কচ্ছপের খোলস আসলে হাড়

বিজ্ঞান ও প্রকৃতির রাজ্যে কত যে অদ্ভুত এবং বিস্ময়কর জিনিস লুকিয়ে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না! সেরকম ১০টি তথ্য নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। দেখুন তো, এখান থেকে কতগুলো তথ্য আপনি জানতেন।

১. বুলেটের ভয়ংকর গতি

২২৩ রেমিনংটন থেকে ফায়ার করা বুলেট সেকেন্ডে প্রায় ৪ হাজার ৩৯০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যায়! এই গতি শব্দের গতির চেয়েও প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। এই বুলেট যখন ছুটে যায়, তখন বাতাসের স্তর ভেদ করার কারণে এটি নিজেই ছোটখাটো একটি সনিক বুম তৈরি করে।

২. কচ্ছপের খোলস আসলে হাড়

কচ্ছপের খোলস কোনো সাধারণ বর্ম নয়, এটি প্রায় ৫০টি হাড়ের সমন্বয়ে তৈরি। কচ্ছপের মেরুদণ্ড এবং পাঁজরের হাড়গুলো লাখ লাখ বছরের পরিবর্তনের এই খোলস তৈরি করেছে। এর ওপর স্নায়ু রয়েছে। তাই কচ্ছপের খোলসে হাত বুলালে সে দিব্যি তা বুঝতে পারে!

কচ্ছপের মেরুদণ্ড এবং পাঁজরের হাড়গুলো লাখ লাখ বছরের পরিবর্তনের এই খোলস তৈরি করেছে
ছবি: চাথুরিকা পিয়ুমালি / বিউটি অব নেচার / ফেসবুক

৩. পিরামিডে কোনো মুভি-স্টাইলের ফাঁদ নেই

হলিউডের মুভিগুলোতে দেখা যায়, প্রাচীন মিসরীয় পিরামিডগুলোতে গুপ্তধন রক্ষায় অনেক ভয়ংকর মেকানিক্যাল ফাঁদ পাতা থাকে। আসলে এটি ডাহা মিথ্যা! মিসরীয়রা যান্ত্রিক ফাঁদের বদলে বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রাখত। এ ছাড়া তাদের প্রধান হাতিয়ার ছিল অভিশাপের ভয় দেখানো, যা মানসিকভাবে ডাকাতদের দূরে রাখার চেষ্টা করত।

আরও পড়ুন
কচ্ছপের খোলস কোনো সাধারণ বর্ম নয়, এটি প্রায় ৫০টি হাড়ের সমন্বয়ে তৈরি। কচ্ছপের মেরুদণ্ড এবং পাঁজরের হাড়গুলো লাখ লাখ বছরের পরিবর্তনের এই খোলস তৈরি করেছে। এর ওপর স্নায়ু রয়েছে।

৪. পানির নিচে দীর্ঘতম টানেল

ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সকে যুক্ত করা চ্যানেল টানেলের পানির নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ৩৭.৯ কিলোমিটার। এটি তৈরি করতে বিশাল আকৃতির টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সময় লেগেছিল ছয় বছর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই টানেল দিয়ে আটলান্টিকের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে।

৫. কলম্বাসের ভুল জিদ

ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকায় পৌঁছানোর পরও আজীবন দাবি করে গেছেন, তিনি এশিয়ার অংশ আবিষ্কার করেছেন! কলম্বাস ভেবেছিলেন পৃথিবীটা অনেক ছোট। তিনি ক্যারিবিয়ানের আদিবাসীদের ইন্ডিয়ান নাম দিয়েছিলেন। কারণ তিনি নিশ্চিত ছিলেন, তিনি ভারতের কাছাকাছি কোথাও পৌঁছেছেন। স্পেনের রাজদরবার থেকে তাঁর পাওনা টাকা বুঝে পেতেই তিনি এই দাবি ধরে রেখেছিলেন।

৬. জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের বিশাল আয়না

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রধান আয়নার ব্যাস ২১.৩ ফুট বা ৬.৫ মিটার। এই আয়নাটি ১৮টি ষড়ভুজ বা হেক্সাগোনাল টুকরো দিয়ে তৈরি।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের প্রধান আয়নার ব্যাস ২১.৩ ফুট!
ছবি: নাসা

প্রতিটি টুকরো বেরিলিয়াম ধাতু দিয়ে বানানো এবং এর ওপরে খাঁটি সোনার অত্যন্ত পাতলা একটি আস্তরণ দেওয়া হয়েছে। কারণ সোনা ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলো খুব ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে পারে।

আরও পড়ুন
ক্রিস্টোফার কলম্বাস ভেবেছিলেন পৃথিবীটা অনেক ছোট। তিনি ক্যারিবিয়ানের আদিবাসীদের ইন্ডিয়ান নাম দিয়েছিলেন। কারণ তিনি নিশ্চিত ছিলেন, তিনি ভারতের কাছাকাছি কোথাও পৌঁছেছেন।

৭. সৌরজগতের অসংখ্য চাঁদ

২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত আমাদের সৌরজগতে ৯৫৩টি প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই তালিকার শীর্ষে আছে শনি এবং বৃহস্পতি গ্রহ। অবাক করা ব্যাপার হলো, সৌরজগতের কিছু ছোট গ্রহাণু নিজস্ব ছোট ছোট চাঁদ আছে, যারা ওই গ্রহাণুকে কেন্দ্র করে ঘোরে!

মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্য ডার্ক ম্যাটার
ছবি: নাসা

৮. মহাবিশ্বের পরমাণুর সংখ্যা

আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বে প্রায় ১০৮০ পরমাণু রয়েছে! একে এডিংটন নম্বর বলা হয়। সংখ্যাটি কল্পনার চেয়ে বড় হলেও, মহাবিশ্বের বিশালত্বের তুলনায় এটি কিছুই না। মহাবিশ্বের প্রায় পুরোটাই ফাঁকা জায়গা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ফাঁকা জায়গা ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি দিয়ে পূর্ণ।

আরও পড়ুন
অবাক করা ব্যাপার হলো, সৌরজগতের কিছু ছোট গ্রহাণু নিজস্ব ছোট ছোট চাঁদ আছে, যারা ওই গ্রহাণুকে কেন্দ্র করে ঘোরে!

৯. কফিনে পচনের সময়কাল

মাটির নিচে একটি কফিনে থাকা মৃতদেহ পুরোপুরি কংকালে পরিণত হতে ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে। মৃতদেহকে ফরমালিন বা অন্য রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষণ করলে এই প্রক্রিয়া ধীর হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাটির অম্লত্ব এবং অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া মৃতদেহকে পুরোপুরি গলিয়ে ফেলে। এই ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচে।

আটলান্টিক মহাসাগর
ছবি: ব্রিটানিকা

১০. আটলান্টিকের মহাস্রোত

আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন হলো সমুদ্রের স্রোতের একটি বিশাল জাল, যা প্রতি সেকেন্ডে ১.২ পেটাওয়াট তাপ পরিবহন করে! এই তাপ এক মিলিয়ন পাওয়ার প্লান্টের সমান! এটি পৃথিবীর জলবায়ুকে স্থিতিশীল রাখে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উত্তর মেরুর বরফ গলে মিষ্টি পানি সমুদ্রে মিশে এই স্রোতের গতি ধীর করে দিচ্ছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।

লেখক: শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়, শশিকর, মাদারীপুর

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

আরও পড়ুন