গমনাগমন

বলা নেই কওয়া নেই, আমাদের রহনপুরে নামল হেলিকপ্টার। এ এক অখ্যাত জায়গা। একটা সাপের মতো নদী, নদীর পাশ দিয়ে টমেটোর খেত, খেতের ওপাশে আমবাগান, এ পাশে আধভাঙা বাজার। বাজারজুড়ে এলাকার সাদাসিধে মানুষের বসে বসে হাতি–ঘোড়া মারা।

এ রকম জায়গায় কেউ শসা ছিলতে বসলেও লোক জমা হয়ে দেখে, মাটি কোপালে পাশের গ্রাম থেকে ভিড় আসে, নদীতে কুমিরের আশঙ্কা হলে তিন দিন পর্যন্ত জমে থাকে জনতা—এমন সরল জায়গায় হেলিকপ্টার নেমে আসা নভোযান অবতরণের মতোই বেমক্কা এক ঘটনা। ফলে দশ গ্রাম ভেঙে পড়ল হাইস্কুল মাঠে। হেলিকপ্টার থেকে নেমে এল তিনটা সাদা মানুষ। আমরা ফিসফিসালাম, ‘আমেরিকান নাকি রে?’

এ প্রশ্নের উত্তর যে দেবে, তেমন বিচক্ষণ কেউ ছিল না আমাদের মধ্যে। তাই আমরাই আবার কৌতূহলী উত্তর দিলাম, আমেরিকানই!

তবে তিনজন সাদার সঙ্গে আমাদের মতো দেখতেও আছে একজন। এক মেয়ে। বয়স কত, সেটা অবশ্য বোঝা যায় না। প্যান্ট–শার্ট পরে থাকায় মুরব্বিরা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। মেয়েটাই এগিয়ে এল আমাদের দিকে। হাসল একটু। তারপর গলা উঁচিয়ে বলল, ‘কেমন আছেন আপনারা?’

রহিমুদ্দি চাচা সবার আগে বলে উঠল, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।’

হায় রে রহিমুদ্দি চাচা! বেচারার কালকেও টান উঠেছিল হাঁপানির। মাঝরাতে এখন–তখন অবস্থা। এখন নাকি ভালো থাকার অন্ত নেই তার।

ওদিকে জব্বার ভাইয়ের লিভার সিরোসিস। তারও দাঁত বেরিয়ে গেছে প্রশ্ন শুনে—ভালো আছি। ভালো আছি। ওনারা কি আম্রিকা?

মেয়েটা বলল, দুজন। একজন অস্ট্রেলিয়ান। তারা সবাই সায়েন্টিস্ট।

আরও পড়ুন
তবে তিনজন সাদার সঙ্গে আমাদের মতো দেখতেও আছে একজন। এক মেয়ে। বয়স কত, সেটা অবশ্য বোঝা যায় না। প্যান্ট–শার্ট পরে থাকায় মুরব্বিরা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ।

সায়েন্টিস্ট শব্দটা আগুনের মতো ছুটল রহনপুরে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষের মুখে সেটা সানটিস্টে রূপ নিল। সানটিস্ট মানে যে বিজ্ঞানী তা জানাশোনা হতেই বাতাস ভারী হয়ে গেল ভবিষ্যদ্বাণী!

‘রহনপুরে সানটিস্ট আসছে আম্রিকার...সোজা কথা নাকি? নিশ্চয় এখানকার মাটির নিচে ত্যাল পাওয়া গেছে। এবার রহনপুর ধনী হয়া যাবে। সৌদি হয়ে যাবে!’

‘ত্যাল না আর কিছু! ত্যাল থাকলে এতগুলা যে কুমা খোঁড়া হয়, সেইগুলা থেকে ত্যাল উঠত না? সানটিস্ট আসছে এই পুনর্ভবা নদীটার হিসাব–নিকাশ করতে। নদীটার ভিত্রে রাজা লক্ষ্মণ সেনের পুরানা প্রাসাদ আছে। হীরা–জহরতে ঠাসা বিরাট প্রাসাদ। সবকিছু চুরি করে নিয়া যাবে আম্রিকা। আগে বিটিশ নিছে, এখন আম্রিকা এইভাবে নেয়!’

‘আম্রিকার আর কাজ নাই, চুরি করতে আসবে রহনপুরে?’

‘যে চোর, সে সবখানেতেই চুরি করে। জানো না চোরের নেংটি লাভ?’

‘এহ! বিরাট একটা কথা বলে দিছে এবার! আম্রিকা আসছে আসলে অন্য কারণে...’

‘কী কারণে তাহলে বলো? তুমিই বলো।’

‘আম্রিকা এখানে কিছু একটা বানাতে আসছে। লাগবা বাজি?’

জল্পনাকল্পনা উঠল তুঙ্গে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছুটে এলেন। তার ভেতর ভীষণ অস্বস্তি। তাকে জানাতে লিপিকা, মানে ওই যে সায়েন্টিস্ট মেয়েটি, আগেই খবর দিয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেট ভেবেছিলেন, কেউ তার সঙ্গে প্রাঙ্ক করছে। দেশ–বিদেশের বিজ্ঞানী রহনপুরের মতো জায়গায় কেন আসবেন—এ প্রশ্ন ম্যাজিস্ট্রেটের ভেতর হলে তিনি ব্যাপারটাকে নিতান্তই ইয়ার্কি মনে করেছিলেন।

আরও পড়ুন
এদিকে আবু বকর কাশেম বলে আমরা কাউকে চিনলাম না। সায়েন্টিস্টরা অনেক বলার পরও যখন পরিচয় উদ্ধার করতে পারল না, তখন বেশ আগের একটা অস্পষ্ট ছবি বের করে দেখাল।

প্রশ্ন ছিল আসলে সবার ভেতরেই, কিন্তু উত্তর ছিল শুধু সায়েন্টিস্টদের কাছে। একটু থিতু হয়ে তারা জানাল, তারা এসেছে আবু বকর কাশেমের কাছে। তার সঙ্গে দেখা করতে, তার সঙ্গে কিসের নাকি আলাপ তাদের!

এদিকে আবু বকর কাশেম বলে আমরা কাউকে চিনলাম না। সায়েন্টিস্টরা অনেক বলার পরও যখন পরিচয় উদ্ধার করতে পারল না, তখন বেশ আগের একটা অস্পষ্ট ছবি বের করে দেখাল। খুব বেশি ঠাওর করতে পারলাম না আমরা কেউই। এমন কাউকে কখনো দেখেছি বলে মনেও হলো না। তখনই বিন্নির বাবা বিপিনবাবু আঁতকা চেঁচিয়ে বলল, ‘এইটা তো কাশেম মাস্টার! এইটা তো কাশেম মাস্টারের ছবি!’

তাই তো!

নামটা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সবারই মনে হলো, বিপিনবাবু ঠিকই বলেছে। এ ছবি কাশেম মাস্টারেরই। অনেক আগের ছবি অবশ্য। চেহারায় তখনো কিছু গোলগাল ভাব ছিল। এখন সেটা ভেঙেচুরে শুকিয়ে একেবারেই বস্তাধরা প্রাচীন কিশমিশ। রহিম চাচা বড় করে শ্বাস নিয়ে বলল, ‘হা, কাশেম মাস্টারের নাম আবু বকর কাশেম আছে সত্যিই। তবে কালের ধুলায় সেটা মুছে যাওয়ার মতোই হয়ে গেছে। এখন সে শুধুই কাশেম মাস্টার। আরও ভালোভাবে যে নামে সে পরিচিত, তা হলো পাগলা মাস্টার। কিন্তু এই পাগলা মাস্টারের সঙ্গে এই আম্রিকার সানটিস্টদের কাজ কী? তার চেয়ে গুরুতর প্রশ্ন, এই পাগলা মাস্টার আছে কোথায়?’

আরও পড়ুন
নামটা নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সবারই মনে হলো, বিপিনবাবু ঠিকই বলেছে। এ ছবি কাশেম মাস্টারেরই। অনেক আগের ছবি অবশ্য। চেহারায় তখনো কিছু গোলগাল ভাব ছিল।

২.

অতিথি আপ্যায়নে আমাদের সুনাম পুরোনো।

পুনর্ভবায় টানা জাল পড়ল। তাতে বোয়াল উঠল সাড়ে ১০ কেজির। সেটা রান্নার ব্যবস্থা হলো। সানটিস্টদের থাকার ব্যবস্থা হলো ম্যাজিস্ট্রেটের সরকারি বাসভবনে। জিয়াফতের রান্নাবান্না শুরু হলো। সন্ধ্যায় আস্ত ছাগলের বারবিকিউ পর্যন্ত বিধান হলো। কিন্তু পাগলা মাস্টারকে এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া গেল না!

পাগলা মাস্টার একদা ছিল এলাকার অত্যন্ত নামকরা শিক্ষক।

আমাদের বাপ–দাদাদের মুখে তার সুনামের অন্ত ছিল না। একেকটা অঙ্ক নাকি ২৫–৩০ রকম উপায়ে করতে পারত। স্কুলে পড়াতে যাওয়ার সময়ও করত বিড়বিড়। সবাই বুঝত, মাস্টার অঙ্ক করছে মাথার ভেতর। এ জন্য তাকে কেউ ঘাঁটাত না। তার সময়ে কলাগাছও নাকি অঙ্কে লেটার পেত।

শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ নামে বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার চালু ছিল সে সময়। পাগলা মাস্টার একটানা ১১ বার এ পুরস্কার পাওয়ার পর ঘোষণা দিয়েছিল, যেন এ পুরস্কার আর তাকে দেওয়া না হয়। সমস্যা হলো, ১২তম বারে গিয়ে কাউকে পুরস্কার দেওয়ার মতো না পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ পুরস্কারের রেওয়াজই বন্ধ করে দেয়। এ রকমই কোনো সময়ের ভেতর কাশেম মাস্টারের ভেতর দেখা দেয় পাগলামি।

কাশেম মাস্টারের স্ত্রী, পুত্র ও সংসার ছিল। তবে এসবে তার মনোযোগ কোনোকালেই ছিল না। এ নিয়ে কারও উচ্চবাচ্যও ছিল না অবশ্য। কাশেম মাস্টারের জ্ঞানকে, গণিতের পারদর্শিতাকে সবাই সমীহের চোখেই দেখত…এমন বিদ্বান মানুষ যে সংসারমুখী হবে না, তা সবার মধ্যেই ছিল প্রতিভাত। কিন্তু হঠাৎ কাশেম মাস্টারের মাথায় কী যে হলো, বাড়িতে আসাটাও বন্ধ করে দিল!

আরও পড়ুন
সবাই বুঝত, মাস্টার অঙ্ক করছে মাথার ভেতর। এ জন্য তাকে কেউ ঘাঁটাত না। তার সময়ে কলাগাছও নাকি অঙ্কে লেটার পেত। শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ নামে বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার চালু ছিল সে সময়।

প্রথম প্রথম কিছুদিন বাড়ির লোকেরা ভাবল, লোকটার নতুন কোনো খেয়াল হয়েছে। অন্যান্য খেয়ালের মতো এটাও কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

তবে তা হলো না।

প্রথমে সপ্তাহে কয়েক দিন, পরে দিনের পর দিন কাশেম মাস্টার কাটাতে থাকল বাইরে। স্ত্রী–পুত্র যখন অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল, তখন কাশেম মাস্টারের খোঁজে বেরোল। দেখা গেল, আলীনগর পেরিয়ে যেতে বিরাট ফজলি আমের বাগান, তারই শেষের দিকে অসম্ভব সরু এক সুড়ঙ্গ বানিয়ে বাস করছে কাশেম মাস্টার। ঠিক বাস করাও না এটা। বলা যায়, ক্রমেই সুড়ঙ্গ কেটে চলেছে। মাঝেমধ্যে বিশ্রাম, আর অনবরত সুড়ঙ্গ খনন।

কাশেম মাস্টারের নাম পাগলা মাস্টার হয়ে ওঠে এ রকম সময়েই।

স্ত্রী–পুত্র এরপর তাকে জোর করে বাড়ি ধরে নিয়ে আসে। ভালো করে গোসল করায়। চুল–দাড়ি কেটে দেয়। কয়েক দিন বেশ সুবোধ বালকের মতো দিন কাটে মাস্টারের। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই হঠাৎ আবার গায়েব হয়ে যায় কাশেম মাস্টার। আবার তাকে ধরে নিয়ে আসা হয় সুড়ঙ্গ থেকে। আবার গোসল, আবার দাড়ি–গোঁফ কাটানো, আবার সুবোধ বালকের ভান এবং আবারও পলায়ন।

ব্যাপারটা বারবার ঘটতে থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় কাশেম মাস্টারের পরিবার। কাশেম মাস্টারকে তারা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু করে।

আরও পড়ুন
প্রথমে সপ্তাহে কয়েক দিন, পরে দিনের পর দিন কাশেম মাস্টার কাটাতে থাকল বাইরে। স্ত্রী–পুত্র যখন অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল, তখন কাশেম মাস্টারের খোঁজে বেরোল।

প্রথম দিকে আমরা কাশেম মাস্টারকে দেখতে যেতাম। বাড়ির উঠানে লোহার শিকল দিয়ে মানুষটি বাঁধা আছে। চুল, দাড়ি ও নখ সবই বড়। চোখগুলো ভীষণ বড় বড়। মুখটা শুকিয়ে একেবারে আমচুর হয়ে গেছে যেন। এরই মধ্যে খাওয়াদাওয়া। বাথরুম লাগলে বাড়ির কেউ ধরে নিয়ে যায়। বাকিটা উঠান ধরে তার হিসাব–নিকাশ। হিসাব–নিকাশই বটে। দিস্তা দিস্তা সাদা পাতা চারদিকে। দিস্তা দিস্তা কাগজ ছড়ানো। আর সেসব কাগজে ছোট ছোট অক্ষরে হাজার হাজার অঙ্ক কষা। কিসের ভেতর যে কী, আমরা কেউ বুঝতে পারতাম না। শুধু আফসোস করতাম, আহা রে একটা ভালো লোক। অঙ্ক তাকে ক্যামনে পাগল বানায়া দিল?

এর পর থেকে রহনপুরে কেউ ভালো অঙ্ক কষতে পারলেই আমরা ভয় পেতাম। তাড়াতাড়ি বলতাম, দেখিস, পাগলা মাস্টার হয়ে যাস না!

তারপর একদিন আমরা সবাই মিলেই পাগলা মাস্টারকে ভুলে গেলাম। কারণ, মনে রাখার মতো, মেতে ওঠার মতো আরও অনেক আকর্ষণীয় ঘটনা নিত্যই আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকে। পৃথিবী তো এমনই এক চমকপ্রদ জায়গা!

এই এত দিন পর আবার যখন কাশেম মাস্টারের খোঁজ উঠল, আমরা তখন ছুটলাম তার বাড়িতে। শূন্য শিকল পড়ে আছে। বাড়ির মানুষ জানাল, মাস দুয়েক আগে বাথরুমে যাওয়ার নাম করে কাশেম মাস্টার আবার পালিয়েছে। নাহ্‌, পালিয়ে ওই সুড়ঙ্গেও যায়নি সে। কোথায় গেছে, কেউ জানে না।

আরও পড়ুন
তারপর একদিন আমরা সবাই মিলেই পাগলা মাস্টারকে ভুলে গেলাম। কারণ, মনে রাখার মতো, মেতে ওঠার মতো আরও অনেক আকর্ষণীয় ঘটনা নিত্যই আমাদের চারপাশে ঘটতে থাকে।

তবু আমরা সুড়ঙ্গে যাই। লিপিকা আমাদের সামনে। পথপ্রদর্শকই বলা যায়। বিদেশিগুলো টর্চ নিয়ে ঢুকে পড়ে সুড়ঙ্গের ভেতর। এগোতে থাকে নিশিতে পাওয়া মানুষের মতো। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি। অনেকক্ষণ পর আমরা কেমন একটা গুমোট শব্দ পাই ভেতর থেকে। নড়ে উঠি দ্রুত। কিছু কি ঘটল ভেতরে? উঁকি দিই—এর চেয়ে বেশি কিছু আমাদের করার ছিল না। এই মরার সুড়ঙ্গে ঢোকার ইচ্ছা বা কৌতূহল কোনোটিই নেই আমাদের। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সুড়ঙ্গের মধ্য থেকে বিদেশিরা বেরিয়ে আসে। বেরিয়ে আসে লিপিকাও। তার হাতে একটা ধুলামাটি জমা মলিন বই।

তাদের চেহারায় অদ্ভুত এক স্নিগ্ধ ভাব। মনে হয়, তারা যা চেয়েছিল, ঠিক যেন পেয়ে গেছে। আমরা বুঝে উঠতে পারি না, কী হয়েছে। আমাদের বোঝানোর কোনো অভিপ্রায়ও লিপিকাদের আছে বলে মনে হয় না। সে রাতে লিপিকা আমাদের জানায়, ‘আপনারা খুব ভাগ্যবান। পৃথিবীর ইতিহাসে আপনাদের এই রহনপুরের নাম উঠতে যাচ্ছে। উঠতে যাচ্ছে আপনাদের সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবান গণিতজ্ঞ ও বিজ্ঞানী আবু বকর কাশেমেরও নাম।’ ‘খুবই ভালো কথা, কিন্তু কেন?’ লিপিকারা কোনো উত্তর দেয় না। তারা ফেরার তাড়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন
আবু বকর কাশেম অঙ্ক কষে দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষ কীভাবে সময়ের সমাধান করতে পারে। কীভাবে অতীতে বা ভবিষ্যতে গমনাগমন করতে পারে। এ জন্য আবু বকর কাশেম একটি পুরো গ্রন্থ লিখেছে।

৩.

এরও প্রায় ১৭ মাস পর জার্মান এক জার্নালে আবু বকর কাশেমের ছবি ছাপা হয়। তার পাশে ছাপা হয় বেঞ্জামিন উইল বলে এক ব্রিটিশের ছবি। বেঞ্জামিন উইলের একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছেন বিজ্ঞানীরা। ডায়েরিটি লেখা হয় ১৮৩৪ সালে। সেই ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন এক বিজ্ঞানীর নাম। আর সেটি হলো আবু বকর কাশেম। আবু বকর কাশেম ভবিষ্যৎ থেকে আসা এক মানুষ। সে বেঞ্জামিনের সঙ্গে দেখা করেছে। এক সময় পার করেছে।

বিজ্ঞান, বিশেষত গণিত নিয়ে দুজন অনেক আলোচনা করেছে। আবু বকর কাশেম অঙ্ক কষে দেখিয়ে দিয়েছে, মানুষ কীভাবে সময়ের সমাধান করতে পারে। কীভাবে অতীতে বা ভবিষ্যতে গমনাগমন করতে পারে। এ জন্য আবু বকর কাশেম একটি পুরো গ্রন্থ লিখেছে। কী প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি সম্ভব, তা নিজে প্র্যাকটিক্যাল করে দেখিয়েও ফেলেছে। বেঞ্জামিন সেই গ্রন্থের কয়েকটি পাতার অনুলিপি নিজের ডায়েরিতে রেখেছিলেন। বাকি ডায়েরিটা এখনো আবু বকর কাশেমের কাছেই রয়েছে। সেই বই প্রকাশ হলেই মানুষের জন্য সুলভ হয়ে উঠবে সময়ের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়া। আবু বকর কাশেম সেই গ্রন্থের নাম দিয়েছে—গমনাগমন।

*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত

আরও পড়ুন