চারদেয়ালের বন্দিদশায় এক অদ্ভুত থ্রিলার রহস্য

সাই-ফাই মিস্ট্রি থ্রিলার ব্রিকছবি: নেটফ্লিক্স

সাধারণ এক সকালে দরজা খুলে বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু দরজার নব ঘোরাতেই প্রবল ধাক্কা খেতে হলো। দরজা শুধু লক করা নয়, এর ওপাশে জমাট বেঁধে আছে এক অদ্ভুত, কালো ধাতব ইটের নিরেট দেয়াল। জানালায় উঁকি দিয়েও একই দৃশ্য। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। না আছে মোবাইল নেটওয়ার্ক, না আছে ইন্টারনেট, এমনকি কলের পানি পর্যন্ত উধাও! রাতারাতি পুরো অ্যাপার্টমেন্টটাকে কে যেন একটা অভেদ্য ক্যাপসুলে বন্দি করে ফেলেছে।

ঠিক এভাবেই এক দমবন্ধ করা দুঃস্বপ্নের জন্ম দেয় জার্মান পরিচালক ফিলিপ কোচের ২০২৫ সালের সাই-ফাই মিস্ট্রি থ্রিলার ব্রিক। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে টিম এবং তার স্ত্রী অলিভিয়াকে ঘিরে। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এমনিতেই একটা ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে নিজেদের ফ্ল্যাটে এই অদ্ভুত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ার পর তাদের বেঁচে থাকার লড়াই শুরু হয়। তারা যখন বুঝতে পারে দরজা-জানালা ভেঙে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, তখন তারা দেয়াল ফুটো করে পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করে।

ব্রিক মুভির দৃশ্যে ম্যাথিয়াস সোয়েঘোফার ও রুবি ও. ফি
ছবি: নেটফ্লিক্স

তৈরি হয় এক অদ্ভুত জোট। সবাই মিলে একটা প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে, কে এই দেয়াল তুলল? কেন তুলল? বাইরের পৃথিবীতে কি কোনো মহাবিপর্যয় ঘটে গেছে, নাকি তারা কোনো নিষ্ঠুর সামাজিক পরীক্ষার গিনিপিগ? সবগুলো প্রশ্নের উত্তর পাবেন মুভিটি দেখলে।

আরও পড়ুন
ব্রিক মুভির পোস্টার
ছবি: আইএমডিবি

একনজরে

মুভি: ব্রিক

পরিচালক: ফিলিপ কোচ

ধরন: সাই-ফাই, থ্রিলার, ড্রামা, মিস্ট্রি

প্রকাশকাল: ২০২৫

ব্যাপ্তি: ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট

আইএমডিবি রেটিং: ৫.৫

আরও পড়ুন

টিমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাথিয়াস সোয়েঘোফার। টিমের স্ত্রীর চরিত্রে রুবি ও. ফি। দুজনেই নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভয়, আতঙ্ক ও বেঁচে থাকার মরিয়া চেষ্টা তাদের শারীরিক ভাষায় বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। অন্যান্য চরিত্রে ফ্রেডেরিক লাউ বা সালবার লি উইলিয়ামসও নিজেদের জায়গায় ঠিকঠাক। তবে সমস্যা হলো, সিনেমার চিত্রনাট্য চরিত্রগুলোকে খুব বেশি গভীরে যাওয়ার সুযোগ দেয়নি। তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব বা ইমোশনাল দৃশ্যগুলো অনেক সময় বেশ সাধারণ এবং প্রেডিক্টেবল মনে হয়।

টিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাথিয়াস সোয়েঘোফার ও টিমের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুবি ও. ফি
ছবি: নেটফ্লিক্স

পরিচালক ফিলিপ কোচ সিনেমার শুরুটা করেছেন দারুণ মুন্সিয়ানায়। প্রথম আধা ঘণ্টায় ক্লাস্ট্রোফোবিক বা আবদ্ধ জায়গার যে আতঙ্ক, তা সরাসরি স্ক্রিন ভেদ করে দর্শকের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। হলিউডের বিখ্যাত কিউব ফ্র্যাঞ্চাইজি বা দ্য টোয়াইলাইট জোন-এর মতো একটা দারুণ ভাইব পাওয়া যায় এখানে। মুভির প্রোডাকশন ডিজাইনও বেশ ভালো; কালো ধাতব ইটের দেয়ালগুলো আসলেই একধরনের গা ছমছমে আবহ তৈরি করে।

আরও পড়ুন

কিন্তু মুভিটা যত এগোয়, এর দুর্বলতাগুলো তত স্পষ্ট হতে থাকে। একটি রহস্য গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ক্লাইম্যাক্স। ব্রিক মুভির ক্ষেত্রে রহস্যের জটগুলো যেভাবে খোলে, তা খুব একটা চমকে দেওয়ার মতো নয়। মাঝে মাঝে গল্প খেই হারিয়ে ফেলে এবং কিছু সংলাপ বেশ একঘেয়ে মনে হয়। এত দারুণ একটা আইডিয়া নিয়ে মুভিটা শেষ পর্যন্ত যেভাবে চূড়ায় পৌঁছানোর কথা ছিল, পরিচালক সেটা পুরোপুরি ধরে রাখতে পারেননি।

ব্রিক মুভির দৃশ্য
ছবি: নেটফ্লিক্স

সব মিলিয়ে ব্রিক অসাধারণ কোনো মাস্টারপিস নয়। একটি চমৎকার কনসেপ্ট থাকলেই যে মুভি দুর্দান্ত হয়ে যাবে, এমন কোনো কথাও নেই। সেটাই যেন এই মুভি প্রমাণ করেছে। কনসেপ্ট দূর্দান্ত হলেও চিত্রনাট্য তত মজবুত ছিল না। তবে আপনি যদি আবদ্ধ ঘরের সারভাইভাল থ্রিলার পছন্দ করেন এবং খুব বেশি প্রত্যাশা না নিয়ে দেখতে বসেন, তবে এটি আপনাকে একেবারে নিরাশ করবে না। রহস্যের সমাধান খুঁজতে খুঁজতে ছুটির দিনের অলস সন্ধ্যায় একবার দেখার মতো মুভি এটি।

আরও পড়ুন