কোনো সিরিয়াস গবেষণার ফল নয়, বরং দুর্ঘটনার ফল। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি আবিষ্কারের গল্প।
১. মাইক্রোওয়েভ ওভেন
দৈনন্দিন জীবনে বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাইক্রোওয়েভ ওভেন। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, এই প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়েছিল একটি চকলেটের কারণে। ১৯৪৫ সালের কথা। মার্কিন প্রকৌশলী পার্সি স্পেন্সার রাডার নিয়ে কাজ করছিলেন। হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন, তাঁর পকেটে রাখা চকলেট বারটি গলে কাদার মতো হয়ে গেছে! স্পেন্সার ভয় না পেয়ে বরং কৌতূহলী হলেন।
কিছুক্ষণ পরেই তিনি বুঝতে পারলেন, রাডারে থাকা ম্যাগনেট্রন টিউব থেকে বের হওয়া তরঙ্গই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপর তিনি সেখানে পপকর্ন এবং ডিম দিয়ে পরীক্ষা করলেন। খাবার রান্না হয়ে গেল। ব্যস! এই ঘটনা থেকেই জন্ম হলো আজকের মাইক্রোওয়েভ ওভেনের।
২. দিয়াশলাই
১৮২৬ সালে জন ওয়াকার নামের এক ব্রিটিশ রসায়নবিদ তাঁর ল্যাবে একটি কাঠি দিয়ে কিছু রাসায়নিক মেশাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন, কাঠির মাথায় কিছু রাসায়নিক শুকিয়ে আটকে আছে। সেটা ছাড়ানোর জন্য তিনি যখনই ঘরের মেঝের ওপর ঘষা দিলেন, অমনি দপ করে আগুন জ্বলে উঠল! এই দুর্ঘটনা থেকেই আমরা পেলাম আজকের দিয়াশলাই বা ম্যাচ।
পার্সি স্পেন্সার বুঝতে পারলেন, রাডারে থাকা ম্যাগনেট্রন টিউব থেকে বের হওয়া তরঙ্গই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এরপর তিনি সেখানে পপকর্ন এবং ডিম দিয়ে পরীক্ষা করলেন। খাবার রান্না হয়ে গেল।
৩. চকলেট চিপ কুকিজ
১৯৩০ সালে রুথ ওয়েকফিল্ড তাঁর অতিথিদের জন্য চকলেট কুকিজ বানাচ্ছিলেন। হাতের কাছে বেকিং চকলেট না থাকায় তিনি নেসলে চকলেটের টুকরো ভেঙে মিশিয়ে দেন। তিনি ভেবেছিলেন ওভেনের তাপে চকলেটগুলো গলে পুরো কুকিতে মিশে যাবে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! চকলেটগুলো গলে তো গেলই না, বরং শক্ত দানা হয়েই রইল। আর সেই ভুল থেকেই জন্ম নিল বিশ্বখ্যাত চকলেট চিপ কুকিজ।
৪. স্লিংকি
১৯৪৩ সালে নৌ-প্রকৌশলী রিচার্ড জেমস জাহাজের সূক্ষ্ম যন্ত্রগুলোকে স্থির রাখার জন্য একধরনের স্প্রিং বানাচ্ছিলেন। কাজ করতে করতে হঠাৎ একটি স্প্রিং তাঁর টেবিল থেকে পড়ে যায়।
জেমস অবাক হয়ে দেখলেন, স্প্রিংটি পড়ে যাওয়ার বদলে যেন সিঁড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে নামছে! এটিই পরে শিশুদের জনপ্রিয় খেলনা স্লিংকি হিসেবে বিশ্বজয় করে।
৫. স্যাকারিন
চিনির চেয়েও মিষ্টি এই পদার্থটি আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৮৭৯ সালে। কনস্ট্যান্টিন ফাহলবার্গ তাঁর ল্যাবে বা আলকাতরা নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজ শেষে হাত না ধুয়েই তিনি পাউরুটি খেতে বসে যান। হঠাৎ লক্ষ করলেন পাউরুটিটি অদ্ভুত মিষ্টি লাগছে! তিনি বুঝতে পারলেন এটি তাঁর হাতে লেগে থাকা রাসায়নিকের কারসাজি। এভাবেই জন্ম নিল ডায়েট সচেতনদের প্রিয় স্যাকারিন।
১৯৪৩ সালে নৌ-প্রকৌশলী রিচার্ড জেমস জাহাজের সূক্ষ্ম যন্ত্রগুলোকে স্থির রাখার জন্য একধরনের স্প্রিং বানাচ্ছিলেন। কাজ করতে করতে হঠাৎ একটি স্প্রিং তাঁর টেবিল থেকে পড়ে যায়।
৬. বাবল র্যাপ
১৯৫৭ সালে আলফ্রেড ফিল্ডিং এবং মার্ক চ্যাভান্নেস চেষ্টা করেছিলেন একটি আধুনিক থ্রি-ডি ওয়ালপেপার বানাতে। কিন্তু প্লাস্টিকের পর্দার মাঝখানে বুদবুদ আটকে থাকা সেই ওয়ালপেপারটি কেউ পছন্দ করল না। পরে তাঁরা এটিকে গ্রিনহাউসের আবরণ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
অবশেষে ১৯৬০ সালে আইবিএম কম্পিউটারের সুরক্ষার জন্য এটি প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। আজ আমরা যা ফাটিয়ে আনন্দ পাই, তা আসলে ছিল এক ব্যর্থ ওয়ালপেপার!
৭. সিলি পুটি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রাকৃতিক রাবারের বিকল্প খুঁজছিল। জেমস রাইট সিলিকন তেলের সঙ্গে বোরিক অ্যাসিড মিশিয়ে একধরনের চটচটে বস্তু পেলেন, যা বলের মতো লাফাতে পারত। রাবার হিসেবে এটি ব্যর্থ হলেও খেলনা হিসেবে শিশুদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি অ্যাপোলো-৮-এর নভোচারীরাও এটি মহাকাশে ব্যবহার করেছিলেন!