জাপানের যে দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়াল বেশি

জাপানের সেতো ইনল্যান্ড সিতে আওশিমা দ্বীপে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশিছবি: কার্ল কোর্ট/গেটি ইমেজ

জাপানের সেতো ইনল্যান্ড সিতে ছোট্ট একটি দ্বীপ আছে। নাম আওশিমা। এর আয়তন মাত্র ০.৫ বর্গকিলোমিটার। মজার ব্যাপার হলো, এখানে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি। এই দ্বীপটিতে প্রায় ৮০টি বন্য বিড়াল বাস করে। আর মানুষের সংখ্যা মাত্র তিন; তাঁরা আবার বৃদ্ধ।

জাপানের ১১টি দ্বীপ ‘বিড়াল দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে আওশিমা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

বিজ্ঞান সাময়িকী লাইভ সায়েন্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানুষ এই দ্বীপ ছেড়ে দিতে পারে। কারণ, সেখানে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা খুব একটা নেই, মানুষও বাড়ছে না। তখন দ্বীপটি পুরোপুরি বিড়ালের দখলে চলে যেতে পারে। তবে সেখানে বিড়ালের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে।

আওশিমা বিড়াল দ্বীপ হিসেবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়
ছবি: কার্ল কোর্ট/গেটি ইমেজ

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, প্রায় ১০ বছর আগে এখানে ২০০টির মতো বিড়াল ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ব্যাপকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো হয়। ফলে বিড়ালের সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমে যায়। এরপর থেকে আর কোনো বিড়ালের বাচ্চা জন্মানোর খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সব বিড়ালের বয়স সাত বছরের বেশি এবং এক-তৃতীয়াংশ বিড়াল ইনব্রিডিংয়ের কারণে বিভিন্ন রোগে ভুগছে।

আরও পড়ুন
বিজ্ঞান সাময়িকী লাইভ সায়েন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মানুষ আওশিমা দ্বীপ ছেড়ে দিতে পারে। কারণ, সেখানে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা খুব একটা নেই, মানুষও বাড়ছে না।

ক্যাট মামা নামে পরিচিত দ্বীপের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী নাওকো কামিমোতো ২০২৪ সালে বলেছিলেন, ‘একসময় এমন দিন আসবে, যখন এখানে কোনো মানুষ থাকবে না, এমনকি কোনো বিড়ালও থাকবে না। আমরা যত দিন আছি, তত দিন তাদের যত্ন নেওয়াই আমাদের কাজ।’

১৭ শতকে আওশিমায় বসতি গড়ে ওঠে। তখন এটি প্রায় ৯০০ জেলের গ্রামে পরিণত হয়। জেলেরা ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে কিছু বিড়াল নিয়ে আসে। কারণ, ওই সময়ে ইঁদুর মাছ ধরার জাল নষ্ট করত। কিন্তু ২০ শতকে মাছ ধরার ব্যবসা কমে গেলে মানুষ দ্বীপ ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে চলে যায়। অনেকেই তাদের বিড়াল রেখে যায় আর সেগুলো বংশবৃদ্ধি করতে থাকে।

জেলেরা ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে কিছু বিড়াল নিয়ে আসে
ছবি: কার্ল কোর্ট/গেটি ইমেজ

দ্বীপে থাকা এখনকার বিড়ালগুলো জাপানের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। তারা দ্বীপের ছোট ছোট প্রাণীও খায়, তবে এতে স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অনেক বিড়াল এখন পরিত্যক্ত বাড়ি ও ভেঙে পড়া ভবনে থাকে, যেগুলো ঝড় ও টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কামিমোতো প্রতিদিন দুবার তাদের খাওয়ান এবং অসুস্থ বিড়ালদের ওষুধ দেন।

আরও পড়ুন
১৭ শতকে আওশিমায় বসতি গড়ে ওঠে। তখন এটি প্রায় ৯০০ জেলের গ্রামে পরিণত হয়। জেলেরা ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে কিছু বিড়াল নিয়ে আসে। কারণ, ওই সময়ে ইঁদুর মাছ ধরার জাল নষ্ট করত।

আওশিমার বেশির ভাগ বিড়াল কমলা রঙের। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের জিনে জাপানের অন্য দ্বীপের বিড়ালের চেয়ে কিছুটা পার্থক্য আছে। কামিমোতো বলেন, ‘অনেকে ছবি দেখে মনে করে বিড়ালগুলো অবহেলিত। কিন্তু আসলে তা নয়। কিছু বিড়াল অন্ধ, কিছু খুব রোগা, আবার কিছু স্বাভাবিক দেখায়—এটা পুরোপুরি পরিবেশের বাস্তবতা।’

আওশিমার বেশির ভাগ বিড়াল কমলা রঙের
ছবি: সারা বিকম্যানস

মানুষ যদি এই দ্বীপ ছেড়ে চলে যায়, তাহলে স্থানীয়রা মনে করেন, স্বেচ্ছাসেবক ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বিড়ালগুলোকে নিয়ে যাবে। তবে আপাতত এই বিড়ালগুলো পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। দর্শনার্থীরা নৌকায় করে এখানে আসেন এবং বিড়ালদের খাবার দেন।

লেখক: সাংবাদিক

সূত্র: লাইভ সায়েন্স, দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন