কাপড়ের রঙে যিনি খুঁজছেন কার্বনমুক্ত ভবিষ্যৎ

পোশাকশিল্পের বিশাল উৎপাদনযজ্ঞে পরিবেশদূষণ এক বড় ক্ষত। তবে কোটি টাকার নতুন যন্ত্রপাতি ছাড়াই, শুধু উৎপাদনপ্রক্রিয়া বদলে কার্বন নির্গমন ও পানির অপচয় কমানো সম্ভব—এমনই অভিনব পথ দেখাচ্ছেন বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক। পরিবেশবান্ধব এই উদ্ভাবনী গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

বুটেক্সের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়কছবি: লেখক

দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে পোশাকশিল্প থেকে। কিন্তু বিশাল এই শিল্পের গায়ে লেগে আছে একটি বড় দাগ—কার্বন নির্গমন। বস্ত্রশিল্পকে বলা হয় বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষণকারী শিল্প। বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় ৮ শতাংশ অংশীদারই এই খাত। প্রচলিত ধারায় এই দূষণ কমাতে লাগে বিপুল বিনিয়োগ, নতুন যন্ত্রপাতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিকীকরণ, যা বেশির ভাগ কারখানার পক্ষে সহজে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এই প্রথাগত চিন্তা ভাঙতেই কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক। ‘বড় বিনিয়োগ ছাড়াই শুধু উৎপাদনপ্রক্রিয়া বদলে এবং সঠিক কাঁচামাল প্রয়োগ করে কারখানার কার্বন নির্গমন, পানির ব্যবহার ও রাসায়নিক ব্যবহার একসঙ্গে কমানো সম্ভব’—এই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতেই তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব’।

তাঁর এই নিরলস গবেষণার স্বীকৃতি মিলেছে এ বছর। বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট প্রকাশিত এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় এ বছর জায়গা পেয়েছেন তিনজন বাংলাদেশি। তাঁদেরই একজন মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক। কম কার্বন নির্গমন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর এই গবেষণার জন্য তিনি এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর বিশ্বের শীর্ষ ১০ উদ্ভাবকের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
প্রচলিত ধারায় কার্বন নির্গমনের দূষণ কমাতে লাগে বিপুল বিনিয়োগ, নতুন যন্ত্রপাতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিকীকরণ, যা বেশির ভাগ কারখানার পক্ষে সহজে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

ডিকার্বনাইজেশন ল্যাবের ধারণাটা কী

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা। সেই লক্ষ্য অর্জনে অন্যান্য শিল্প খাতের মতো বস্ত্রশিল্পকেও দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে। এই প্রক্রিয়াকেই বলা হচ্ছে ডিকার্বনাইজেশন।

ড. আব্বাসের ভাষায়, ‘ডিকার্বনাইজেশনের চারটি প্রধান পথ রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ও উৎপাদনব্যবস্থার বৈদ্যুতিকীকরণ—এই তিন ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন, কিন্তু চতুর্থ পথটি ভিন্ন। সেটি হলো উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন বা প্রসেস ইনোভেশন।’ তাঁর গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো কীভাবে বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেই উৎপাদনপ্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ করা যায়। কীভাবে কম পানি, কম তাপ ও কম রাসায়নিক ব্যবহার করে একই মানের উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়, সেই সমাধানই খুঁজছে তাঁর দল।

আরও পড়ুন
উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বাষ্প ঠান্ডা হয়ে যে গরম পানি তৈরি হয়, সেটিকে সাধারণত অপচয় করা হয়। কিন্তু সেই পানি ও তার তাপ পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন করে পানি গরম করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়।

কাপড় রং করার ভেতরেই লুকিয়ে আছে সমাধান

ডিকার্বনাইজেশন বললে অনেকের চোখেই ভেসে ওঠে সৌরবিদ্যুৎ বা আধুনিক যন্ত্রপাতির ছবি। কিন্তু ড. আব্বাসের উদ্ভাবন দেখিয়েছে, অনেক সময় সবচেয়ে বড় সাশ্রয় লুকিয়ে থাকে উৎপাদনপ্রক্রিয়ার ছোট ছোট ধাপের মধ্যে। বিশেষ করে কাপড় রং করা, ধোয়া ও ফিনিশিংয়ের মতো ধাপগুলোতে অনেক পানি, বিদ্যুৎ ও তাপশক্তি ব্যবহৃত হয়। এই প্রক্রিয়াগুলোর সামান্য পরিবর্তনও বড় ধরনের পরিবেশগত সুফল দিতে পারে।

তাঁর দলের গবেষণায় দেখা গেছে, নিট কাপড়ের ডাইংয়ে প্রচলিত দুটি প্রক্রিয়া—বায়ো স্কাওরিং ও বায়োপলিশিং একই সঙ্গে সম্পন্ন করা গেলে পানির ব্যবহার প্রায় ৪০ শতাংশ ও বিদ্যুতের ব্যবহার ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। গার্মেন্টস ওয়াশিংয়ে পানির অনুপাত ও রিনসিং ধাপ কমিয়ে পানির ব্যবহার ৩৫ শতাংশ ও বিদ্যুতের ব্যবহার প্রায় ১৮ শতাংশ কমানো গেছে। আবার ইয়ার্ন ডাইংয়ে প্রিট্রিটমেন্ট ধাপ পুনর্বিন্যাস করে পানির ব্যবহার ৭৫ শতাংশ ও বিদ্যুতের ব্যবহার ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সুফল পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল এসেছে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বাষ্প পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বাষ্প ঠান্ডা হয়ে যে গরম পানি তৈরি হয়, সেটিকে সাধারণত অপচয় করা হয়। কিন্তু সেই পানি ও তার তাপ পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন করে পানি গরম করার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এতে পানির সাশ্রয় ১০০ শতাংশ ও বিদ্যুতের সাশ্রয় ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভব হয়েছে। একইভাবে বর্জ্য–পানি শোধনাগার বা ইটিপি থেকে পরিশোধিত পানি পুনর্ব্যবহার করে পানির ব্যবহার ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার সম্ভাবনাও দেখিয়েছে এই গবেষণা।

আরও পড়ুন
আগামী দিনে বাংলাদেশের কারখানাগুলো যদি পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশের অর্থনীতির বড় অংশই এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজার দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড এখন শুধু কম দামের পণ্য খুঁজছে না, তারা জানতে চাইছে উৎপাদনের সময় কত কার্বন নিঃসরিত হয়েছে, কতটুকু পানি ব্যবহৃত হয়েছে, কতটুকু পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহৃত হয়েছে। ২০৩০, ২০৩৫ ও ২০৫০ সাল সামনে রেখে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব জলবায়ু লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের কারখানাগুলো যদি পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ড. আব্বাসের মতে, বিশ্বের পোশাকশিল্পে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৫২ শতাংশ আসে সুতা ও কাপড় উৎপাদনের ধাপ থেকে। প্রচলিত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই নির্গমনের একটি বড় অংশ কমানো সম্ভব হলেও নেট-জিরো লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় আরও উদ্ভাবন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
বর্তমানে সরাসরি কাজ চলছে কয়েকটি কারখানায়, তবে সামগ্রিকভাবে ড. আব্বাসের দল ডিকার্বনাইজেশন ও প্রক্রিয়া উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগে ২০০টির বেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছে।

ডিকার্বনাইজেশন ল্যাবের যাত্রা

যদিও ডিকার্বনাইজেশন ল্যাব নামে উদ্যোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০২৪ সালে, কিন্তু এর পেছনের গবেষণা ও কাজের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ড. আব্বাস জানান, ২০১০ সাল থেকেই তিনি এ বিষয়ে কাজ শুরু করেন। আর উৎপাদনপ্রক্রিয়া পরিবর্তন ও সদ্ব্যবহারের কাজ শুরু হয় ২০১৫-১৬ সালের দিকে। ২০২২-২৩ সালে একটি জার্মান উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পের আওতায় তিনি প্রায় ৫০টি কারখানার সঙ্গে কাজ করেন। বর্তমানে সরাসরি কাজ চলছে কয়েকটি কারখানায়, তবে সামগ্রিকভাবে তাঁর দল ডিকার্বনাইজেশন ও প্রক্রিয়া উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগে ২০০টির বেশি কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছে।

তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও পাঁচজন। দলটি ছোট হলেও তাদের অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি শিল্প নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁরা শত শত কারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিখছেন এবং নতুন সমাধান তৈরি করছেন।

আরও পড়ুন
ড. আব্বাসের ভাষায়, উৎপাদিত পণ্য যদি ক্রেতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে সেই গবেষণার বাস্তব মূল্য নেই। এ কারণেই তাঁর গবেষণা শুধু ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নয়।

বিজ্ঞান ও বাস্তবতার সংযোগ

ডিকার্বনাইজেশন ল্যাবের পদ্ধতি মূলত চারটি ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে সংগ্রহ করা হয় কারখানার উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য—জ্বালানির ব্যবহার, পানির ব্যবহার, প্রযুক্তিসক্ষমতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিবরণ। দ্বিতীয় ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় কোথায় সবচেয়ে বেশি অপচয় হচ্ছে। এখানে শুধু একটি যন্ত্রের কার্যকারিতা নয়, বরং তাপ, পানি, রাসায়নিক ও শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। তৃতীয় ধাপে কারখানাকে দেওয়া হয় প্রযুক্তিগত সুপারিশ। কোন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা যেতে পারে, কোথায় শক্তি সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায়—এসব বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর শেষ ধাপে ড্যাশবোর্ডভিত্তিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়।

ল্যাবে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক

কারখানার বাস্তবতাই শেষ কথা

গবেষক হিসেবে ড. আব্বাসের একটি মতবাদ স্পষ্ট, গবেষণার সাফল্য শেষ পর্যন্ত কারখানার উৎপাদনে প্রতিফলিত হতে হবে। তাঁর ভাষায়, উৎপাদিত পণ্য যদি ক্রেতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে সেই গবেষণার বাস্তব মূল্য নেই। এ কারণেই তাঁর গবেষণা শুধু ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি উদ্ভাবনকে তিনি শিল্পে প্রয়োগযোগ্য ও রপ্তানিযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন
২০১৭ সালে ড. আব্বাস যোগ দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। বর্তমানে তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রসেস অপটিমাইজেশন, সার্কুলার ইকোনমি ও টেক্সটাইল রসায়ন।

ক্যাডেট কলেজ থেকে ম্যানচেস্টার

ড. আব্বাসের শিক্ষাজীবনের পথও বেশ বৈচিত্র্যময়। সপ্তম শ্রেণি থেকে তিনি পড়াশোনা করেন ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে। পরে কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজি (বর্তমান বুটেক্স) থেকে ২০০২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর প্রায় তিন বছর পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টে কাজ করেন। এই শিল্পের অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর গবেষণাকে বাস্তবমুখী করে তুলেছে।

২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর দেশে ফিরে ২০০৯ সালে আইবিএ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরে কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। বর্তমানে তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রসেস অপটিমাইজেশন, সার্কুলার ইকোনমি ও টেক্সটাইল রসায়ন।

আরও পড়ুন
গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ডিকার্বনাইজেশন ল্যাবের উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সামনের পথ

ডিকার্বনাইজেশনকে তিনি কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ হিসেবে দেখেন না। তাঁর মতে, সরকার, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, খুচরা বিক্রেতা, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থা ও কারখানা—সব পক্ষের অংশীদারত্ব ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সহযোগিতায় একাধিক কারখানায় নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি ডিজিটাল ডিকার্বনাইজেশন ডায়াগনস্টিক টুল তৈরির কাজও চলছে, যা দূর থেকেই কারখানার শক্তির অপচয়ের জায়গাগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশের পোশাকশিল্প আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন শুধু কম খরচে উৎপাদন করলেই হবে না, প্রমাণ করতে হবে যে উৎপাদনটি পরিবেশবান্ধবও। সেই চ্যালেঞ্জের উত্তর খুঁজছেন ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক। তাঁর গবেষণা দেখাচ্ছে, কার্বনমুক্ত ভবিষ্যতের পথ সব সময় বিশাল কোনো প্রযুক্তিগত বিপ্লব দিয়ে শুরু হয় না। কখনো কখনো শুরু হয় কাপড় রং করার একটি প্রক্রিয়া বদলে দেওয়ার মধ্য দিয়েই।

লেখক: সাংবাদিক

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় জুলাই সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন