ইরান যুদ্ধ শেষ না হলে তেলের দাম কমানোর তেমন উপায় নেই

ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

বিশ্ববাজারে হুট করেই তেলের দাম বেড়ে গেছে। বাংলাদেশেও তেলের পাম্পগুলোতে তেল নিতে গিয়ে লেগেছে হুড়োহুড়ি। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রলের দাম বেশ বেড়েছে। তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা এখন বিশ্বনেতাদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের নানা উপায় খুঁজছেন।

১৯৭০-এর দশক থেকে তেলের বাজারের একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, একবার বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করলে তার প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা পেট্রলের দাম কমানোর জন্য বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত মজুত থেকে বাজারে তেল ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের তেল রপ্তানি সীমিত করা এবং সাময়িকভাবে গ্যাসোলিনের ওপর থেকে কর স্থগিত করা। কিন্তু ইরানের চলমান সংঘাত শেষ না হলে দ্রুত কোনো সমাধান পাওয়া কঠিন হবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা বব ম্যাকনালি নিউইয়র্ক টাইমস-কে বলেছেন, ‘আমরা যাঁরা আগে এসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, তাঁরা জানি এর কোনো সহজ সমাধান নেই। যুদ্ধ যত দিন জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করবে, তত দিন প্রেসিডেন্টের হাতে তেলের দাম দ্রুত কমানোর কার্যকর ও শক্তিশালী কোনো উপায় থাকবে না।’

আরও পড়ুন
১৯৭০-এর দশক থেকে তেলের বাজারের একটি সাধারণ প্রবণতা হলো, একবার বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করলে তার প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাংকার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত এই সরু জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়। যেহেতু তেল বৈশ্বিক বাজারে কেনাবেচা হয়, তাই হরমুজ প্রণালির এই ধাক্কা খুব দ্রুত বিশ্বজুড়ে পেট্রল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জলপথে ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম কমানো কঠিন। যুদ্ধ শেষ হওয়া বা ইরান এই পথে চলাচল করা জাহাজের জন্য আর হুমকি নয়, এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে না। আর সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি তত বেশি থাকবে। তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কমোডিটি কনটেক্সটের প্রতিষ্ঠাতা ররি জনসন বলেছেন, ‘এটি বিশ্ববাজারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ ধাক্কা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল ফিরে না আসা পর্যন্ত অন্যান্য পদক্ষেপ তেলের দামে কেবল সামান্য সমন্বয়ই করতে পারবে।’

হরমুজ প্রণালি
ছবি: রয়টার্স

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। ৯ মার্চ বেশির ভাগ সময় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজ-কে বলেন ‘যুদ্ধ প্রায় পুরোপুরি শেষ’। তাঁর এই মন্তব্যের পর দাম কিছুটা কমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ১৭ শতাংশ বেড়ে গ্যালনপ্রতি গড়ে প্রায় ৩.৫০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের পর সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুন
ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়।

জ্বালানির খরচ কমানোর উপায় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেডারেল কর মওকুফ করা বা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করা। এ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তেলের বাজারে দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে কিছুটা হালকা করেই দেখিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধি সাময়িক এবং ইরানের যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহে বাধা দিতেই থাকে, তাহলে আমরা তাদের এমনভাবে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর জ্বালানি দল বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি শক্ত পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তাঁরা সব সম্ভাব্য বিকল্প পর্যালোচনা চালিয়ে যাবেন।’

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারে, তার একটি হলো স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে বাজারে তেল ছাড়া। এটি জরুরি পরিস্থিতির জন্য সংরক্ষিত অপরিশোধিত তেলের বিশাল এক মজুত। অন্য দেশগুলোরও এমন নিজস্ব মজুত আছে। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ জানিয়েছে, তারা আপাতত সমন্বিতভাবে বাজারে তেল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য সংরক্ষিত এই অপরিশোধিত তেল হরমুজের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে না ঠিকই, কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য এটি সবচেয়ে বাস্তবসম্মত একটি পদক্ষেপ হতে পারে। ২০২২ সালে ইউক্রেন সংকটের সময় বাইডেন প্রশাসন মজুত থেকে তেল ছাড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বেশ সমালোচনা করেছিলেন। তাই এখন পর্যন্ত ট্রাম্প নিজে সেই মজুত ব্যবহার করার নির্দেশ দেননি।

আরও পড়ুন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহে বাধা দিতেই থাকে, তাহলে আমরা তাদের এমনভাবে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।’

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই মজুতে প্রায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল আছে। এখান থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪৪ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহন হতো। তাই মজুত থেকে তেল ছাড়লেও বিশ্ববাজারে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। এর আগে ২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন ১৮০ দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল করে তেল ছাড়লেও সে বছরজুড়েই তেলের দাম বেশ কয়েকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

তেলের দামের ধাক্কা কমাতে আরও কিছু প্রস্তাব এসেছে, যদিও সেগুলোর অনেকটিই বেশ বিতর্কিত। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি গত সপ্তাহে ফেডারেল গ্যাসোলিন কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। এই করের পরিমাণ গ্যালনপ্রতি ১৮.৪ সেন্ট। তবে এটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। আর এটি কার্যকর হলে মহাসড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা তহবিল কমে যাবে।

আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে সীমিত করা। ২০১৫ সালে মার্কিন কংগ্রেস বহুদিনের পুরোনো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তখন ফ্র্যাকিং প্রযুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ১ কোটির বেশি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি করে। তাত্ত্বিকভাবে রপ্তানি বন্ধ করলে দেশে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম সাময়িকভাবে কমতে পারে। কিন্তু এতে তেল পরিশোধনের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার অনেক মিত্র দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেলের দাম কমানোর জন্য এটি আসলে খুব খারাপ একটি উপায়, যা দীর্ঘমেয়াদে বেশি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। কিন্তু এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনীতিবিদদের পক্ষে কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকাও খুব কঠিন।

আরও পড়ুন
২০২২ সালে বাইডেন প্রশাসন ১৮০ দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল করে তেল ছাড়লেও সে বছরজুড়েই তেলের দাম বেশ কয়েকবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল।

আরেকটি বিতর্কিত ধারণা হলো, রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা। বর্তমানে রাশিয়ার কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল ট্যাংকারে আটকে আছে, যা তারা বিক্রি করতে পারছে না। গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে বেশি পরিমাণ রুশ তেল কেনার জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে।

এ ছাড়া আরও কিছু ছোটখাটো ধারণা আছে। যেমন, রিফাইনারিতে সস্তা জ্বালানির মিশ্রণ তৈরি করার জন্য পরিবেশগত কিছু নিয়ম সাময়িক সময়ের জন্য শিথিল করা। তবে এই সিদ্ধান্ত তেলের বাজারে খুব অল্প প্রভাব ফেলতে পারবে। তেলের দাম বাড়লে সব সময়ই কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা ওঠে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বাস্তবে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিকল্প বিশ্বনেতাদের হাতে খুব কমই আছে।

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ চলাকালে এর মধ্যেই প্রায় ১০টি জাহাজে হামলা হয়েছে। ফলে অনেক শিপিং কোম্পানি ওই পথ দিয়ে জাহাজ পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে একটি ২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই অর্থ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলা জাহাজগুলোর বিমা খরচ কমাতে কাজে লাগবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় অনেক জাহাজমালিকের কাছে শুধু বিমার এই অর্থ খুব একটা স্বস্তিদায়ক আশ্বাস নয়।

আরও পড়ুন
গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে বেশি পরিমাণ রুশ তেল কেনার জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল দক্ষিণে লোহিত সাগরের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে যে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এটি তার খুব সামান্য অংশই পূরণ করতে পারবে।

পারস্য উপসাগরের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো শিগগিরই নিজেদের তেল উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। কারণ, তারা যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তবে বাধ্য হয়েই উত্তোলন বন্ধ করে দিতে হবে। ইরাক ও কুয়েত এর মধ্যেই উৎপাদন কমানোর কথা বলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও বন্ধ হয়ে যাওয়া তেলের কূপ আবার চালু করতে সপ্তাহ কিংবা মাসখানেক লেগে যেতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসট্যাড এনার্জি বলেছে, যদি প্রণালিটি কয়েক মাস বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

প্রশ্ন হলো, বৈশ্বিক দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো কি বেশি তেল উত্তোলন শুরু করবে? গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তেল উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা ছিল উত্তোলনের একটি রেকর্ড। তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বর্তমানের এই মূল্যবৃদ্ধি তেল উত্তোলন বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট কোনো কারণ নয়।

আরও পড়ুন
গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসট্যাড এনার্জি বলেছে, যদি হরমুজ প্রণালিটি কয়েক মাস বন্ধ থাকে, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৫ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

তেল উত্তোলন বাড়ানো নিয়ে অনেক সতর্কতা রয়েছে। কারণ, ভূরাজনৈতিক সংকটে তেলের দাম হঠাৎ বাড়লেও তা প্রায়ই দ্রুত মন্দা সৃষ্টি করে এবং পরে দাম আবার হুড়মুড় করে পড়ে যায়।

আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো, তেলের ব্যবহার কমানোর দিকে জোর দেওয়া। ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তেলের দামের ওঠানামার প্রতি অনেক কম সংবেদনশীল। কারণ, গাড়ি ও শিল্পখাত এখন অনেক বেশি জ্বালানিসাশ্রয়ী। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ক্ষেত্রেও কথাটি অনেকাংশেই সত্য।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক, কিশোর আলো

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

আরও পড়ুন