মার্ক জাকারবার্গের বই পড়ার অভ্যাস থেকে আমরা যে ৪ শিক্ষা নিতে পারি
ফেসবুকের মালিক হয়েও মার্ক জাকারবার্গ দিনরাত ফেসবুকে পড়ে থাকেন না, তিনি বই পড়েন। বছরে অন্তত ২৫টি বই পড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি। এত ব্যস্ততার মাঝেও কীভাবে সময় বের করেন এই ধনকুবের? কীভাবে মনে রাখেন পড়া বিষয়গুলো? জাকারবার্গের বই পড়ার এই গোপন ৪টি কৌশল কাজে লাগিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরও স্মার্ট ও সফল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই যুগে আমরা সবাই স্ক্রিনের নেশায় বুঁদ হয়ে আছি। সারা দিন ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল করতে করতে আমাদের সময় কাটে। কিন্তু মজার ব্যাপার কী জানেন? যাঁরা এই প্রযুক্তিগুলো বানাচ্ছেন, সেই মানুষগুলো কিন্তু এখনো বই পড়তেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।
অনেকের কাছে বই পড়াটা সেকেলে মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে বই পড়ার মাধ্যমেই তৈরি হয়েছেন পৃথিবীর বাঘা বাঘা সব বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও ইতিহাসব। বই পড়া মানে কয়েক ঘণ্টার জন্য পৃথিবীর কোনো একজন মহাজ্ঞানী মানুষের মস্তিষ্ক ‘ধার’ নেওয়া। জীবনের সবচেয়ে সস্তা অথচ সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল বই পড়া।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কথাই ধরুন। তিনি চান আপনি দিনরাত ফেসবুকে স্ক্রল করুন। কিন্তু তিনি নিজে কী করেন? ২০১৫ সালে তিনি একটি বুক ক্লাব চালু করেছিলেন। প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে বই পড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন স্বয়ং জাকারবার্গ। তাঁর সেই পড়ার অভ্যাস থেকে আমরা দারুণ চারটি শিক্ষা নিতে পারি।
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ২০১৫ সালে তিনি একটি বুক ক্লাব চালু করেছিলেন। প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে বই পড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি।
১. লক্ষ্য সবাইকে জানিয়ে দিন
জাকারবার্গ যখন প্রতি দুই সপ্তাহে একটি বই পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি সেটা নিজের মধ্যে চেপে রাখেননি। তাঁর ৩ কোটি অনুসারীকে সেটা ঘটা করে জানিয়েছিলেন। এতে নিজের কাছে নিজের একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। একে বলা হয় অ্যাকাউন্টেবিলিটি পার্টনার বা জবাবদিহির অংশীদার।
এই কাজ করার জন্য আপনার কোটি কোটি ফলোয়ারের দরকার নেই। আপনি আপনার লক্ষ্যের কথা বন্ধুদের বা পরিবারের কাউকে জানান। দেখবেন, লোকলজ্জার ভয়ে হলেও আপনার বই পড়া থামবে না।
২. পড়ার জন্য সময় বের করুন
জাকারবার্গ কোটি কোটি ডলারের কোম্পানি চালান। অথচ তিনি ঠিকই পড়ার সময় বের করেন। আমাদের একটা বড় অজুহাত হলো, সময় পাই না! মনে রাখবেন, পড়ার জন্য সময় পাওয়া যায় না, সময় করে নিতে হয়।
দিনে মাত্র ২০-৩০ মিনিট সময় আলাদা করে রাখুন। সেটা হতে পারে সকালে, দুপুরের বিরতিতে কিংবা ঘুমানোর আগে। এই অল্প সময়টাই বছরের শেষে বড় অর্জনে রূপ নেবে।
জাকারবার্গ কেবল বই পড়তেন না, তিনি অন্যদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা করতেন। এমনকি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বই নিয়ে গভীর আলোচনায় অংশ নিতেন।
৩. এমন বই বেছে নিন, যা আপনাকে চ্যালেঞ্জ করে
সহজ বই পড়ে আনন্দ পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু চিন্তা পরিষ্কার হয় না। জাকারবার্গ শুধু সহজ বই বা বেস্টসেলার বইগুলোই পড়তেন না, বরং তিনি তাঁর পড়ার তালিকায় রেখেছিলেন স্যাপিয়েনস কিংবা দ্য মুকাদ্দিমাহ-এর মতো জটিল সব বই।
এমন বই বেছে নিন, যা আপনার চেনা গণ্ডির বাইরে চিন্তা করতে বাধ্য করবে। যদি কোনো বই পড়তে ভালো না লাগে, তবে সেটা জোর করে শেষ করার দরকার নেই। সেটা রেখে দিয়ে অন্য একটি বই ধরুন। মনে রাখবেন, যে বই আপনাকে চ্যালেঞ্জ করবে না, সে বই আপনাকে বদলাতেও পারবে না।
৪. পড়ুন এবং আলোচনা করুন
বই পড়া মানে শুধু পাতা উল্টে যাওয়া নয়, বইয়ের নির্যাসটুকুও নিজের মধ্যে নেওয়া। জাকারবার্গ কেবল বই পড়তেন না, তিনি অন্যদের সঙ্গে বই নিয়ে আলোচনা করতেন। এমনকি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বই নিয়ে গভীর আলোচনায় অংশ নিতেন।
আপনি যা পড়ছেন, তা নিয়ে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলুন কিংবা বই রিভিউ লিখতে পারেন। এতে আপনার স্মৃতিশক্তি যেমন বাড়বে, তেমনি আপনার পড়ার বিষয়টির ওপর দখলও তৈরি হবে। শেয়ার করা মানেই হলো নিজের জানাকে আরও মজবুত করা।