কম্পিউটার রিস্টার্ট দিলে প্রায়ই ঠিক হয়ে যায় কেন
কম্পিউটার বা স্মার্টফোন হঠাৎ হ্যাং হয়ে গেলে আমরা রিস্টার্ট দিই। মানে কম্পিউটার বন্ধ করে আবার চালু করি! বেশিরভাগ সময় এতে মুশকিল আসান হয়ে যায়। কেন এতে কাজ হয়? এর পেছনে কোন বিজ্ঞান কাজ করে?
আপনি সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করুন কিংবা বড় কোনো স্প্রেডশিটে কাজ করুন, আপনার ডিভাইসের সব অস্থায়ী ডেটা জমা হয় র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরিতে বা র্যামে। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সফটওয়্যার ঠিকমতো ডিজাইন করা থাকে না। কাজ শেষ হওয়ার পরেও কিছু সফটওয়্যার র্যামের জায়গা দখল করে বসে থাকে। একে বলা হয় মেমোরি লিক। কম্পিউটার যখন রিস্টার্ট দেওয়া হয়, তখন র্যামে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সব ডেটা মুছে যায়। ফলে কম্পিউটার আবার সতেজ অবস্থায় ফিরে আসে এবং মেমোরি লিক সমস্যার সমাধান হয়।
ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো মূলত স্টেট ভিত্তিক মেশিন। এগুলো ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট যুক্তি বা লজিক মেনে কাজ করে। ধরুন, আপনি ১ নম্বর ধাপ থেকে ২ নম্বরে গেলেন, এরপর ৩ নম্বর ধাপে। কিন্তু কাজ করতে করতে অনেক সময় প্রোগ্রামগুলো এমন এক অবস্থায় চলে যায়, যার জন্য কোনো নির্দেশনা লেখা নেই। তখন কম্পিউটার বা সফটওয়্যারটি আর নড়াচড়া করতে পারে না, অর্থাৎ হ্যাং হয়ে যায়। রিস্টার্ট করলে সেই প্রোগ্রামটি আবার শুরুর পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে। তখন আর হ্যাং করে না।
অনেক সফটওয়্যার ঠিকমতো ডিজাইন করা থাকে না। কাজ শেষ হওয়ার পরেও কিছু সফটওয়্যার র্যামের জায়গা দখল করে বসে থাকে। একে বলা হয় মেমোরি লিক।
কম্পিউটারের মাউস, কিবোর্ড বা গ্রাফিক্স কার্ডের মতো হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের কাজ করে ড্রাইভার। অনেক সময় একটানা কাজ করলে এই ড্রাইভারগুলো ক্র্যাশ করে বা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে স্ক্রিন ফ্রিজ হয়ে যেতে পারে। আপনি যখন রিস্টার্ট দেন, তখন কম্পিউটার নতুন করে হার্ডওয়্যারগুলোকে চেক করে এবং ড্রাইভারগুলো পুনরায় লোড করে। ফলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যোগাযোগ আবার স্থাপিত হয়।
অনেক সময় আপনি কোনো অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও সেটি পুরোপুরি বন্ধ হয় না। ব্যাকগ্রাউন্ডে এটি চলতেই থাকে এবং প্রসেসরের শক্তি খরচ করতে থাকে। এগুলোকে বলা হয় জম্বি প্রসেস। সাধারণ টাস্ক ম্যানেজারে এগুলো সবসময় ধরা পড়ে না। রিস্টার্ট হলো এই ভুতুড়ে প্রসেসগুলো মারার সবচেয়ে সহজ উপায়।
কম্পিউটার যখন রিস্টার্ট দেওয়া হয়, তখন এটি নতুন করে হার্ডওয়্যারগুলোকে চেক করে এবং ড্রাইভারগুলো পুনরায় লোড করে। ফলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যোগাযোগ আবার স্থাপিত হয়।
তবে সবসময় সাধারণ রিস্টার্টে কাজ হয় না। তখন আইটি বিশেষজ্ঞরা বলেন প্লাগ খুলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে। একে বলা হয় হার্ড রিসেট বা পাওয়ার সাইক্লিং। আধুনিক ডিভাইসগুলো বন্ধ করলেও অনেক সময় স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে এবং এর ভেতরের ক্যাপাসিটরগুলোতে জমা থাকে সামান্য বিদ্যুৎ। এই সামান্য বিদ্যুৎটুকুও মেমোরি ধরে রাখতে পারে। ফলে ত্রুটিগুলো মেটে না। পুরোপুরি প্লাগ খুলে ১০-১৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করলে ক্যাপাসিটরগুলো ডিসচার্জ হয়ে যায়। এটি নেটওয়ার্ক বা আইপি অ্যাড্রেসের সমস্যা সমাধানে দারুণ কার্যকর।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কখনো কখনো মহাকাশ থেকে আসা কসমিক রে বা মহাজাগতিক রশ্মি আপনার ডিভাইসের প্রসেসরের কোনো একটি বিটের মান বদলে দিতে পারে। একে বলা হয় সিঙ্গেল ইভেন্ট আপসেট। এর ফলে কম্পিউটার বড় ধরনের ভুল করতে পারে বা ব্লু-স্ক্রিন দেখাতে পারে। রিস্টার্ট দিলে এই বিটগুলো আবার ঠিক হয়ে যায়।
এ ছাড়া, রিস্টার্ট দিলে ডিভাইসের হার্ডওয়্যার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং পেন্ডিং থাকা গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো ইনস্টল হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে কম্পিউটারের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় শুধু রিস্টার্ট দিলেই।