ইরান যুদ্ধ অদৃশ্য উপায়ে যেভাবে পরিবেশকে প্রভাবিত করছে

ইরান যুদ্ধ কি আমাদের ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করছে?ছবি: দারিয়া লাদা

৮ মার্চ। তেহরানের আকাশ ছেয়ে গেছে এক অদ্ভুত, গা ছমছমে অন্ধকারে। আকাশ থেকে যখন বৃষ্টি নামতে শুরু করল, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা দেখলেন এটি কোনো সাধারণ বৃষ্টি নয়; এই বৃষ্টি ছিল চরম দুর্গন্ধযুক্ত, ঘন এবং একেবারে কালচে রঙের। রাস্তাঘাট, বাড়ির ছাদ ও গাড়িগুলো যেন কালো কালিতে ঢেকে গেল। অনেকেই একে কালো বৃষ্টি বলে বর্ণনা করেছেন।

আসলে সেই রাতেই ইসরায়েল ইরানের ৩০টির বেশি তেল স্থাপনায় ভয়ংকর হামলা চালিয়েছিল। এই হামলা এবং তার ফলে লাগা আগুনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও এই হামলার কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে পরে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

বোমা ও বারুদের শব্দে আমরা হয়তো শুধু মানুষের মৃত্যুর হিসাব কষি। কিন্তু এই যুদ্ধের একটা নীরব শিকার আছে, যার কান্না কেউ শুনতে পায় না। তা হলো আমাদের এই প্রকৃতি। বিষাক্ত ধোঁয়া, সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া তেল, ভয়ংকর কার্বন নির্গমন, বিষাক্ত মাটি এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইকোসিস্টেম; এই যুদ্ধের পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ পুরো অঞ্চলে এক মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার অনেক দিন পরও প্রকৃতিকে তিলে তিলে শেষ করে দেবে এই ধ্বংসযজ্ঞ।

৮ মার্চ ইরানের তেহরানে তেল সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় আগুন লাগার পর কালো ধোঁয়া উড়ছিল
ছবি: কাভে কাজমি/গেটি ইমেজ

ওপেন সোর্স থেকে পাওয়া নানা প্রমাণ, স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি, সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে ইরান, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লেবাননে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের চিত্র ফুটে উঠছে। আকাশ, সমুদ্র এবং ভূমি—প্রকৃতির এই তিন রণাঙ্গনেই এক বহুমুখী আক্রমণ চলছে।

আরও পড়ুন
বিষাক্ত ধোঁয়া, সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়া তেল, ভয়ংকর কার্বন নির্গমন, বিষাক্ত মাটি এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইকোসিস্টেম; এই যুদ্ধের পরিবেশগত ধ্বংসযজ্ঞ পুরো অঞ্চলে এক মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

বাতাসে যখন শুধুই বিষ

যুদ্ধের ফলে বাতাসে যে পরিমাণ বিষ ছড়াচ্ছে, তা সত্যিই শিউরে ওঠার মতো। যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ ক্ষতিকর গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি মিসাইল হামলায় প্রায় ০.১৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়, যা একটি গাড়ি চালিয়ে ৩৫০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার সমান। এর মধ্যে কেবল হামলার ফলে সৃষ্ট গ্যাসই নয়, মিসাইল তৈরি এবং এর সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত কার্বন নির্গমনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া সামরিক বিমান ও নৌবাহিনীর অপারেশন, আগুন, জ্বালানি পোড়ানো এবং পরবর্তী সময়ে পুনর্নির্মাণের কাজ থেকেও প্রচুর কার্বন নির্গত হয়।

আকাশের এই ধ্বংসযজ্ঞ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে তেহরানে। তেল স্থাপনায় হামলার পর শহরের আকাশ কয়েক দিন ধরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে ছিল। লাখ লাখ মানুষের এই শহরের আকাশকে ইরানিরা ‘অ্যাপোক্যালিপটিক’ বা কিয়ামতের মতো পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেছেন। জ্বলন্ত তেলের এই আগুন থেকে ব্ল্যাক কার্বন নির্গত হয়, যা মানুষের তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা তৈরি করে। এ ছাড়া ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড বা উদ্বায়ী জৈবযৌগ, সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং অতিসূক্ষ্ম কণা বাতাসে মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

তেহরানে তেল স্থাপনায় হামলার পর শহরের আকাশ কয়েক দিন ধরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে ছিল
ছবি: ফাতেমেহ বাহরামি/আনাদোলু/গেটি ইমেজ

সামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে জ্বালানি তেল, ভারী ধাতু এবং পিএফএএস (PFAS) নামে চিরস্থায়ী রাসায়নিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রকৃতি থেকে কখনোই একেবারে মুছে যায় না। লেবাননে সাদা ফসফরাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা আগুন ধরানো থেকে শুরু করে ফসল ধ্বংস করা, মাটির রাসায়নিক গঠন বদলে দেওয়া এবং আশপাশের এলাকায় বিষাক্ত কণা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর কাজ করে। অন্যদিকে একটি যুদ্ধবিমান প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত করে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে চালানো হাজার হাজার বিমান হামলা থেকে প্রায় ৫ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশেছে বলে ধারণা করা হয়।

আরও পড়ুন
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি মিসাইল হামলায় প্রায় ০.১৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস নির্গত হয়, যা একটি গাড়ি চালিয়ে ৩৫০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার সমান।

মাটির নিচের নীরব কান্না

ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলো হয়তো চোখের সামনে দেখা যায়, কিন্তু মাটি, পানি ও ধ্বংসস্তূপের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত দূষণ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। লেবাননের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের তথ্যমতে, মাত্র ৪৫ দিনের যুদ্ধে সেখানে ৫০ হাজারের বেশি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৫৬টি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং ৩২ হাজার ৬৬৮টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের ‘কনফ্লিক্ট ইকোলজি ল্যাব’-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ধ্বংস হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৫টি ভবন। শুধু তেহরানেই সামরিক স্থাপনাসহ ১ হাজার ২০০-এর বেশি ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

মাটি, পানি ও ধ্বংসস্তূপের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত দূষণ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন
ছবি: আরব নিউজ

পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে গবেষণা করা পলিসি অ্যাডভাইজার ও শিক্ষাবিদ অ্যান্টোইন কাল্লাব জানান, যেকোনো সক্রিয় যুদ্ধই ইকোসিস্টেম বদলে দেয়। তাঁর মতে, যখন বোমা ফাটে, তখন ধোঁয়া তো আকাশে উড়ে যায়, কিন্তু বিষাক্ত উপাদানে ভরা ধ্বংসস্তূপ মাটিতেই থেকে যায়। এই ধ্বংসস্তূপ মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে সেগুলোর গুণগত মান চিরতরে বদলে দিতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কাল্লাব আরও জানান, লেবাননে ২০২৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে মাত্র তিন মাসের যুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগত।

আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের ‘কনফ্লিক্ট ইকোলজি ল্যাব’-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ধ্বংস হয়েছে ৭ হাজার ৬৪৫টি ভবন।

এই ধ্বংসস্তূপ কিন্তু মোটেও নিরীহ কোনো জিনিস নয়। কোনো ভবন যখন বোমায় উড়ে যায় বা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন এর ভেতর থেকে প্লাস্টিক, সলভেন্ট, ইনসুলেশন ফাইবার, অ্যাসবেস্টস এবং ভারী ধাতুর মতো বিষাক্ত উপাদান চারপাশের মাটি ও পানিতে মিশে যায়। ডাচ এনজিও ‘প্যাক্স’-এর কর্মকর্তা উইম জুইনেনবার্গ জানান, রকেট জ্বালানি বা মিসাইল তৈরির কারখানাগুলো থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি ইনস্টিটিউটের প্যাট্রিক বিগার জানিয়েছেন, এই বিষাক্ত পদার্থগুলো খাদ্যশৃঙ্খলে ঢুকে পড়ার ভয়ংকর ঝুঁকি তৈরি করছে। এই ভারী ধাতুগুলো মাটিতে মেশার পর উদ্ভিদ তা শোষণ করে, এরপর সেই উদ্ভিদ খায় নানা প্রাণী। এভাবেই বিষাক্ত উপাদান পুরো খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের স্তরে পৌঁছে যায়। লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সে দেশের অন্তত ৬৮ শতাংশ কৃষিজমি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন
ডাচ এনজিও ‘প্যাক্স’-এর কর্মকর্তা উইম জুইনেনবার্গ জানান, রকেট জ্বালানি বা মিসাইল তৈরির কারখানাগুলো থেকে বিষাক্ত পদার্থ ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

সমুদ্রের গভীরে অজানা আতঙ্ক

উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশ আগে থেকেই উষ্ণ হয়ে যাওয়া পানি এবং শিল্পকারখানার দূষণের কারণে চরম চাপে ছিল। এখন যুদ্ধ সেই চাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের কারণে মাইন, সোনার, সামরিক তৎপরতা এবং অতিরিক্ত জাহাজের ভিড় সামুদ্রিক প্রাণীদের জন্য চরম পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৭ হাজার ডুগং নামের সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী এবং ১০০-এরও কম অ্যারাবিয়ান হাম্পব্যাক তিমি বাস করে। এই বিরল প্রজাতির তিমিরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিবাসন করে না, তাই যুদ্ধ শুরু হলেও তারা নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে পারে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি বেশ অগভীর, উষ্ণ এবং চারদিক থেকে কিছুটা আবদ্ধ হওয়ার কারণে সেখানে বিষাক্ত উপাদানগুলো অন্য যেকোনো উন্মুক্ত সাগরের চেয়ে বেশি সময় ধরে টিকে থাকে।

কনটেইনার জাহাজ শহীদ বাঘেরি
ছবি: উইকিপিডিয়া

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘শহীদ বাঘেরি’ নামের একটি জাহাজে হামলা চালায়। এটি মূলত একটি কনটেইনার জাহাজ ছিল, যাকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ড্রোন ক্যারিয়ারে রূপান্তর করেছিল। বিশেষজ্ঞদের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এই জাহাজ থেকে ভারী জ্বালানি তেল লিক করে সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। তেলের এই আস্তরণ ভাসতে ভাসতে ইউনেসকো স্বীকৃত ‘হারা বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ’-এর ম্যানগ্রোভ বনের দিকে চলে যায়। এই বনটি সামুদ্রিক কচ্ছপ, পেলিকান পাখি ও সামুদ্রিক সাপের আবাসস্থল।

আরও পড়ুন
উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি বেশ অগভীর, উষ্ণ এবং চারদিক থেকে কিছুটা আবদ্ধ হওয়ার কারণে সেখানে বিষাক্ত উপাদানগুলো অন্য যেকোনো উন্মুক্ত সাগরের চেয়ে বেশি সময় ধরে টিকে থাকে।

একইভাবে লাবন দ্বীপে তেলের শোধনাগারে হামলার কারণে পাশের জনমানবহীন শিদভার দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর ও পরিযায়ী পাখিরা হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বসরা, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তরেও অল্প পরিমাণে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দূষিত এই সামুদ্রিক জলরাশি শুধু বন্য প্রাণীরই নয়, বরং মাছ ধরা, সামুদ্রিক খাবার এবং সুপেয় পানির জন্য ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্যও মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির পরিচালক ডগ উইর জানিয়েছেন, তেহরানের ক্ষতিগ্রস্ত একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা থেকে জ্বলন্ত তেল সরাসরি ড্রেনেজ সিস্টেমে গিয়ে মেশার দৃশ্য তাঁরা ফুটেজে দেখেছেন। তাঁর মতে, এমন অনেক ধ্বংসযজ্ঞ রয়েছে, যা আমরা এখনো চোখেই দেখিনি।

আরও পড়ুন
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা যতটা পাওয়া গিয়েছিল, এই অঞ্চলে তেমনটা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করেন ডগ উইর।

ভবিষ্যতের অন্ধকার পথ

যুদ্ধ হয়তো একসময় থেমে যাবে, বোমার আওয়াজও বন্ধ হবে, কিন্তু পরিবেশের এই ধ্বংসলীলা সহজে থামবে না। প্যাট্রিক বিগারের মতে, আধুনিক যুদ্ধে জলবায়ুর সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয় কংক্রিটের ভবনগুলো ধ্বংস হওয়া এবং সেগুলো নতুন করে পুনর্নির্মাণের কারণে। যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর দেশগুলোর সরকার নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই এত ব্যস্ত থাকে যে পরিবেশ বাঁচানোর বিষয়টি তাদের কাছে আর কোনো গুরুত্ব পায় না বলে জানিয়েছেন ডগ উইর।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা যতটা পাওয়া গিয়েছিল, এই অঞ্চলে তেমনটা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলেই মনে করেন ডগ উইর। লেবাননের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জ আরও বেশি, কারণ সেখানকার মানুষ এখনো তাদের নিজেদের ভিটেমাটিতেই ফিরতে পারেনি। পরিবেশ পুনরুদ্ধারের আগে মানুষকে তাদের নিজেদের বাসস্থান এবং জীবিকা পুনরায় ফিরে পেতে হবে।

প্যাট্রিক বিগারের মতে, আধুনিক যুদ্ধে জলবায়ুর সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি হয় কংক্রিটের ভবনগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণে
ছবি: মাহমুদ হামস/এএফপি/গেটি ইমেজ

পরিবেশের এই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়তো এক দিনে বা হঠাৎ করে চোখে পড়বে না। ডগ উইরের ভাষায়, এটি কোনো একক বড় ঘটনা নয়, বরং হাজারটা ছোট ছোট আঘাতের মাধ্যমে পরিবেশের তিলে তিলে মৃত্যুর এক করুণ উপাখ্যান। আপনি হয়তো ভাবছেন, যুদ্ধ শুধু মানুষেরই ক্ষতি করে, কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞ প্রমাণ করে দিচ্ছে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় এবং নীরব শিকার হলো আমাদের এই সবুজ পৃথিবী।

সূত্র: ওয়্যার্ড ডটকম

আরও পড়ুন